ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২ ১০ মাঘ ১৪২৮
ই-পেপার সোমবার ২৪ জানুয়ারি ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে ভেজাল গুড়ের রমরমা ব্যবসা!
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২, ৮:৪৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 68

সাভার থানার মাত্র কয়েকশ গজের ভেতরেই দিনের পর দিন চলে আসছে ভেজাল গুড় তৈরির রমরমা কারবার। সাভারের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম নামা বাজারে তুরাগ নদী ঘেষা কয়েকটি টিন সেট ঘরের ভেতরে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড়। চিনি চিটাগুড়, গোখাদ্য, রঙ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়ে এসব কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে আখ ও খেজুর গুড়। বাস্তবে এসব গুড়ে নেই আখ কিংবা খেজুর রসের ছিটেফোটাও। ভেজাল গুড় তৈরি এই নাম কারখানার নাম রূপা এন্টারপ্রাইজ। 

এই কারখানায় দিনের আলোয় উৎপাদন না হলেও রাতের বেলায় ধুম পড়ে ভেজাল গুড় উৎপাদনের। রাত যত বাড়ে পাল্লা দিয়ে ব্যস্ততাও বাড়ে ভেজাল গুড় তৈরির। সরেজমিনে সাভার নামাবাজার এলাকার রূপা এন্টারপ্রাইজে দেখা যায়, সারি সারি সাজানো আটার বস্তা। রয়েছে গোখাদ্য, চিটাগুড়, কাপড়ের বিষাক্ত রঙ, ও আঠা। এসবের সংমিশ্রণে তারা নির্দ্বিধায় তৈরি করছেন গুড়। সাভার মডেল থানার মাত্র কয়েক গজের  ভেতরেই দীর্ঘদিন কীভাবে এমন ভেজাল গুড় উৎপাদন করা হয় প্রশ্ন? সচেতন মহলের!


নামাবাজারে ভেজাল গুড় তৈরির মূল হোতা রূপা এন্টারপ্রাইজের মালিক গৌতম সাহা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কতিপয় কিছু ব্যক্তিকে হাত করে মেতেছেন ভেজাল গুড় উৎপাদনে। অস্বাস্থ্যকর ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি করা গুড় অজান্তেই বাজার থেকে হরহামেশাই ক্রয় করছেন ভোক্তারা। শুধু রূপা এন্টারপ্রাইজ নামের এই কারখানাটি নয়, ভেজাল গুড় তৈরির আরও বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে সাভার উপজেলায়। 

এসব কারখানায় মাঝেমধ্যে প্রশাসনের ছোবল পড়লেও কিছুদিন পর আবার যা তাই। ২০১৭ সালে র‌্যাব অভিযান চালায় গৌতম সাহা মালিকানাধীন এই কারখানায়। সে সময় ২ লাখ টাকা জরিমানা ও কারখানার সব কাঁচামাল, উৎপাদিত গুড় ফেলা হয় নদীতে। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের শুরু হয় এই ব্যবসা। বছর দুয়েক আগে আবারও অভিযান পরিচালনা করেন সাভার উপজেলা প্রশাসন। এ সময়ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল জরিমানা করা হয় গৌতম সাহাকে। জেল থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় আবার মেতে ওঠেন ভেজাল গুড় তৈরির মহোৎসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেজাল গুড় তৈরির কারখানার এক কর্মী জানান, ঝোলা গুড়, চিনি, ময়দা, রঙ ও রাসায়নিক দিয়ে এই কারখানায় গুড় তৈরি করা হয়। প্রশাসন কিছু বলে না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রশাসন মাঝে মাঝে আসে এসে আপনাদের মতো এমন কিছুক্ষণ দেখে গুদাম ঘরে গিয়ে মালিকের সঙ্গে কথা বলে। তারপর কী হয় আমরা জানি না।

নামাবাজারের গুড় ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার বলেন, ময়দা, চিনি, চিটাগুড়ের সংমিশ্রণে গৌতম বাবু গুড় বানান বলে আমরা জানি। তবে চিনি দিয়ে এখন অনেকেই গুড় বানায়, এটা খারাপ কিছু না। গরুর চর্বির কথাটা শুনতেছি বিভিন্ন জায়গায় এটা মিথ্যা কথা। তবে গুড়ে রঙ মেশালে তা মানব দেহের জন্য খুব ক্ষতিকর। আমরা সাভারে উৎপাদন হওয়ায় কোনো গুড়ই বিক্রি করি না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমরা নির্ভেজাল গুড় সংগ্রহ করে বিক্রি করি।

এ ব্যাপারে রূপা এন্টারপ্রাইজের মালিক গৌতম সাহার বক্তব্য নিতে কারখানা গেলে তিনি সাংবাদিক দেখে পালিয়ে যান। 

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, এ ধরনের খাদ্য মানবদেহে প্রবেশের ফলে ক্যানসারের মতো রোগের সৃষ্টি হতে পারে। মানুষের বিভিন্ন অর্গ্যান ড্যামেজ হতে পারে। শিশুদের জন্য তো এমন খাদ্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব খাদ্য থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি আগামীকাল ডিসি অফিসে যাব। আপনাকে পরশুদিন বক্তব্য দেই। অথবা আমি আগামীকাল ডিসি অফিস থেকে ফেরার পর আসেন।

/জেডও/


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভেজাল গুড়   




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


http://www.shomoyeralo.com/ad/BD Sports News.gif

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]