ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ৩ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল বাংলাদেশ
তানভীর হাসান জোহা
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ৩:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1112

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্ন। আর সেটাই বাস্তবায়ন করেছে আমাদের সরকার এবং জনগণ। বিরাট এক পরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে। একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল বর্তমান সরকার এবং সফলও হয়েছে। ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণই ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান বিষয়। বর্তমানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করছি এবং উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি দুর্বার গতিতে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) তথ্যানুযায়ী, একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, কিন্তু বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ পয়েন্ট প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ পয়েন্ট।

২০২১ সালের ৩ মার্চ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকায় বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ কোরিয়া, চীন এবং ভিয়েতনামে বিভিন্ন পর্যায়ের সফল উন্নয়ন মডেলের নিকটতম প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য একটা নাম।’ ২০২১ সালের ১০ মার্চ নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা প্রদত্ত ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সুষমভাবে বেড়েছে, বর্তমান অতিমারির আগে চার বছর ধরে দেশটির অর্থনীতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ থেকে ৮ শতাংশ হারে, যা চীনের চেয়ে দ্রুতগতিতে। বাংলাদেশ যখন তাদের মেয়েদের শিক্ষিত ও ক্ষমতায়ন করেছে, সেই শিক্ষিত নারীরা পরিণত হয়েছে দেশের অর্থনীতির স্তম্ভে। বিশ^ব্যাংক বাংলাদেশকে দারিদ্র্য হ্রাস করার এক অনুপ্রেরণার কাহিনি হিসেবে অভিহিত করেছে।

কোভিড-১৯ মহামারির অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশ টেলিহেলথ, ভিডিও-কনসালটেশন, প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহ, মনিটরিং, নজরদারি, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ জনস্বাস্থ্যের প্রসার ও সুরক্ষার জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়ন করে আসছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগ, কন্ট্যাক্ট ট্র্যাকিং এবং হটস্পট শনাক্তকরণসহ অতিরিক্ত পরিষেবাগুলো যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি টেলিমেডিসিন এবং অন্যান্য প্রাক-বিদ্যমান পরিষেবাগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে। পাবলিক সেক্টর ছাড়াও ব্যবসা খাত ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, যেমন টেলিমেডিসিন, ভিডিও পরামর্শ এবং অন্যান্য সেবা প্রদানের জন্য একত্রিত হয়েছে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা যায়। কিন্তু তার পাশাপাশি কিছু বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ। প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে আমরা সবাই সাইবার আক্রমণের শিকার। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য সাইবার সিকিউরিটি একটি বড় ধরনের ইস্যু। ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে সাইবার ক্রাইম বা প্রযুক্তিগত অপরাধ। দেশে অনেকেই সাইবার ক্রাইম শব্দটির সঙ্গে হয়তো সঠিকভাবে পরিচিত নয়। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে যে সকল ক্রাইম বা অপরাধ সংঘটিত হয় তা-ই হচ্ছে সাইবার ক্রাইম। এ ধরনের ক্রাইমের সাথে যুক্তদের সাইবার অপরাধী বলে। সম্প্রতি সাইবার স্পেসের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কিছু দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। হুমকির পেছনে লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশে তাদের বটনেট ছড়িয়ে দেওয়া। এর আওতায় হামলাকারীরা বাংলাদেশ সরকারের কোভিড-১৯-এর টিকা দিতে নিবন্ধনের জন্য যে ওয়েবসাইট রয়েছে সেটির আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে আকর্ষণ বা ফিশিংয়ের চেষ্টা করেছিল। ফলে চুরি হয়ে যাচ্ছে অনেক ব্যক্তিগত তথ্য। এ ছাড়া চাকরি থেকে শুরু করে ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মানুষ এখন অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করে থাকে। এর অর্থ হলো, সাইবার অপরাধীদের দ্বারা তথ্যচুরির ঝুঁকি পূর্বের তুলনায় বেশি।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। কারণ এটি মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এর ফলে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ভুল তথ্য একটি বৈশি^ক সমস্যা হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অঞ্চল, সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক পরিবেশ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে এর বিরুদ্ধে লড়াই করার কৌশলগুলো পৃথক হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বুকে ১৬ কোটি ৩০ লাখের বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ফেসবুকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ফলে একাধিক ‘মব লিঞ্চিং’ ও ঘৃণ্য হামলা দেখেছে বাংলাদেশ। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে শিশু অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ অনলাইনে প্রচারিত হওয়ার পরে জনতার সহিংসতায় আটজন নিহত হয়েছিল। নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার ক্ষেত্রে ভুয়া সংবাদ প্রচারকারীরা ফেসবুক এবং টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে দ্রুত এই ধরনের তথ্য প্রচার করে, যার ফলে উদ্বেগজনক অবস্থা তৈরি হয়। ফেসবুক এবং গুগলের মতো সংস্থাগুলো ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু সমস্যাটি ব্যাপক এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলি বাস্তব। ভুয়া সংবাদ সাইবার অপরাধীদের ফিশিং, ম্যালওয়্যার এবং অন্যান্য আক্রমণের জন্য অন্য একটি ডেলিভারি চ্যানেল।

বাংলাদেশে ইউনিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে ৬৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ স্থানীয় ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। ট্রেন্ড মাইক্রোর গ্লোবাল স্প্যাম ম্যাপ অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী স্প্যাম, ম্যালওয়্যার, ফিশিং আক্রমণের শিকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক পরিচালিত দুই ঘণ্টার পরীক্ষায় বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত আইপি অ্যাড্রেসের সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫২। আধুনিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, যেমন ইন্টারনেট (চ্যাট রুম, ইমেইল, নোটিস বোর্ড ও ডকুমেন্ট) এবং মোবাইল ফোনের এসএমএস/এমএমএস ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি, কিংবা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতির জন্য বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

কীভাবে এ ধরনের ডিজিটাল অপরাধ থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন তা নিয়ে রয়েছে নানান মত। এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলোÑ আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যা প্রকাশ করেন সে সম্পর্কে সতর্ক হওয়া। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকিং এবং অপব্যবহারের জন্য সহজে ব্যবহার করা যায়।

নিশ্চিত হয়ে নিন যে আপনি বাজারে সর্বাধিক আপ-টু-ডেট, কার্যকর অ্যান্টি-ভাইরাস এবং অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন। এমন অ্যান্টি-ভাইরাস বা অ্যান্টি ম্যালওয়্যারগুলো ফায়ারওয়ালকে আরও সুরক্ষিত করে এবং ডেস্কটপ ও মোবাইল ডিভাইসগুলোতে ডেটা সুরক্ষিত রাখতে ব্যবহার করা যায়।
নিরাপদ সকেট লেয়ার (এসএসএল) এবং ট্রান্সপোর্ট লেয়ার সিকিউরিটির (টিএলএস) ব্যবহার, ব্রাউজার এবং ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা পরিশোধনের জন্য ব্যবহৃত সাধারণ ওয়েব প্রযুক্তি যা নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়াও অবাঞ্ছিত ইমেইল এবং বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করা এড়িয়ে চলতে হবে। অনলাইন আর্থিক লেনদেনের জন্য নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

বায়োমেট্রিক্স এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য সারা বিশে^র দেশগুলো গ্রহণ করছে। এটি সারা বিশে^ পরিচয় চুরির ঘটনা হ্রাস করতে সহায়তা করেছে।

আপনার অবস্থান প্রকাশ না করে ইন্টারনেট নেভিগেট করতে পেইড বা কিনে নেওয়া সফটওয়্যার ব্যবহার করুন। আপনি এগুলো দিয়ে আপনার ইন্টারনেটের ইতিহাসও গোপন করতে পারেন।

আপনার ফোন এনক্রিপ্ট করুন এবং আপনাকে এটি করার অনুমতি দেয় এমন অ্যাপগুলো ব্যবহার করে আপনার কথোপকথনগুলো ব্যক্তিগত রাখুন। এমন সব সফটওয়্যার ব্যবহার করুন যা আপনাকে ফোনে প্রেরিত যোগাযোগগুলোও এনক্রিপ্ট করতে দেয়।

আপনি যদি পাসওয়ার্ড শেয়ার করেন, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন বা আপনার সমস্ত ব্যবহারকারীর নামের জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন তবে আপনি স্ক্যামের ঝুঁকিতে আছেন। আপনার সিস্টেমগুলো সুরক্ষিত রাখতে জটিল পাসওয়ার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরগুলো ব্যবহার করার মতো সহজ আর কিছু হতে পারে না। আপনার বাড়ির ওয়াইফাই নেটওয়ার্কটি সুরক্ষিত করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে অন্য কেউ এটি ব্যবহার করতে না পারে।

একটি পাবলিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার সময় অ্যাক্সেস করা বা আর্থিক লেনদেন করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এই নেটওয়ার্কগুলো সাইবার অপরাধের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

করপোরেট অফিসগুলো তাদের সিস্টেমের কোনো ত্রুটি বা লঙ্ঘনগুলো খুঁজে বের করতে নেটওয়ার্ক মূল্যায়ন এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করতে পারে।

সব মিলিয়ে নিশ্চিতভাবেই বলতে হয়, অনেকদূর এগিয়েছি আমরা। এখন প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

/এমএইচ/
ষ   সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com