ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

অরক্ষিত রেলক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ, দুর্ঘটনা কমাতে চাই কার্যকর উদ্যোগ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:৫৯ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 132

নরসিংদীর রায়পুরার খানাবাড়ী এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন চালক আমান উল্লাহ। নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি খানাবাড়ী স্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি ক্রসিং অতিক্রমের সময় অটোরিকশাটি সামনে পড়ে। এতে অটোটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে চালক নিহত হন। ক্রসিংটি অরক্ষিত এবং এতে কোনো গেটম্যান ছিল না। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বনমালীপাড়া এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন চালক সোহেল খান। এ সময় গোপালগঞ্জের গোবড়া থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মারা যান চালক। রেলক্রসিংয়ের উভয়পাশে দোকান থাকায় এবং ক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান না থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

রেলওয়ের তথ্যমতে, সারা দেশে ২ হাজার ৮শর বেশি ক্রসিং থাকলেও ১৩শর বেশির কোনো অনুমোদন নেই। এর মধ্যে দেড় হাজারের মতো ক্রসিং বৈধ হলেও ৫শর বেশি ক্রসিংয়ে গেটম্যান নেই। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার রেলক্রসিং অরক্ষিত থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, অবৈধ ক্রসিংয়ের বেশিরভাগই তৈরি হয়েছে এলজিইডি, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার কারণে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সারা দেশে ট্রেনে কাটা পড়ে ও দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছে ৪১৭ জন। রেলওয়ের উন্নয়নে গত এক যুগে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও লেভেল ক্রসিংয়ের দুর্ঘটনা রোধে বড় অঙ্কের অর্থের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। ফলে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া লোক দিয়েই বছরের পর বছর চলছে ক্রসিং রক্ষণাবেক্ষণ। এতে একটি দুর্ঘটনার রেশ না কাটতেই ঘটছে আরও একটি দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশ দিলেও কোনোটিই যথাযথ আলোর মুখ দেখেনি।

এমন একটি বা দুটি নয়, সারা দেশের অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো এখন মৃত্যুফাঁদ। প্রতিনিয়ত এসব ক্রসিংয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটে চলেছে। গত কয়েক দশকে রাস্তাঘাট বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা। কিন্তু এসব ক্রসিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তার দায়িত্ব ও ব্যয়ভার বহন নিয়ে রেলওয়ের সঙ্গে বিভিন্ন দফতরের চলছে নানা দেনদরবার।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১৯৮৪ সালের পর থেকে রেলে স্থায়ী হিসেবে কোনো গেটম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে ১০০০ স্থায়ী গেটম্যান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে অস্থায়ী ভিত্তিতে ১ হাজার ৫৯০ জন গেটম্যান দায়িত্ব পালন করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক যোগাযোগের স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত ও অপরিকল্পিত রেলক্রসিং নির্মাণ এবং অধিকাংশ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকা বা থাকলেও তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের ভেতরে থাকা ক্রসিংগুলোর ওপর কিংবা নিচ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে দুর্ঘটনা এড়ানোর পাশাপাশি যানজটও কমে আসত। 

রেলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে; কিন্তু লেভেল ক্রসিংগুলোর উন্নয়নে যথাযথ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে না। যেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ ক্রসিং নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ নিতেও দেখা যায় না। 

বর্তমানে বাংলাদেশে রেলওয়ের সেবার মান বেড়েছে। অবকাঠামোগত উন্নতি হয়েছে। আধুনিকায়নের চিত্রও চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে রেল যোগাযোগ উন্নয়নে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা অব্যবস্থাপনার দায় এড়াতে পারে না। রেল দুর্ঘটনা প্রতিবছর অনেক মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। কিন্তু এত মানুষের মৃত্যুর দায় কে নেবে? আমরা মনে করি, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রাখবে। অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে গেটম্যানের ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া কর্তব্যে অবহেলায় যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে রেল দুর্ঘটনা বহুলাংশে হ্রাস পাবে। আমরা সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানটির জনকল্যাণকর ভূমিকা আশা করছি।




http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]