ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

‘ওমিক্রন’ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি: স্বাস্থ্য অধিদফতর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭:৪৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 144

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণের হার দুই শতাংশের নিচে, এতে আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। কারণ ঘরের দরজাতেই ওমিক্রন কড়া নাড়ছে।
 
রোববার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে দেশের করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এই সতর্কতার কথা জানান।

তিনি বলেন, ওমিক্রন মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। তবে এক্ষেত্রে কমিউনিটিতে আমাদের সবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ জরুরি। আমরা যদি এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারি, পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সঠিক উপায়ে নাক-মুখ ঢেকে আমরা যদি মাস্ক পরি, একইসঙ্গে টিকা কার্যক্রমকে যদি আমরা আরো বেগবান করতে সহায়তা করি, তাহলে সেটি ওমিক্রন হোক বা অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্ট হোক সেটিকে আমরা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।

শুধু আফ্রিকান দেশগুলো থেকে যারা আসবে, তাদেরকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করতে হবে, বাকি দেশগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর কী ভাবছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল ইসলাম বলেন, আফ্রিকান দেশগুলোতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে বলেই তাদের জন্য বাড়তি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অন্য যেকোনো দেশেও যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়, তাহলে তাদের বেলায়ও আমরা একইরকম সিদ্ধান্ত নেব। কারণ হলো কমিউনিটি ট্রান্সমিশন আর ইমপরট্যান্ট কেইস কিন্তু এক নয়। আফ্রিকায় যেটি হয়েছে সেটি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন, আর ইউরোপে যেটি হয়েছে সেটি ইমপরট্যান্ট কেইস।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের দিকেও আমরা গভীর মনোযোগ রেখেছি। সেখানে যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন ঘটে, তাহলে বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জীবন-জীবন জীবিকাকে নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য এবং জনস্বার্থ রক্ষা করার জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার, তা নিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর কখনোই কুণ্ঠাবোধ করবে না।

নাজমুল ইসলাম বলেন, মাস্ক আমার সুরক্ষা সবার। আমরা সবাই যদি সুরক্ষিত থাকি, ওমিক্রনসহ যেকোনো বৃষ্টি আসুক না কেন, আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সেই সঙ্গে আমাদেরকে টিকা গ্রহণের কাজটিকে আরো বেশি গতিশীল করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদেরকে সুরকার দিকটিকে শতভাগ গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতা, উন্নয়ন সহযোগীসহ প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধের কাজটি আমরা করতে পারব বলেও জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, গোটা বিশ্বজুড়েই একটি সময়ের জন্য  করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই এই ভাইরাস মোকাবেলায় পৃথিবীর অনেক দেশই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
 
বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র বলেন, গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশে এক লাখ ২৭ হাজার ২৬১ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যা গত সাত দিনের চেয়ে ৩১টি বেশি। এছাড়া গত এক সপ্তাহে দেশে  শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬’শ ৪৬ জন রোগী । যা গত সাত দিনের চেয়ে ৬৭ জন কম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪০ শতাংশ কম। আর সামগ্রিকভাবে গত এক মাসে  রোগী শনাক্তের হারও ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। এছাড়া মৃত্যু ও শনাক্তের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। এই পরেই রয়েছে চট্রগ্রাম বিভাগ।
 
এ সময়  ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবাইকে দিনে ও রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

/আরএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  ওমিক্রন   স্বাস্থ্য অধিদফতর   ডা. নাজমুল ইসলাম  




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]