ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ক্লিনিক মালিকসহ আটক ৩
আয়া দিয়ে প্রসূতির সিজার, নবজাতকের কপালে ৯ সেলাই
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৮:১৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 87

ফরিদপুরে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে আয়া দিয়ে প্রসূতির সিজারের ঘটনা ঘটেছে। সিজারের সময় ওই নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নবজাতককে এবং প্রসূতিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নবজাতকের কপালে ৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। 

অভিজ্ঞ ডাক্তার না দিয়ে আয়ার মাধ্যমে অপারেশন করার কারণে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পরে অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক মালিক, আয়াসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) ভোরে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মইজুদ্দিন মাদবরপাড়ার বাসিন্দা সফিক খান তার স্ত্রী রুপা বেগমকে (২৯) নিয়ে সিজার অপারেশনের জন্য ফরিদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। সেখানে আসার পর স্থানীয় এক দালাল ভুল বুঝিয়ে তাদের নিয়ে যায় পাশের আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে। সকাল ৮টার দিকে সিজারের জন্য ভর্তি করা হয় প্রসূতি রুপা বেগমকে। সকাল সাড়ে ৮টার সময় প্রসূতিকে সিজার করে হাসপাতালটির আয়া চায়না রহমানসহ আরও দুজন আয়া। সিজারের সময় কাঁচির ধারালো আঘাতে নবজাতকের কপাল ও চোখের একটি অংশ কেটে যায়। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয় নবজাতকের। তার কপালে ৯টি সেলাই দেওয়া হয়। 

বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনরা পুলিশকে খবর দিলে ক্লিনিকের মালিক পলাশ মোল্যা ও অপারেশনের সঙ্গে জড়িত চায়না রহমানসহ তিনজনকে আটক করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আয়া ও হাসপাতালে থাকা সবাই কৌশলে সটকে পড়ে। ঘটনার পর আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে উপস্থিত হন সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকারসহ পুলিশের একটি দল।

আহত নবজাতকের ফুপু হোসনে আরা বেগম জানান, আমরা বারবার বলার পরও হাসপাতালের আয়াকে দিয়ে সিজার অপারেশন করানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি। নবজাতকের বাবা সফিক খান অভিযোগ করে বলেন, দালালরা তাকে ভুল বুঝিয়ে এবং অনেকটা জোর করেই এ হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালে যারা রয়েছে তারা জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে। তারা আমার সন্তানের যে ক্ষতি করেছে তার সব চিকিৎসার ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিতে হবে। এ ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য হাসপাতাল ও দালালদের শাস্তি চাই।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। যারা এ ধরনের অন্যায় কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তা ছাড়া আল-মদিনা হাসপাতালে ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ১৫ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) আ. গাফ্ফার জানান, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া খান পলাশ ও আয়া চায়না রহমানকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  আয়া   প্রসূতি   সিজার   নবজাতক   




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]