ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিনের মৃত্যু বাস আটকাতে গিয়ে: র‌্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:৪৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 268

রাজধানীর রামপুরায় সড়কে নিহত শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন রাস্তা পারাপারের সময় মারা যায়নি। তার ভগ্নিপতির সঙ্গে অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চালক ও সহকারীর ঝগড়ার জেরে ওই বাসটি আটকাতে গিয়ে সেটির নিচে চাপা পড়ে ওই শিক্ষার্থী। এর সুযোগ নিয়ে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে একের পর এক বাসে আগুন ধরায়। ওই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর রামপুরা ও কুমিল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তারা হলো- অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ঘটনার অন্যতম হোতা মনির হোসেন (৫৪), মো. হৃদয় হাসান পারভেজ (১৯), মো. আলাউদ্দিন সিফাত (২৫) ও মো. নাঈম হাসান মীর (২৪)।

বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গত ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসচাপায় নিহত মাইনুদ্দিনের ভগ্নিপতি সাদ্দাম ও তার বন্ধুর সঙ্গে অনাবিল বাসে ওঠা নিয়ে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে গাজীপুরে। এরপর সাদ্দাম ও তার বন্ধু অন্য একটি বাসে গাজীপুর থেকে রামপুরার উদ্দেশে রওনা দেন। তারা তাদের নিকটাত্মীয় ও বন্ধুদের রামপুরা এলাকায় বাসটি আটক করে চালক ও সহকারীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য জড়ো হতে বলেন। চালক ও সহকারী সম্ভাব্য হামলা আঁচ করতে পেরে বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে রামপুরা ত্যাগ করতে চায়। এরপর ৪০০ থেকে ৫০০ মিটার অতিক্রম করতেই সাদ্দাম ও তার শ্যালক বাসটি পলাশবাগে থামানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে মাইনুদ্দিন বাসে জোরপূর্বক উঠতে গেলে বাসের হেলপার তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে চাপা দেয় চালক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মাইনুদ্দিনের।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বাসচাপায় ওই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবরে উত্তেজিত হয়ে পড়ে এলাকাবাসী। অন্তত ১২টি বাসে আগুন দেয় ক্ষুব্ধ জনতা। এ ছাড়া অন্তত ৪০টি বাস ভাঙচুর করে। তাদের দাবি, ছেলেটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর বাসটি যদি পালাতে না চাইত, তাহলে ছেলেটি বেঁচে যেত। বাসটি প্রথমে ধাক্কা দিয়ে ছেলেটিকে ফেলে দেয়।

তখনও ভালো ছিল; কিন্তু পালাতে গিয়ে তার ওপর দিয়েই বাস নিয়ে চলে যায় চালক। এতে চাকার নিচে পড়ে পিষ্ট হয়ে যায় সে। এই ঘটনার সুযোগ নেয় মনির ও তার সহযোগীরা। ঘটনাকে ব্যবহার করে তারা রামপুরার বিটিভি ভবন এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা ও অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি নেয়।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করে অরাজকতা তৈরির অপচেষ্টা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের চলমান ‘হাফ ভাড়া’র আন্দোলনকে উসকে দিতে অপপ্রচার চালানো হয়। গ্রেফতার মনির নাশকতা সংঘটনের জন্য আলাউদ্দিন ও নাঈমসহ আরও ৪-৫ জনকে নির্দেশ দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আলাউদ্দিন, হৃদয়সহ আরও ৩-৪ জনকে বোতলে ভর্তি অকটেন সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতার নাঈম অগ্নিসংযোগকারী দল, সন্ত্রাসী ও হামলাকারী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে। চক্রের বিশ্বস্ত ১৫ থেকে ২০ জনকে অগ্নিসংযোগ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গ্রেফতাররা সুপরিকল্পিতভাবে গাজীপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরায় ঘটতে যাওয়া সম্ভাব্য ঘটনাকে ব্যবহার করে নাশকতার পরিকল্পনা করে। মূলত এই চক্রটি চলমান শিক্ষার্থীদের জন্য ‘হাফ ভাড়া’ ইস্যু অপব্যবহারের উদ্দেশ্যে নাশকতার জন্য প্রস্তুত ছিল। ঘটনার পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সহিংসতার পেছনের কারণ উদঘাটন কার্যক্রম শুরু করে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত, বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণে ও তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্তদের শনাক্ত করতে সক্ষম হন গোয়েন্দারা। পরে র‌্যাব ও এনএসআই যৌথ অভিযান পরিচালনা তাদের গ্রেফতার করে।

র‌্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেফতার সংঘবদ্ধ নাশকতা দলের অন্যতম হোতা মনিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ নাশকতার সাতটি মামলা রয়েছে। সে একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের একজন এজেন্ট। গ্রেফতার আলাউদ্দিন তার নিজ গ্যারেজসহ আরও কয়েকটি স্থানে বোতলভর্তি অকটেন মজুদ রাখে ও সরবরাহ করে।

হৃদয় বাসে অগ্নিসংযোগ করে ও নাঈম বিভিন্ন গ্রুপের ভেতরে সমন্বয় করে। রাষ্ট্রবিরোধী এই ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসাজশে রামপুরার সিন্ডিকেটটি সুযোগসন্ধানী অপতৎপরতা চালিয়ে ধ্বংসাত্মক ও জানমালের ক্ষতিসাধন, নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে।

এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার অন্যতম হোতা মনির হোসেন একটি রাজনৈতিক দলের ওয়ার্ড সভাপতি। মূলত তারই নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ফায়দা নেওয়া।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন   র‌্যাব  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com