ই-পেপার মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪
মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪

মধ্যরাতে বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২:৪১ পিএম  (ভিজিট : ১০২৪৬)
বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট দুর্ঘটনার শিকার হলে স্বল্প সময়ে অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধারকাজ ও জরুরি সেবা নিশ্চিতে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হয়ে গেল মহড়া।

বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে এই মহড়ার আয়োজন করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে আগুন লাগলে কীভাবে তা মোকাবিলা করা হবে, সেজন্য প্রতি দুই বছর পরপর মহড়ার বিধান করেছে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অথরিটি। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত এ ধরনের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।

মহড়ার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশে একটি ডামি উড়োজাহাজ রাখা হয়। এরপর সেই ডামি উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১টা ১৭ মিনিটে ‘এবিসি এয়ারলাইন্সের’ একটি উড়োজাহাজে আগুন লাগার খবর দেয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার। চার মিনিট পর রাত ১টা ২১ মিনিটে বিমানবন্দরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নেভাতে উপস্থিত হয়।

একই সঙ্গে বিমান বাহিনীর ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও ঘটনাস্থলে আসে। সেই সময় বিমান বাহিনীর একটি অস্ত্রধারী দল উড়োজাহাজটি ঘিরে রাখে। স্বাস্থ্য বিভাগের অ্যাম্বুলেন্স আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। গুরুতর আহদের দ্রুত হাসপাতালে নিতে ঘটনাস্থলে আসে বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার। এরপর নিহত যাত্রীদের মরদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। সবশেষ রাত ১টা ৪৩ মিনিটে মহড়া সম্পন্ন হয়।

মহড়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, আনসার, স্বাস্থ্য বিভাগ, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, বিমানসহ বিভিন্ন সংস্থা অংশগ্রহণ করে।

অগ্নিনির্বাপণ মহড়া অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার সনদ প্রাপ্তির লক্ষ্যে এই মহড়াটি আয়োজন করা হলেও এর অভিজ্ঞতা সকলের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। সত্যিকার দুর্ঘটনার সময় তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বিমানবন্দরে কর্মরত সকল সংস্থার কর্মীদের যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও মোকাবিলা করার জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সাথে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের আপোস করা চলবে না। নিরাপত্তা বিঘ্নকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিমান দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের থেকে অনেক উন্নত ও আধুনিক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরের মাধ্যমেই দেশের সিংহভাগ মানুষ ভ্রমণ করেন। যাত্রীসেবার উন্নয়নে শাহজালালে তৃতীয় টার্মিনালের কাজ চলমান আছে, যা আমাদের সামনে দৃশ্যমান। নান্দনিক সৌন্দর্যের তৃতীয় টার্মিনালে অবকাঠামোগত সকল সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দেশি-বিদেশি যাত্রীগণ এই টার্মিনালের মাধ্যমে ভ্রমণকালে পাবেন আন্তর্জাতিক মানের সেবা।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (রক্ষণাবেক্ষণ) এয়ার ভাইস মার্শাল সাদে উদ্দিন আহমেদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল, বেবিচকের  সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর সাদিকুর রহমান চৌধুরী প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ


আরও সংবাদ   বিষয়:  অগ্নিনির্বাপণ   




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close