ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নারায়ণগঞ্জের ভোট, সব কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ থেকে
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১২:৩৭ এএম আপডেট: ১৫.০১.২০২২ ১২:৫৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 139

রাত পোহালেই কাল ভোট। প্রচারণার শেষ দিন। সকালটা কুয়াশাচ্ছন্ন হওয়ায় লোকজনের উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে। তবে গতকাল দুপুরের দিকে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। দিনভর আকাশটা গুমোট থাকলেও দুপুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনি আবহটা উৎসবমুখর। তবে এবারের উৎসবের নির্বাচনে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আগমনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের শঙ্কাও প্রকাশ করছেন প্রার্থীরা।

এসব কারণে খোদ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাও বলছেন, ১৯২টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সহিংসতা ঘটলে বড় দুই প্রার্থীই ঘটাবেন বলে মনে করেন তিনি। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনি এলাকায় সরেজমিনে সাধারণ ভোটার, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও ভোটাররা পড়েছেন দোটানায়। কেউ কেউ বলছেন, শামীম ওসমানের অনুসারীরা এবার স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আবার অনেকেই ভাবছেন, আইভী ছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি অচল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদের পাড়ে চায়ের দোকানে বসে কথা হয় হাবিবুর রহমান নামে এক তরুণের সঙ্গে। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অতীতে কোনো সহিংসতা দেখা যায়নি। তবে এবারের নির্বাচনের চিত্র একটু ভিন্ন রকম মনে হচ্ছে। মনে হয় এবার সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। 
তিনি বলেন, দুপক্ষই জোরালোভাবে মাঠে নেমেছে। শুধু তাই নয় কালো টাকারও ছড়াছড়ি আছে। গতকাল বিকালে আইভীর প্রচারণা শেষে শহরে সারিবদ্ধভাবে গাড়িবহরে প্রবেশ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত, বিজিবি ও র্যাবের টহল টিম। এ সময় সব ধরনের দোকানপাট ও ফুটপাথ ধীরে ধীরে বন্ধ করতে দেখা যায়। শুক্রবার সকালে নৌকার মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও আইভীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী তৈমূর আলম বলেছেন, নির্বাচনে সহিংতার কথা। বহিরাগত অস্ত্রধারীরা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে পারে- এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা। প্রতিটি কেন্দ্রকেই ঝুঁকি মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন ছিল শুক্রবার। প্রচারণার শেষ দিনে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি ভালো। সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার জন্য কাজ করছি। শুক্রবার প্রচারণার শেষ দিন হওয়ায় আজ শনিবার ভোটের মালামাল কেন্দ্রে চলে যাবে। ভোটগ্রহণে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। আশা করি, এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নারায়ণগঞ্জবাসী, প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে। বহিরাগতদের উপস্থিতি রয়েছে এমন অভিযোগ করেছেন হাতী মার্কার প্রার্থী তৈমূর আলম। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আছেন, তাদের ভাষ্যমতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বহিরাগতদের এখানে এসে থাকার সুযোগ নেই। বরং বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা থাকছেন বিভিন্ন রেস্ট হাউস ও সার্কিট হাউসে।

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ১৯২টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেই ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে কিছু জায়গায় বিশেষ ও অতিরিক্ত ফোর্স চাওয়া হয়েছে। কমিশন সেটা বিবেচনা করছেন। অনুমোদন দিলেই তারা চলে আসবেন।

২৭টি ওয়ার্ডের জন্য সমপরিমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। এ ছাড়া পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স ২৭টি যেখানে একজন সহকারী পরিদর্শকের নেতৃত্বে পাঁচজন পুলিশ সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া চারজন নারী ও আটজন পুরুষ আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পাশাপাশি পুরো সিটি করপোরেশন এলাকাজুড়ে ৬৪টি মোবাইল টিম থাকবে। নির্বাচন চলাকালে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকার নিরাপত্তায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রাখা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ৬ প্লাটুন বিজিবি চাওয়া হয়েছে, তবে এখনও পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া র্যাবের টহল টিম সাতটি ও চেকপোস্ট থাকবে ছয়টি। বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় র্যাবের দুটি বিশেষ ট্যাটিক টিম থাকবে।

প্রধান দুই প্রার্থী সহিংসতার আশঙ্কা করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহিংসতা ঘটলে তো বড় দুই প্রার্থীই ঘটাবেন। তারা যদি আচরণবিধি ও আইনি বিষয়গুলো মেনে চলেন, নির্বাচন কমিশনের বিষয়গুলো যদি মেনে চলেন তাহলে তো আর সহিংসতার ঘটনার আশঙ্কা থাকে না। আমি সব প্রার্থীর প্রতি অনুরোধ করব- নিজের কাজে সচেতন হবেন, আইনের প্রতি সহনশীল হবেন।

প্রার্থীদের সহিংসতার আশঙ্কায় ভোটাররা কেন্দ্রমুখী হবেন কিনা জানতে চাইলে এ নির্বাচন কর্মকর্তা বলেন, ভোটারদের মাঝে ইভিএম প্রচারণায় আমরা সাড়া পেয়েছি। বৃহস্পতিবার মক ভোটিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে অনেক মানুষের উপস্থিতি ছিল। আশা করি যে, ভোট দানের নিশ্চয়তা তারা পাচ্ছে। আশা করি ভোটাররা কেন্দ্রে আসবেন। অতীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে কোনো সহিংসতা ঘটেনি। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ইউপি নির্বাচন হয়েছিল- যা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। ভোটাররা তাদের সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ভোট দিতে আসবেন। এটাতে আমরা আশাহত হব না। দেখা যাক আগামী দিন কী হয়।

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড শেষ পর্যন্ত থাকবে কিনা জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, লেভের প্লেয়িং শুরু থেকে ছিল। এখনও আছে। ভোটের দিন পর্যন্ত এমন অবস্থাই বজায় থাকবে।

ইভিএম এ কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম দিকে একটু সমস্যা হয়েছিল। বেশ কিছু ত্রুটি ছিল। কিন্তু এখন সে সমস্যা নেই। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে এখন বুঝে গেছেন। বিষয়টা এখন সহজ পদ্ধতি হিসেবে ইভিএমকে উল্লেখ করছেন ভোটাররা। পাশাপাশি আমাদের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা অনেকটা দক্ষ হয়ে উঠেছেন ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে। আশা করি, এখন সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব। ভোটের পরে দ্রুত সময়ে আমরা ভোটগণনা করে ফল ঘোষণা করতে পারব। বলা যায়, সবার সহযোগিতায় আমরা একটি সুষ্ঠু ও আইনানুগ ভোটগ্রহণ করতে পারব।

৩০টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে : শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। শুক্রবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এসপি জায়েদুল আলম বলেন, নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। এখানে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ১৮৯ জন প্রার্থী সবাই বলেছেন নির্বাচনি পরিবেশ ভালো। তারা সবাই আশাবাদী, সুষ্ঠু পরিবেশে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

কতটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে জানতে চাইতে তিনি বলেন, ১৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। যা হলো- অতি গুরুত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র। সিটি করপোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে চারটি থানা এলাকা থেকে যে তথ্য এ পর্যন্ত পেয়েছি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ৩০টি চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের সব কেন্দ্রকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের বিশেষায়িত যেসব ব্যাটেলিয়ন আছে তারাও মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে বিজিবির টিম মোতায়েন থাকবে।

প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে ৭ জন মেয়রপ্রার্থী আছেন এ ছাড়া কাউন্সিল পদের প্রার্থীসহ ১৮৯ জন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তবে আমি শুধু একজন প্রার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। বাকি ১৮৮ জন প্রার্থীর কোনো অভিযোগ নেই। একজন মেয়রপ্রার্থী গ্রেফতারের অভিযোগ করেছেন। আমি আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, কোনো প্রার্থীর নেতাকর্মী বা সমর্থকদের গ্রেফতার বা কোনো ধরনের হয়রানি করা হয়নি। আমরা শুধু রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছি। যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত এবং যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে শুধু তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে অথবা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যদি কোনো প্রার্থী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ করে থাকেন তাহলে আমি বলবÑ সেটা তাদের নিজস্ব বিষয় বা রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। আর কোনো প্রার্থী যদি গ্রেফতার হয়েছেন এমন নেতাকর্মীর তালিকা দেন আমরা তখন যাচাই-বাছাই করে দেখব। তখন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দেব।

নির্বাচনের আমেজ পরিবেশ বজায় থাকবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটবে না বলে আশা ব্যক্ত করে জেলার পুলিশ প্রধান বলেন, নির্বাচনে সবার সহযোগিতা আশা করি। নির্বাচনে প্রার্থী, ভোটার ও সাধারণ মানুষের সবার কাছ থেকে একটি শান্তিপূর্ণ ভোট প্রত্যাশা করি।

নির্বাচন উপলক্ষে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান তিনি। তবে নিয়মিত কার্যক্রমে অনেকেই গ্রেফতার হচ্ছে কিন্তু তাদের কোনো তালিকা নেই।





সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]