ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

যেমন খুশি ফি আদায় চিকিৎসকদের, এই অরাজকতার নিরসন জরুরি
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ২:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 130

রোগীর কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ফি আদায় করছেন প্রাইভেট হাসপাতালে প্র্যাকটিস করা চিকিৎসকরা। সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় বাড়ছে স্বেচ্ছাচারিতা। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগী দেখার ফি বাবদ ১ হাজার টাকা বা তার বেশি নিচ্ছেন বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। নামিদামি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যারা বসেন তাদের ফি ২ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এতে করে বিপত্তিতে পড়েছে দেশের অসহায়, দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষরা।

দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠনের বিরোধিতার কারণে আটকে আছে চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস ফি নির্ধারণ নীতিমালা। রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সেই লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু সেই কমিটি গঠনের পর থেকে একটি মাত্র সভা করা ছাড়া নীতিমালা প্রণয়ন তো দূরের কথা আর কোনো অগ্রগতিই হয়নি। এদিকে চিকিৎসক সংগঠনগুলোর একাধিক নেতা বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও সরকার চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণ করে দেয় না। এ ছাড়া দেশে অন্য কোনো পেশায় কারও ফি যখন নির্ধারিত হয়নি তাহলে শুধু চিকিৎসকদের ফি কেন নির্ধারণ করা হবে?

‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন্স) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’-এর ৪ ধারায় সরকারি চাকরিজীবী চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টার বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ রাখা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক চিকিৎসকদের ফি নির্ধারণ করে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন।

চিকিৎসা একটি মহান পেশা। এ পেশায় যারা সরকারি চাকরিজীবী তাদের জন্য সরকারি দায়িত্ব শেষে প্রাইভেট চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য রোগী দেখার ফি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন ছিল। যেসব চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বসেন তাদেরও বিষয়টি আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। দেশে জনসংখ্যার চেয়ে চিকিৎসকের অপ্রতুলতা রয়েছে। এ কম সংখ্যক চিকিৎসক নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা করতে হবে।

দেশে এখন পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে আইন বা নীতিও নেই। নেই কোনো গাইডলাইনও। সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে এর আওতায় বিশেষ স্কিমের মাধ্যমে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বেশি নজর দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, চিকিৎসকরা যেহেতু অন্য যেকোনো পেশাজীবীর চেয়ে আলাদা বা সেবামূলক ব্রত নিয়ে এ পেশায় এসেছেন, তাই এ ক্ষেত্রে তাদের নিজেদেরই আরও সচেতন ও নীতি-আদর্শ মেনে চলা উচিত। দেশের সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে সরকার আন্তরিক। যারা চিকিৎসক তাদেরও আন্তরিক হতে হবে। এ ব্যাপারে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সিদ্ধান্ত আশা করে দেশের মানুষ। তাহলে রোগীর ফি নেওয়া নিয়ে যে অরাজকতা চলছে তা দ্রুত নিরসন হবে। 

/জেডও/




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]