ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

মোটরসাইকেল চালকদের অযথা হয়রানি বন্ধ হোক
মো. সায়েদ আফ্রিদি
প্রকাশ: বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ৩:২৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 105

ব্যস্ততম নগরী ঢাকা। প্রতিদিন যুক্ত হচ্ছে হাজার হাজার নতুন, পুরনো যানবাহন। পাঠাও অ্যাপস আসার পরে নতুনভাবে রাজধানীতে যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল। আগেও ছিল তবে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে অ্যাপস আসার পরে। সবকিছুই একটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে চলাচল করবে এবং সুনির্দিষ্ট আইনকানুন থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তার ব্যতিক্রম নয় মোটরসাইকেল। কিন্তু ইদানীং যেটা দেখা যাচ্ছে- বাইক চালকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কারণে অকারণে এবং ইচ্ছেমতো হাজার হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। 

এখানে যে বিষয়টা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে পুলিশকে টাকা দিলে মামলা দিচ্ছে না কিন্তু টাকা না দিলে হাজার টাকার মামলা ঝুলিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে একজন চালক নিজে রাগে, ক্ষোভে নিজের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে। এটা কিন্তু চালকদের সামগ্রিক চিত্র। কেননা কেউই এমন অসহনীয় হামলা মামলার বাহিরে নয়। রাজধানীতে মামলা দেওয়ার একটা প্রতিযোগিতা চলে। এমনটাও শোনা গেছে, প্রতি মাসে একটা কমিটমেন্ট থাকে যে এত টাকা উঠাতে হবে শুধু মামলা দিয়েই। 

আবার এমনটা শোনা যায়- যে কর্তব্যরত ব্যক্তি মামলা দেয় তারও একটা নির্দিষ্ট কমিশন থাকে। এখন কথা হচ্ছে এভাবে যদি সিস্টেম চলমান থাকে তাহলে কি রাস্তায় প্রকৃত সমস্যা সমাধান হবে? দায়িত্বরত পুলিশ যদি মামলা দিয়ে কমিশন পায় তবে অযথা মামলা দেওয়া থামবে কোনো দিন? ঠুনকো অপরাধেও একজন দায়িত্বশীল যদি এভাবে জিম্মি করে মামলা দেয় সেক্ষেত্রে একজন চালকের অবস্থাটা কী হয়? রাস্তাঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধির এটাও একটা উল্লেখযোগ্য কারণ। কেননা রাইডার হিসেবে বিভিন্ন বয়সের লোক এখানে যুক্ত। অনেকের সম্পূর্ণ খরচ তথা পরিবার নিয়ে দুমুঠো ভাত এটার মাধ্যমেই মুখে দিতে হয়। 

অনেকে আছে শিক্ষার্থী বা ক্ষুদ্র চাকরিজীবী। যখন রাস্তায় নেমে দেখে আয় থেকে ব্যয় বেশি শুধু মামলার পর মামলা এবং রাস্তায় বিভিন্ন চাঁদা দিতে হয় প্রতিনিয়ত তখন মন-মানসিকতা ঠিক থাকবে না- এটা খুবই স্বাভাবিক। আবার দেখা যাচ্ছে যত চেকিং, যত অপরাধ, যত মামলা অধিকাংশ মোটরসাইকেল এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেন্দ্রিক। অথচ প্রাইভেট কার এবং বাস বছরের পর বছর লাইসেন্স ছাড়া রাস্তায় চলে আর প্রতিনিয়ত মানুষ মারে। কিন্তু সেদিকে খুব তদারকি চোখে পড়ে না সাধারণ মানুষের। যেমনটা বাসের ওভারটেকিং এদেশে পুরনো উদাহরণ। কিন্তু এটা নিয়ে কখনও মামলা দেওয়া হয় না। অথচ এসব ওভারটেকিংয়ের জন্যই বছরে হাজারো পথচারীর মৃত্যু হয়। রাস্তায় নিয়মশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে, নিরাপদ সড়ক বির্নিমাণে সঠিকভাবে, সৎভাবে দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। 

প্রতিটি গাড়িকে চেকসহ সবকিছু দেখতে হবে। শুধুই মোটরসাইকেল সিএনজিকে এলোপাতাড়ি মামলা দিলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। সুতরাং এটা নিয়ে এখনই ভাবতে হবে। ভুলত্রুটি নিয়ম বাতিল করে জনগণের উপযোগী নিয়মকানুন করতে হবে। যে আইনের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে সড়কের একটা পরিবর্তন হবে, নিরাপদ হবে সেদিকে নজর দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহনের জরিমানার বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। ইচ্ছেমতো এলোপাতাড়ি জরিমানা, মামলা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবেই সড়কে কিছুটা পরিবর্তন হবে। সড়কে মোটরসাইকেল চালকদের হয়রানি বন্ধ হোক এটাই কামনা করছি। 

-শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ




http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]