ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

৬ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
অযত্নে আতাইকুলা বধ্যভূমি
রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ১০:২৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 104

রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের আতাইকুলা পালপাড়া গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারী ঐতিহাসিক বধ্যভূমিটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এই বধ্যভূমিতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর পার হলেও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। 

আতাইকুলা পালপাড়ার বধ্যভূমিটি শহীদ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনোরকমে ইটের প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছেন মাত্র। কিন্তু এটি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে আগামীর প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাসকে চিরঞ্জীব করে রাখতে চান শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এ জন্য ৫২ জন শহীদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা। স্থানীয়রাও চান অতিদ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক বধ্যভূমি সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা।

১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল খুনি পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শী আতাইকুলা গ্রামের প্রদ্যুত চন্দ্র পাল বলেন, আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ছোট যমুনা নদী পার হয়ে আসে একদল খুনি পাকিস্তানি বাহিনী। মুক্তিযোদ্ধারা এই গ্রামে আছে বলে তারা সন্দেহ করে প্রথমে গ্রামটিকে ঘিরে ফেলে। এরপর প্রতিটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নারী-পুরুষদের ধরে ওই গ্রামের যোগেন্দ্রনাথ পালের বাড়ির আঙিনায় নিয়ে যায়। সেখানে পুরুষদের উঠানে সারিবদ্ধ করে বসিয়ে রাখে আর উঠানের পাশেই নারীদের একঘরে জড়ো করে। একের পর এক নারীদের ওপরে চালায় পাশবিক নির্যাতন। পরে সারিবদ্ধ পুরুষদের ওপরে চলে ব্রাশফায়ার। মুহূর্তের মধ্যেই ওই গ্রামের ৫২ জন শহীদ হন। পরে তারা বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাটসহ অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়। 

ওই নারকীয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রদ্যুত চন্দ্র পাল ভাগ্যগুণে অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান। আর ব্রাশফায়ারে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও কোনোরকমে বেঁচে যান নিখিল চন্দ্র পাল, সাধন পাল, গীরেন্দ্রনাথ পাল, নিধুবন চন্দ্র পাল, শ্রীমত পাল ও ওমর পালসহ ৮ জন। তবে ওই দিন বেঁচে যাওয়া আরেকজনের নাম সঠিকভাবে জানা যায়নি।

প্রদ্যুত পাল জানান, ওই দিন তার বাবা, কাকা, জ্যাঠা ও গ্রামের লোকজনের সঙ্গে তাকেও সারিবদ্ধ লাইনে দাঁড় করিয়ে খুনি পাকিস্তানি বাহিনী ব্রাশফায়ার চালায়। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারান ৫২ জন লোক। খুনি বাহিনী চলে যাওয়ার পর অক্ষত, রক্তাক্ত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লাশের মধ্য থেকে কোনোরকমে বেঁচে যান তিনিসহ ৮ জন।

সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন মনোয়ারা হক ১৯৯৭ সালে নিজ উদ্যোগে কিছু অনুদান দিয়ে কোনোরকমে ফলকে শহীদদের নাম লিপিবদ্ধ করার কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর সেখানে আর কোনো কাজ হয়নি। বধ্যভূমিটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়।

শহীদ গোবিন্দ চরণ পালের ছেলে গৌতম পাল বলেন, অনেক চেষ্টার পর ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ৫২ জন শহীদের আত্মদান স্মরণে বধ্যভূমি সংরক্ষণ, শহীদদের নাম সরকারি গেজেট অন্তর্ভুক্তি, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ ও শহীদদের অসহায় পরিবারকে মূল্যায়ন এবং আর্থিক সাহায্য প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের সমস্যার কারণে এখন পর্যন্ত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আমরা ইতোমধ্যেই ৮ শতাংশ জমি বধ্যভূমিতে দান করেছি। আশা রাখি দ্রুতই বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আর আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করা হবে।

এ বিষয়ে রানীনগর ইউএনও সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জমি অধিগ্রহণ করার জন্য বলা হয়েছে। আশা করি, দ্রুত বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  আতাইকুলা   বধ্যভূমি   




http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]