ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২ ৪ ভাদ্র ১৪২৯
ই-পেপার শুক্রবার ১৯ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ঢাকার নিম্ন আদালতে দালালদের দৌরাত্ম্য
মোহাম্মদ গাফফার হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ১১:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 291

ঢাকার অধস্তন আদালত অঙ্গনে একশ্রেণির টাউট-দালালের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত নাকাল হচ্ছে বিচারপ্রার্থীরা। ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে এসে আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে টাউট-দালালদের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয় অনেকে। তাদের কারণে পেশাগতভাবে হয়রানির শিকার হন আইনজীবীরাও। তবে ঢাকা আইনজীবী সমিতি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা টাউট-দালালদের উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। 

অনেক আইনজীবী অভিযোগ করে বলেন, বেশিরভাগ মাদক মামলায়ই দালাল-টাউটদের কারণে তাদের পেশাগত ঝামেলা পোহাতে হয়। ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় গ্রেফতার আসামিদের সিএমএম এবং সিজেএম আদালতে হাজির করার নিয়ম রয়েছে। আসামির আত্মীয়স্বজনরা আইনজীবী নিয়োগ করার আগেই টাউট-দালালরা মামলার নাম্বার সংগ্রহ করে আসামির নাম-ঠিকানা লিখে ওকালতনামা (মামলা পরিচালনার সম্মতিপত্র) স্বাক্ষরের জন্য পাঠায়। এ সময় অনেক আসামি কিছু না বুঝে সেই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করে দেয়। 

অন্যদিকে আসামির স্বজনদের নিয়োজিত আইনজীবীও ওকালতনামা স্বাক্ষরের জন্য গারদে পাঠান। সেখানেও আসামি স্বাক্ষর করে। এরপর আদালতে শুনানি করতে গেলে দেখা যায় আসামির স্বাক্ষরিত ভিন্ন ভিন্ন আইনজীবীর দুটি ওকালতনামা। তখন বিপাকে পড়েন বিচারক। এ কারণে মামলায় একাধিক ওকালতনামা থাকায় বিচারক জামিন বা রিমান্ড শুনানি করতে চান না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তা নিষ্পত্তি করার জন্য ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে পাঠিয়ে দেন। ফলে আসামিদের জামিন বা রিমান্ড শুনানি করতে অনেক সময় লেগে যায়। এ সময় আসামিরা অযথা কারাগারে বিনাবিচারে আটকে থাকে। তারা আরও জানান, মামলার অভিযোগ যত বড় হোক না কেন, দুয়েকদিনের মধ্যে জামিন করিয়ে দেওয়ার চুক্তিতে ও শতভাগ নিশ্চয়তার আশ্বাস দিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে ওকালতনামায় স্বাক্ষর রাখে দালালরা। এরপরই শুরু হয় আসল প্রতারণা। এক সময় বছর ঘুরে এলেও আসামির জামিন আর মেলে না। অনেক সময় আইনজীবী নামধারী টাউটদের সঙ্গে বিচারপ্রার্থীর স্বজনদের হাতাহাতির মতো ঘটনাও আদালত প্রাঙ্গণে দেখা গেছে। একশ্রেণির টাউট-দালাল কালো কোট-টাই পরে আইনজীবী সেজে আদালতপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে। 

ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ অনুযায়ী যেসব ধারায় সাধারণত মামলা হয়ে থাকে তাকে টাউট-দালালদের ভাষায় পাঁচআনির মামলা বলা হয়। এই আইনের যেকোনো ধারায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে সাধারণত আদালত ২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা কারাদণ্ড প্রদান করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আসামিরা অর্থদণ্ডের টাকাই পরিশোধ করে। অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ করার জন্য আসামির নামে ইস্যুকৃত বিচারকের স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট কাস্টডি সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু এতে দেখা যায় আসল অনিয়ম।

এই অর্থদণ্ডের টাকা নির্ধারণের সঙ্গে সঙ্গেই টাউট-দালাল চক্র অর্থদণ্ডের টাকা পরিশোধ করে আসামিদের কাস্টডি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। আর আসামির অপরাধের জন্য যদি ২০০ টাকা অর্থদণ্ড হয়ে থাকে তা হলে সেই দালাল সিন্ডিকেটকে সেই অর্থদণ্ডের চার থেকে পাঁচগুণ টাকা বেশি দিয়ে আসামিদের মুক্ত হতে হয়। 

সময়ের আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক হাজার টাউট-দালালের দখলে রয়েছে ঢাকার আদালতপাড়া। এরা আদালতের কর্মচারীদের মতো প্রতিদিন সকালে আদালতপাড়ায় আসে আর বিকালে যায়। তারা বিচারপ্রার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করে থাকে। এদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই। সাধারণ আইনজীবীদের কাছে থাকা মামলাও বিভিন্ন কৌশলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। আবার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিচারকের আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে মামলায় জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে থাকে এই টাউটরা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির টাউট-দালাল উচ্ছেদ কমিটির সদস্য সচিব একেএম সালাউদ্দিন জানান, বর্তমানে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদককে আহ্বায়ক করে সমিতির ২৩ সদস্যের টাউট-দালাল উচ্ছেদ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই কমিটি দায়িত্বভার গ্রহণের পর আমরা ঢাকার আদালতপাড়ায় প্রতিদিন টাউট-দালাল উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করে আসছি। অভিযান পরিচালনাকালে এখন পর্যন্ত আমরা কয়েকশ’ টাউট-দালালকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। আটকদের মধ্যে প্রায় চারজনকে প্রতারণার অভিযোগে নিয়মিত মামলা দিয়ে থানায় সোপর্দ করেছি। পাশাপাশি এক থেকে দুশ’ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। 

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার মো. হযরত আলী জানান, আদালতপাড়ায় টাউট-দালালদের নির্মূলের জন্য অভিযান পরিচালনা করতে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

/জেডও/




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]