ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২ ১৪ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার শনিবার ২৯ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

হাতি নিয়ে কথকতা
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ১০:৪১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 106

ভারতে একটি চলচ্চিত্রের নাম ‘হাতি মেরা সাথী’। পরে বাংলাদেশেও ‘হাতি আমার সাথী’ নামে আরও একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছিল। ঢাকার বুকে মাঝেমধ্যে হাতির দেখা মেলে। তাও সেই হাতি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে চাঁদা তোলা হয়। এই হাতি এখন সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো- প্রতিবছর ধান পাকার মৌসুমে শেরপুর ও জামালপুরে হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে এই দুটি জেলার গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে মেঘালয় রাজ্য থেকে আসা হাতির আনাগোনা বেড়ে যায়।

কেন বেড়ে যায়? এ প্রশ্ন আসতেই পারে। তবে বন অধিদফতরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গেছে, ভারতীয় সীমানায় ও পাহাড়ের বনে খাদ্য ও পানির সঙ্কট হলেই হাতিরা নেমে আসে লোকালয় ও ধানের জমিতে। এ কথা সত্যি, পৃথিবীতে স্থলভাগের সবচেয়ে বড় প্রাণী হলো হাতি। সামাজিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই স্তন্যপায়ী প্রাণীটি বনের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের নিয়ামক। জানা গেছে, বিশ্বের ১৩টি দেশে এখনও এশীয় হাতি টিকে আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। 

শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ব্যাপক এলাকায় পাতাঝরা ও চিরসবুজ বনে হাতি বিচরণ করে আসছে। সে অনেক আগের কথা। কলাগাছ পেলে তো কথাই নেই। সবুজের বাসিন্দা হয়ে হাতি দেখা যায় আরও কয়েকটি জেলায়। এর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। কোথাও কোথাও হাতি চিরসবুজ বনাঞ্চলে নিজেদের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। 

বেশ কিছুদিন আগে হাতি বনাম এলাকাবাসীর সঙ্গে একটি বিরোধ সম্পর্ক বিরাজ করছিল। মূল কারণ ফসল খাওয়া। হাতি যেমন ফসল খেয়েছে। তেমনি এলাকাবাসী হাতি পিটিয়ে মেরেছে। দুপক্ষের এই টানাপড়েন সমাধান করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

বন অধিদফতর মনে করে, এলাকাবাসী হাতির আবাসস্থল ধ্বংস করে বসতি স্থাপন করেছে। হাতিসমৃদ্ধ বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে রাস্তাঘাট তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, রেলপথ, সড়কপথ নির্মাণ করেছে। হাতির প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণে হাতি এখন অস্তিত্বের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। 

আশার কথা, হাতি সংরক্ষণে সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বন অধিদফতর। অধিদফতর মনে করছে, দেশব্যাপী হাতি হত্যা বন্ধ করতে এ ধরনের কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে জানা গেছে, হাতি শুধু হত্যা বন্ধ নয়, বিদ্যমান হাতি সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, পার্বত্য জেলাগুলোতে এই কমিটি কাজ করবে। বিভাগীয় কমিশনার এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করবেন। ২২ সদস্যের এই কমিটির কাজ হবে মোট ৫টি। এর মধ্যে রয়েছে- বিদ্যমান হাতি সংরক্ষণে নেওয়া কার্যক্রম তদারকি করবেন, হাতির মৃত্যুরোধ করতে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। এ ছাড়াও হাতির বিচরণ এলাকা, আবাসস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কাজ তদারকি করবেন।

গত বছরের ২৯ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে এর আগের বৈঠকের সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সংসদ সদস্য বেগম খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বলেন, সম্প্রতি অনেকগুলো হাতি মারা গেছে। অবৈধ দখলদারের মাধ্যমে হাতির করিডোর জবরদখল হয়ে যাওয়ায় হাতি লোকালয়ে চলে আসে। হাতি মানুষের ক্ষেতের ধান ও গোলার ধানও খেয়ে ফেলছে। ফলে মানুষ হাতি মেরে ফেলছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাতিকে সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

জানা গেছে, সংসদীয় কমিটির সভায় প্রধান বন সংরক্ষক হাতির ব্যাপারে কমিটিকে অবহিত করেন। আর যা জানিয়েছেন তা হলো- সাম্প্রতিক সময়ে ৭টিসহ ২০২১ সালে মোট ১১টি হাতি মারা গেছে। এই হাতিগুলোকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে বেশ কয়েকটি অন্য কারণেও মারা গেছে। সভাপতি হিসেবে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ‘শুধু বাঘ আর হাতি নয়, সব বিপন্ন প্রাণী হত্যা শাস্তিযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে আইনে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শাহাবউদ্দিন বলেছেন, এর আগে এত হাতি মারা যায়নি। এটা বন্ধ করা প্রয়োজন। বন বিভাগ থেকে ৪টি পেট্রোল টিম গঠন করে জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বেশ কয়েকটি জেলা পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে এলাকাবাসীদের নিয়ে সভা করেছেন।

এদিকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ গত ১৩ ডিসেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। যার কপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ মন্ত্রণালয় ছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠিয়েছেন। চিঠির মূল বিষয় গারো পাহাড়কে কেন্দ্র করে শেরপুরে হাতির অভয়ারণ্য সৃষ্টি করা। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার সীমান্তঘেঁষা সবুজ-শ্যামল বন, খরস্রোতা পাহাড়ি নদী আর গারো পাহাড়ের সুষমা সৌর্ন্দযমণ্ডিত, মনোরমা শোভামণ্ডিত জেলা শেরপুর।

তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, এদেশে ভ্রাম্যমাণ হাতিদের বিচরণ, অবস্থান, সংখ্যা বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ ১০৭টি হাতির আনাগোনা বিভিন্ন বনে দেখা যায়। এর মধ্যে ময়মনসিংহ বন বিভাগের অধীনে সর্বোচ্চ ৫৮টি হাতির বিচরণ। সব হাতিই ভ্রাম্যমাণ। গারো পাহাড়কে কেন্দ্র করে এদেশে যত হাতি রয়েছে তার বেশিরভাগই মেঘালয় রাজ্যের। যেখানে ৮৭৮টি হাতি বসবাস করে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাতিদের আক্রমণে নিহত, আহত ও ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকার আইন তৈরি করেছে। এরপরও দুর্বৃত্তদের অপকর্মের মাধ্যমে হাতিদের নিধন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে অভয়ারণ্য সৃষ্টি হতে পারে অন্যতম অবলম্বন। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তৈরির মাধ্যমে একটি বড় ধরনের হাতির অভয়ারণ্য সৃষ্টির মাধ্যমে এটি করতে পারলে একদিকে যেমন পর্যটন বিকাশ হবে, অন্যদিকে সৌন্দর্য বাড়বে। এর জন্য বন বিভাগের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে তিনি করেন।

সাংবাদিক 


আরও সংবাদ   বিষয়:  হাতি মেরা সাথী   হাতি  




http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]