ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২ ২১ আষাঢ় ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৫ জুলাই ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ভারত থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় হাজারো রোহিঙ্গা, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধিসহ চাই কার্যকর উদ্যোগ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২, ৭:০৯ পিএম আপডেট: ২৪.০৫.২০২২ ৭:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 63

গত এক-দেড় মাসে কমপক্ষে ৮০০ জন রোহিঙ্গা ভারত থেকে দেশে অনুপ্রবেশ করেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গত ২২ মে নয়াদিল্লিকে কূটনৈতিক চিঠি পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থানরত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য অপেক্ষারত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভারতে কম-বেশি ৪০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বসবাস করছে। সেখানে বিভিন্ন সময়েই রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পাশাপাশি ভারতের কারাগারে পাঠানো হয়। এতে ভারতে বসবাসরত রোহিঙ্গারা জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কায়দায় দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে এসব রোহিঙ্গা ইউএনএইচসিআরের কার্ড সংগ্রহ করে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে।

গত ১৮ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসছে। রোহিঙ্গারা ২০১২ সালে ভারতে গিয়েছিল এবং সেদেশের বিভিন্ন প্রদেশে ছিল। এখন তারা শুনেছে, বাংলাদেশে এলে তারা ভালো খাওয়াদাওয়া পাবে। তাই রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে। বেশ কিছু এসেছে। এর মধ্যে আমরা ১৮ জনকে ধরেছি। রোহিঙ্গারা দুদেশের বিভিন্ন দালালকে ধরে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শিকড়িয়া গ্রাম দিয়ে গত এক বছর ধরে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। এখানকার চারটি স্পট দিয়ে অবৈধভাবে খুব সহজেই বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানো হচ্ছে রোহিঙ্গাদের।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, আলোচনায় কুলাউড়ার সীমান্তের কথা বারবার শোনা যাচ্ছে। রোহিঙ্গারা নাকি এ পথ দিয়ে আসছে। আমরা এ বিষয়টিকে ছোট করে দেখছি না।

ভারতের সাংবাদিক এবং সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের জুনিয়র ফেলো অয়নাংশ মৈত্র বলেন, ভারতে নিবন্ধিত ৪০ হাজার রোহিঙ্গার বাইরে বিভিন্ন রাজ্যে কম-বেশি এক লাখ রোহিঙ্গা সদস্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করতে পারে। ভারত সরকারের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এবং ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এ দুটি আইন রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভীতি এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। 

বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। জাতিসংঘসহ যারাই রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে, তাতে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। 

ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে। দালাল চক্র রোহিঙ্গাদের টাকার বিনিময়ে সহায়তা করছে এটা উদ্বেগের কারণ। দালাল চক্র দমনে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হতে হবে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যথেষ্ট তৎপর। এর ফাঁক দিয়ে দালালরা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ পাচারকর্ম।

মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। রোহিঙ্গারা নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশে আসা শুরু করে। এর আগেও অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে। ভারতে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশ প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য সতর্ক এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধিসহ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোহিঙ্গাদের মনে রাখতে হবে, এখানে তাদের অবস্থান অস্থায়ী। একসময় তাদের মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে। নিজ দেশের নাগরিকদের ফেরত নেওয়া মিয়ানমারের মানবিক এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যাশা, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা কার্যকর ও আন্তরিক ভূমিকা রাখবে।

আরএস/

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]