ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সাফে আনন্দ-বেদনা, ঘরোয়ায় সার্কাস
রাজু আহাম্মেদ
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 212

‘মরা এ গাঙে আর ঢেউ উঠবার নয়’- বাংলাদেশের ফুটবল এখন মরা ওই গাঙের মতোই! অস্থিরতা আর হাহাকারের পলি-বালুতে দিনকে দিন যেন পূর্ণ হয়ে উঠছে। ব্যর্থতার পিঠে ব্যর্থতার গল্প লিখেই চলেছে জাতীয় দল। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাই, নেপালে তিন জাতির আসর, শ্রীলঙ্কায় রাজাপক্ষে টুর্নামেন্ট- কোথাও আলোর রেখা ফোটেনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আরও একবার মুখ থুবড়ে পড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ছেলেদের এমন লাগাতার ব্যর্থতায় যখন হতাশার ঝুলি পূর্ণ, তখন সাফল্যের হাসিতে একমুঠো স্বস্তি নিয়ে হাজির মেয়েরা। ভারতকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। 

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্য অবশ্য নতুন নয়। ধারাবাহিকভাবে মেয়েরা সাফল্য পাচ্ছে গোলাম রব্বানী ছোটনের কোচিংয়ে। স্থানীয় এই কোচকে নিয়েও সাফের আগে চরম অপেশাদারি মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এটাও অবশ্য নতুন নয়। বাফুফের অপেশাদারি আচরণ বছরজুড়েই দেখা গেছে। জামাল-জীবনদের দীর্ঘদিনের কোচ জেমি ডে’কে জোরপূর্বক ছুটিতে পাঠিয়ে সাফে বসুন্ধরা কিংসের অস্কার ব্রুজনকে খণ্ডকালীন দায়িত্ব দেওয়া, শ্রীলঙ্কায় আমন্ত্রণমূলক রাজাপক্ষে টুর্নামেন্টে আবাহনীর মারিও লেমোসকে দিয়ে কাজ চালানো, ঘোষণা দিয়েও বারবার খেলা পেছানো- এমন অনেক অপেশাদারি কাণ্ডই ঘটিয়েছে বাফুফে। ভাবমূর্তি ফেরাতে বছরের শেষভাগে এই সংস্থাটিই আবার কঠোর অবস্থানে, তাতে একের পর এক সার্কাসের দেখা মিলছে ঘরোয়া ফুটবলে।

বিদায় নিতে যাওয়া বছরটাতেও করোনা বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল। তবে গত বছরের মতো এ বছরে ঘরবন্দি থাকেনি বাংলাদেশের ফুটবল। রেকর্ড ১৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন জামালরা। এর মধ্যে হার দেখতে হয়েছে ৮টিতেই। ৫টি ড্রয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মোটে ৩ জয়। যার প্রথমটি নেপালের মাটিতে, কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে। ওই জয়েই তিন জাতির সিরিজের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ, ২০০৩ সালে সাফ জয়ের পর প্রথম শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা জাগায়। কিন্তু ফাইনালে স্বাগতিকদের কাছে ২-১ গোলের হারে স্বপ্নভঙ্গ। অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সাফেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে, ভারতের সঙ্গে ড্র করে ১৬ বছর পর সাফের ফাইনালে নাম লেখানোর আশায় ছিল বাংলাদেশ। আশা পূরণে শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে প্রয়োজন ছিল জয়, কিন্তু ১০ জনে পরিণত হওয়া দল শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল হজম করায় ১-১ গোলে ড্র হয় ম্যাচ, চোখের জলে নেয়ে আগের চার আসরের মতো এবারও গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ।

বছরের শেষ বেলায়ও একই অভিজ্ঞতা। শ্রীলঙ্কার আমন্ত্রণে রাজাপক্ষে টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে ১৮ বছর পর মালদ্বীপকে হারানোর স্বাদ নেয় বাংলাদেশ। চার জাতির ওই আসরে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র করলেই ফাইনাল খেলতে পারত জামালরা, কিন্তু স্বাগতিকদের কাছে ওই ম্যাচ ২-১ গোলে হেরে বসে তারা। ফলে একরাশ হতাশা নিয়েই ঘরে ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সরাসরি এশিয়ান কাপের বাছাই খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও জুনে কিরগিজস্তান থেকে বিশ্বকাপ বাছাই খেলে ফেরা ফুটবলারদের মুখেও ছিল না স্বস্তির ছাপ। জাতীয় দলের আদলে গড়া অনূর্ধ্ব-২৩ দল তো কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি এবার। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ বাছাইয়ে তিনটি ম্যাচই হারে মারুফুল হকের শিষ্যরা। সবমিলে হতাশাই বাড়ছিল কেবল। এমতাবস্থায় স্বস্তির হাওয়া বইয়ে দেয় মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ঘরের মাঠে ভারতকে হারিয়ে সাফে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় মারিয়া মান্ডারা। তবে তাদের ওই অর্জনও আড়াল করতে পারেনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের ব্যর্থতা।

আনন্দ-বেদনার মিশেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জামাল-তপু-তহুরা-সাবিনাদের যেমন সরব উপস্থিতি ছিল, তেমনটি ঘরোয়াতেও ব্যস্ত সময় কেটেছে তাদের। এজন্য প্রশংসা প্রাপ্য বাফুফের। কিন্তু মাঠে খেলা রাখতে গিয়ে দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি জন্ম দিয়েছে নানান বিতর্কের। প্রিমিয়ার লিগ শেষ করতেই ৯ মাস লাগিয়েছে তারা। করোনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লিগ শুরুর সিদ্ধান্ত, আবার করোনার কারণেই তা স্থগিত করা- রীতিমতো হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে বাফুফে। আগের দিন সূচি ঘোষণা করে খেলা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে তা স্থগিত করা- এককথায় সার্কাস চলেছে লিগে। একাধিকবার এমনটা ঘটায় ত্যক্ত-বিরক্ত ফুটবলার, কোচ এবং ক্লাব কর্তাদের ভাষ্য ছিল এমন- অপেশাদার বাফুফের কর্মকাণ্ড নিয়ে এখন কথা বলতেও লজ্জা করে!
২০১৯-২০ মৌসুম মাঝপথে বাতিল হওয়ায় নতুন মৌসুমের দলবদল নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। ক্লাব আর খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছে বাফুফে ঘোষণা করে- আগেরবার যে ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল ফুটবলাররা, এবার তারা সেই ক্লাবের হয়েই খেলবে। বিনিময়ে আগের মৌসুমে চুক্তির পুরো টাকার সঙ্গে ৩৫ ভাগ বাড়তি পারিশ্রমিক পাবে। এরপর শুরু হয় ক্লাবগুলোর লড়াই, তাতে দাপট ছিল বসুন্ধরা কিংসের (মেয়েদের প্রিমিয়ার লিগেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্লাবটি)। ফেডারেশন কাপ জিতে বছর শুরু করা দলটি রেকর্ড ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। লিগে আবার পাতানো ম্যাচের কলঙ্কও লেগেছে এ বছর। কয়েকটি ম্যাচে অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বড় শাস্তির মুখে পড়ে আরামবাগ আর ব্রাদার্স ইউনিয়ন।

বছরের শেষলগ্নে শাস্তি পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আর উত্তর বারিধারাও। এ বছরই শুরু হওয়া নতুন মৌসুমের দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট ফেডারেশন কাপের সূচি ঘোষণার পরও খেলায় অংশ না নেওয়ায় ওই তিন ক্লাবকে সমান ৫ লাখ টাকা জরিমানা আর আগামী আসরে নিষিদ্ধ করেছে বাফুফে। সংস্কার কাজের জন্য বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ব্যবহার করতে পারছে না বাফুফে। মৌসুমসূচক স্বাধীনতা কাপ তাই হয়েছে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। বসুন্ধরা কিংসের আধিপত্য খর্ব করে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ওই আসরের শিরোপা ঘরে তোলার পরই ফেডারেশন কাপ শুরুর তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু কমলাপুরের টার্ফে খেলবে না বলে বেকে বসে কিংস, বারিধারা আর মুক্তিযোদ্ধা। ফলে ক্লাব-বাফুফে দ্বন্দ্বের ডঙ্কা বাজছে ঘরোয়া ফুটবলে, চলছে একের পর এক সার্কাস। চলমান ফেডারেশন কাপ শেষে নতুন বছরই শুরু হতে যাওয়া লিগে এই দ্বন্দ্ব আরও কত যে সার্কাস দেখাবে, তা ফুটবল ঈশ্বরই জানে!

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ  




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com