ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

‘উন্নয়নের সমৃদ্ধির সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সমৃদ্ধি ঘটাতে হবে’
সময়ের আলো অনলাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 240

উন্নয়ন-সমৃদ্ধির সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্নয়ন না হলে তা টেকসই হবে না। সাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি দেশের উন্নয়নের বাধার সৃষ্টি করবে। ‘মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।  

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে প্রগতিশীল কলামিস্ট  ফোরাম-এর উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি এম নজরুল ইসলাম, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন , মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষতা বাংলাদেশ যেখানে বৈষম্য থাকবেনা। আজীবন বঙ্গবন্ধু ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা বলেছেন এবং সেই জায়গাটিতে আমরা কোন অবস্থানে দাড়িয়ে আছি , সেই কথাটি মূল্যায়ন করা দরকার। এই সমৃদ্ধি কতটুকু আমাদের জীবনের মানকে বৃদ্ধি করেছে।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি বৈষম্যহীন সমাজ শোষণহীন সমাজ। ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সমাজ।এই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা ছিল সেই জায়গ্য়া আমরা পৌছাইছি কিনা সেটা একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয়।  একটি ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আমরা জাতির পিতাকে হারিয়েছি। এরপরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়নকে ধ্বংস করার জন্য এখনো কাজ করে চলেছে। আমাদের এখন ভাস্কর্য প্রকল্প বন্ধ তার মানে আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে নিজেদের সমর্পন করছি। আমাদের জীবন যাপন বদলে যাচ্ছে তাদের কথা অনুযায়ী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কাছে আমরা আত্মসমর্পন করছি।

তিনি আরো বলেন, এই জায়গায়টাতে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আমরা সমৃদ্ধির পথে যাবো কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সঙ্গে নিয়ে। আমরা কখনো এই বিষয়ে কম্প্রোমাইজ করবো না। কম্প্রোমাইজ করতে গিয়ে যদি নিজেই বিলীন হয়ে যাই তাহলে সেই কম্প্রোমাইজের দরকার নাই। 

শ্যামল দত্ত আরো বলেন, পচাত্তরের পরে যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি চর্চা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এটা হয়ে যাচ্ছে। মুক্তি সংগ্রামের চেতনা ধারণকারী আওয়ামীলীগের নেতাদের দেখলে মনে হয় তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে না। তারাও তাদের প্রতি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা বিলীন হয়ে যাচ্ছি। নির্বাচিত আওয়ামীলীগের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে হেরে যাচ্ছে। এটা অনেক বড় লজ্জার। আমরা তাদের কাছে সমর্পিত হচ্ছি। এটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের চেতনার সমৃদ্ধি খুব জরুরি। বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমাদের উন্নয়নের গত দুই দশকে যে আবির্ভাব বিশ্ব অবাক হয়ে যায়। ডেমোগ্রাফিক ডিফিডেন্ট, আরএমজি সেক্টর এবং ম্যাক্রো ইকোনোমিক সেক্টরের কারণে আমরা এগিয়ে চলেছি। এর পেছনে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা।  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পাশে থেকে কাজ করছেন শেখ ওয়াজেদ জয়। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের মানবিক গুনাবলি সম্পন্ন মানুষ প্রয়োজন। আমরা অনেকদুর এগিয়েছি। আজ বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেল। বিরোধী শক্তি বারবার আমাদের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সকলকে নিদের অবস্থান থেকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে পারবো। 

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আলু, মাছসহ সব সেক্টরে আমরা উন্নয়ন করে চলেছি। আমাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কৃষিতে ব্যাপক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতির উন্নয়নের ধারাও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিভাজন ঘটেছে এবং মৌলবাদ ও উগ্রবাদ আগের চেয়ে বেড়ে চলেছে। এই সমস্যা দেশকে উন্নত হতে ব্যাহত করবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ থেকে যদি আমরা সরে যাই তাহলে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত করা সম্ভব হবে না।

/এমএইচ/




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com