ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

তুরাগে ছুরিকাঘাতে হত্যা
প্রেমের ফাঁদে পড়ে জীবন গেল সাবিনার
এসএম মিন্টু
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 139

পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেছিলেন সাবিনা (৩০)। বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। স্বামী হাফিজুল ছিলেন একজন কৃষক। সে স্বামীর হঠাৎ মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ভেঙে যায় সংসার। সেই ঘরে এক ছেলে সন্তান রেখেই জীবনের তাগিদে ঢাকায় আসেন সাবিনা। 

তুরাগের তালতলা এসে একটি গামেন্টে চাকরি নেন। সেখানে স্বপন ওরফে মধু নামে এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর বিয়ে। বিয়ের দুই বছর না যেতেই আবারও সংসার ভাঙে সাবিনার। একে একে দুই সংসার ভেঙে যাওয়ায় অনেকটা বিমর্ষ হয়ে পড়ে সাবিনা। একপর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় এলাকার মফিজুল নামে এক রিকশাগ্যারেজ মালিকের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। 

মফিজুল সাবিনাকে বলেন, চার মাসের সন্তান রেখে তার স্ত্রী চলে গেছে। এরপর মফিজুলের বাসায় এক মহিলার কাছে আরবি পড়তে গিয়ে জানেন মফিজুল তার স্ত্রী নিয়ে সংসার করছেন। এরপর সাবিনা মফিজুলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিতে চাইলেও সম্পর্ক নষ্ট করতে পারেননি সাবিনা। এরপর সিদ্ধান্ত নেন মফিজুলকেই বিয়ে করবেন তিনি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কে বা কারা নিজ বাসার সামনেই সাবিনাকে ছুরিকাঘাত করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। প্রেমের ফাঁদে পড়ে সাবিনার জীবনাবসান ঘটে। কথাগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন নিহত সাবিনার সঙ্গে একই বাসায় থাকা আরেক গামেন্টকর্মী রোজিনা বেগম। 

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরই পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযুক্ত মফিজুল, তার স্ত্রী ও শ্যালকসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তবে পুলিশের উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মোর্শেদ আলম সময়ের আলোকে জানান, এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। 

নিহত সাবিনার সহকর্মী রোজিনা বলেন, সাবিনা জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল বাজার এলাকার হযরত আলীর মেয়ে। তিনি তালতলা নয়ানীর চালা এলাকার রশিদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। জামালপুর থেকে এসে হামীম গ্রুপের গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ওইদিন রাত ৯টার দিকে তিনি অফিস থেকে বের হন। ওই সময় আমাকে ফোন করে। সাড়ে ৯টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা থাকলেও বাড়ির কাছে তার লাশ পাওয়া গেল। খবর পেয়ে প্রত্যাশা ব্রিজের কাছে নিজের চায়ের দোকান থেকে ছুটে এসে নিহতের ভাই বোনের লাশ শনাক্ত করেন। 

তুরাগ থানার এসআই মোজাম্মেল হক বলেন, ছুরি বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাবিনার বুকে আঘাত করা হয়েছে। মৃতদেহের ডান পাশে একটি ছুরি পড়ে থাকলেও তাতে রক্তের আলামত পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, যে গলি দিয়ে সাবিনা বাসায় যেতেন সেখানেই আড়াআড়িভাবে পড়েছিল সাবিনার মৃতদেহ। মৃতদেহটি পরে থাকার অন্তত দেড় ঘণ্টা পর পাশের বাসার একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেখে সাবিনার নিথর দেহ পড়ে আছে রাস্তায়। এ সময় সাবিনার ভাই, ভাবি ও অন্যান্য স্বজনসহ আশপাশের মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

নিহত সাবিনার ভাই মাসুদ মিয়া জানান, অভিযুক্ত মফিজুলের গ্রামের বাড়ি তাদের বাড়ির কাছাকাছি। মফিজুলের সঙ্গে তার বোনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি জেনেছিলেন। তাদের সম্পর্ক জেনে ফেলায় মফিজুলের স্ত্রী ও তার শ্যালক গ্রামের বাড়ি গিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে গালাগাল করে আসে। 

তিনি বলেন, ঘটনা জানাজানির পর প্রায় তারা মোবাইলেও হুমকি দিতেন। একপর্যায়ে তার বোন মফিজুলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে না চাইলে মফিজুলও হুমকি দেয়। এলাকায় তার দুটি রিকশা গ্যারেজ রয়েছে। দুই গ্যারেজে অন্তত ২০টি রিকশা রয়েছে। মফিজুল বিভিন্ন নেশায় আসক্ত। পরিকল্পিতভাবেই তার বোনকে মফিজুল, তার স্ত্রী ও শ্যালক হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহত সাবিনার ভাই। 

তুরাগে অজ্ঞাতনামা তরুণীর লাশ 
অন্যদিকে তুরাগের দিয়াবাড়ির একটি ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা সেই তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। কে বা কারা ওই তরুণীকে হত্যা করেছে তা জানা নেই পুলিশের। ঘটনার তিন দিনেও কোনো স্বজনও ওই তরুণীর খোঁজে আসেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

শনিবার তুরাগ থানার ওসি মেহেদী হাসান সময়ের আলোকে বলেন, অজ্ঞাতনামা ওই তরুণীর ফিঙ্গার নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। শুনেছি তার পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে এখনও আমরা সেই তরুণীর নাম-পরিচয় জানি না।

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]