ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নামেই গ্রামপুলিশ: সঙ্গতিপূর্ণ বেতন নির্ধারণ করা জরুরি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২২, ১:০০ পিএম আপডেট: ১৪.০১.২০২২ ১:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 41

গ্রামপুলিশের সঙ্গে গ্রামের মানুষ বিশেষভাবে পরিচিত। কেননা তারা গ্রামের মানুষকে নানারকম সেবা দেন। গ্রামে নিরাপত্তা দেওয়া, বিচার-আচার, এমনকি আসামি ধরিয়ে দিতে হলেও অনেক সময় তাদের ডাক পড়ে। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন হাজিরা, রাতের ডিউটি, পুলিশের যেকোনো কাজে সহায়তা, বাল্যবিয়ে রোধ, স্কুলের নিরাপত্তা, নির্বাচনি কাজে সহায়তা ও শিশুর জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সব কাজ করেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা। করোনাকালেও গ্রামপুলিশের সদস্যরা বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন। এ সময়ে একেকটি গ্রামের দায়িত্বে রয়েছেন গ্রামপুলিশ সদস্যরা। 

করোনায় আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা, বাইরে থেকে কোনো মানুষ গ্রামে প্রবেশ করলে তাদের বাড়ির সামনে লাল পতাকা দেওয়া এবং ১৪ দিনের আগে যাতে বাড়ি থেকে বের না হয় সেদিকে নজর রাখা। এ ছাড়া হাটবাজারের নিরাপত্তা দেওয়া থেকে শুরু করে সব কাজেই অবদান রাখছেন তারা। বলতে গেলে অনেক সময় রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয় তাদের। অথচ তারা যা বেতন পান তা দিয়ে দুবেলা খাওয়া, সন্তানদের ভালো স্কুলে লেখাপড়া করানো কিংবা সংসারের সাধারণ চাহিদাগুলোও পূরণ করতে পারেন না। 

গতকাল সময়ের আলোয় ‘নামেই গ্রামপুলিশ’ শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে গ্রামপুলিশদের যাপিত জীবনের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে তা বড়ই বেদনাদায়ক। বান্দরবানের রূপসীপাড়া ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ মো. মোফাজ্জেল হোসেন জানিয়েছেন, দিনরাত সীমাহীন পরিশ্রমের বিনিময়ে তিনি যে বেতন পান তাতে কিছুই হয় না। তার বড় ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৫ পেয়েছে; কিন্তু টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি করাতে পারেননি। আরেক ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে, পরীক্ষার ফি দিতে না পারায় তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার এক গ্রামপুলিশ জানিয়েছেন, সরকার-প্রদত্ত বেতনে সংসার চলে না বলে দিন শেষে তিনি মুচির (জুতা সেলাই) কাজ করেন। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মো. ফোরকান শিকদার জানান, তিনি ১১ বছরের মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করালেও টাকার অভাবে তার স্কুলড্রেস বানাতে পারেননি। যে বেতন পান তা দিয়ে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালানো অসম্ভব। শুধু মোফাজ্জেল ও ফোরকান শিকদার নন, সারা দেশে গ্রাম পর্যায়ে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ৪৭ হাজার গ্রামপুলিশের জীবন-সংসারের গল্প প্রায় একই রকম। 

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেক গ্রামপুলিশ সদস্য বেতন-ভাতা হিসেবে দুই খাত থেকে মোট সাড়ে ৬ হাজার টাকা পান। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৫০ টাকা সরকারি রাজস্ব থেকে এবং বাকি ৩ হাজার ২৫০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক সময় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঠিকমতো ভাতা দেওয়া হয় না। দিনরাত পরিশ্রম করার পরও প্রাপ্য সামান্য বেতন না পাওয়ার চেয়ে বঞ্চনা একজন মানুষের জীবনে আর কী-ই বা হতে পারে!

আমরা মনে করি, অন্যান্য বাহিনীর মতো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রামপুলিশকে যোগ্য ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আরও বেশি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবেন। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটবে। গ্রামীণ সমাজ আরও স্থিতিশীল হবে। এক্ষেত্রে গ্রামপুলিশের জীবনমানের উন্নয়নে বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি অন্যান্য বাহিনীর মতো রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ঝুঁকি ভাতা ও চিকিৎসা ভাতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। কেননা তারা গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত। তাদেরই যদি অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটে, তা হলে সবসময় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, এ কথা বলাই বাহুল্য।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]