ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

করণীয় বিষয়ে বলা আছে ইসলামে
আমিন ইকবাল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২, ১:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 303

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা পাল্টে দেয় পৃথিবীর চিত্র। দেশে দেশে থমকে দাঁড়ায় মানুষের কোলাহল। কিছু দিনের জন্য সুর ওঠে- ‘ঘরে ফিরো, দূরে থেকো!’ করোনায় ভয়-শঙ্কা আর দুশ্চিন্তায় ঘাবড়ে ওঠা মানুষের কপালে ভাঁজ পড়ে সময়ে সময়ে। চলার পথে প্রতিটি স্তরেই আঘাত হানে এই মহামারি। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-সংস্কৃতি সব কিছুতেই ব্যাঘাত ঘটায়। ছন্দপতন হয় ধর্মীয় বিধিবিধান পালনেও। তবু মানুষ থেমে থাকেনি। মাটি কামড়ে টিকে থাকার লড়াই ছিল প্রাণপণ।

পৃথিবীর ইতিহাসে মহামারি নতুন কিছু নয়। ইতঃপূর্বে জনপদের পর জনপদ মহামারিতে উজাড় হয়েছে। প্লেগ, কলেরা, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গুটিবসন্ত বিভিন্ন রোগ নানা সময়ে মহামারির আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ করোনাভাইরাস মানুষকে কাবু করেছে; অসহায় ও নিঃস্ব করেছে। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীবাসীকে অনেক বাস্তবতা দেখিয়েছে; শিখিয়েছে নানা সত্য উপলব্ধি করতে।

মূলত পৃথিবীতে যেসব বিপর্যয়, রোগ, মহামারি দেখা দেয় সেসবের পেছনে অনেকাংশে মানুষের কর্মদোষ দায়ী। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে মানুষকে বারবার সতর্ক করেছেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘জমিনে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম : ৪১)। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের (মহামারির) প্রাদুর্ভাব ঘটে। তা ছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনও দেখা যায়নি।’ (ইবনে মাজাহ : ৪০১৯)

মহামারি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, আবার তিনিই এর নিয়ন্ত্রণ করেন। আল্লাহ না চাইলে কোনো মানুষের সাধ্য নেই- নিজ ক্ষমতায় বেঁচে থাকা বা সুস্থ থাকা। করোনার সময় এমন নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছি আমরা। তাই এমন দুঃসময়ে একমাত্র ভরসা রাখতে হবে মহান আল্লাহর ওপর। ঈমানে যেন চিড় না ধরে; বিশ্বাস যেন অটুট থাকে- জীবন ও মৃত্যুর একমাত্র মালিক আল্লাহ। 

বিশ্বাস ঠিক রেখে কিছু করণীয়র কথাও বলেছে ইসলাম। সতর্কতা অবলম্বনসহ চিকিৎসা গ্রহণে বাধা নেই ধর্মে। তা ছাড়া যদি কোনো এলাকায় মহামারি দেখা দেয় কিংবা সংক্রমণজনিত কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে, তা হলে ইসলামের নির্দেশ হলো, সেই এলাকায় নতুন করে কেউ প্রবেশ করবে না, আর যারা পূর্ব থেকে সেখানে অবস্থান করছিলেন, তারা সেখানেই থাকবেন। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে এক ভয়াবহ মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। তিনি সিরিয়া যাওয়ার উদ্দেশে বের হন। এরপর তিনি ‘সারগ’ নামক স্থানে পৌঁছলে তার কাছে সংবাদ এলো যে সিরিয়া এলাকায় মহামারি দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) তাকে অবহিত করলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা কোনো স্থানে এর প্রাদুর্ভাবের কথা শোনো, তখন সে এলাকায় প্রবেশ করো না; আর যখন এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, আর তোমরা সেখানে বিদ্যমান থাকো, তা হলে সেখান থেকে পলায়ন করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেয়ো না।’ (বুখারি : ৫৩১৯)

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর নবী (সা.) তাঁকে জানালেন- এটি হচ্ছে এক ধরনের শাস্তি। আল্লাহ যার ওপর তা পাঠাতে ইচ্ছে করেন, পাঠান। কিন্তু আল্লাহ এটিকে মুমিনের জন্য রহমত বানিয়েছেন। অতএব প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে এবং এ বিশ্বাস নিয়ে নিজ শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারিত করে রেখেছেন, তা ব্যতীত আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না, তা হলে সেই বান্দা শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’ (বুখারি : ৫৭৩৪)। অতএব, মহামারিতে অতি-আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ও আল্লাহর রহমত কামনার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠা মুমিনের কর্তব্য। 

মনে রাখবেন, যেকোনো বিপদাপদ কিংবা মহামারিই মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবার জন্যই শঙ্কার কারণ হলেও উভয়ের শঙ্কা এক ধরনের নয়। অমুসলিমের জন্য মৃত্যু মানে সব কিছু হারিয়ে ফেলা। আর একজন মুমিন মুসলিমের কাছে মৃত্যু মানে সব কিছু হারানো নয়; পরজীবনে চিরকল্যাণ লাভের সুযোগ তৈরি হওয়া। আর মহামারিতে আক্রান্ত হওয়া মানে শহীদের মর্যাদা অর্জন করা। তা ছাড়া মুমিনের জীবনে ভয়ের কিছু নেই। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর! সব কিছুই তার জন্য কল্যাণকর। আর এই বৈশিষ্ট্য কেবল মুমিনের। তারা সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে শোকর আদায় করে। আর অসচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে। প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম : ২৯৯৯)

মহামারির সময় মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুলত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদের শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম, কিন্তু তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিনয়াবনত হলো না এবং কাতর প্রার্থনাও করল না।’ (সুরা মুমিনুন : ৭৬)। ভাইরাস রোগ থেকে মুক্তি পেতে কিছু দোয়াও পাঠ করা চাই। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচার জন্য নবী (সা.) পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুজামি ওয়া মিন সাইয়িল আসকাম’, অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শে^ত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’ (আবু দাউদ : ১৫৫৪)

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া সন্ধ্যায় তিনবার পাঠ করবে সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো বিপদ হঠাৎ চলে আসবে না। 

আর যে তা সকালে তিনবার পাঠ করবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। দোয়াটি হলো- ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই, ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম’, অর্থাৎ ‘আল্লাহর নামে; যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।’ (আবু দাউদ : ৫০৮৮; তিরমিজি : ৩৩৮৮; ইবনে মাজা : ৩৮৬৯)

হাদিসে আরও একটি দোয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। এই দোয়াও প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করা। দোয়াটি হলো- ‘আউজু-বি-কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’, অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর নিকট পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর উসিলায়; তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, সেসবের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।’ (মুসলিম : ২৭০৮; আবু দাউদ : ৩৮৯৯)

লেখক: ইসলাম বিষয়ক লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com