ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ ২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
ই-পেপার  বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
আরেক বিজয়, খুলে গেল উন্নয়নের দখিনা দুয়ার
প্রকাশ: রোববার, ২৬ জুন, ২০২২, ১১:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 112

২০২২ সালের ২৫ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় এক উজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৩০ লাখ শহীদ ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিল বীর বাঙালি। ৫০ বছর পর তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বাধাবিপত্তি পেরিয়ে পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করে আরেক বিজয় দেশবাসীকে উপহার দিলেন। তাই বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে ২৫ জুন ছিল উৎসবের দিন। ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের এই সেতু শুধু একটি সেতু নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদার প্রতীক। স্বাধীনতার পর এই একটি মাত্র মেগা প্রকল্প নির্মাণ করা হয়েছে কোনো বিদেশি ঋণে নয়, নিজেদের টাকায়। তাই সেতুটি নিয়ে দেশের মানুষের এত আবেগ। 

দেশে-বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই সেতু। গতকাল শনিবার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের মানুষের জন্য সেতু খুলে দেওয়া হলো আজ রোববার ভোর ৬টায়। এর মাধ্যমেই সূচনা হলো দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার পাশাপাশি সারা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। পদ্মা সেতুর কল্যাণে বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি, চাঙ্গা হবে ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাত্রার মান বাড়বে ওইসব এলাকার মানুষের।

গুগল বলছে, পদ্মা সেতু নিয়ে গত কয়েক বছরে অন্তত আড়াই কোটি প্রতিবেদন করা হয়েছে। পদ্মা নদীতে সেতু তৈরি করতে অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে এটি নির্মাণে। বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, পানিপ্রবাহ বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন নদীর পরেই পদ্মার অবস্থান।

স্বাধীনতার অনেক পরে যমুনা সেতু নির্মাণের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নতি হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চল রাজধানীর সঙ্গে যোগাযোগে ফেরি ও লঞ্চের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এ অবস্থায় পদ্মা সেতু জাতীয় উন্নয়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে পরিগণিত। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে। উৎপাদিত পণ্যগুলো সারা দেশে পৌঁছানো সহজ হবে। এসব এলাকায় অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। এতে পণ্যের সার্বিক মান বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের ব্যবসায়িক ক্ষেত্রও বিস্তৃত হবে। রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কাঁচামাল সরবরাহ এবং শিল্পায়ন সহজতর করতে সহায়তা করবে। ২১টি জেলায় গড়ে উঠবে ছোট-বড় শিল্প। কৃষির ব্যাপক উন্নতি হবে। কৃষকরা পণ্যের ন্যায্য দাম পাবেন। দক্ষিণের জেলার বার্ষিক জিডিপি ২.০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক জিডিপি ১.২৩ শতাংশ বেশি বাড়বে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
 
সেতুর দুপাশে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক ও বেসরকারি শিল্পশহর। এর ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে নতুন উদ্যমে কর্মতৎপরতা শুরু হবে। পর্যটন শিল্পে দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার, মাওয়া ও জাজিরায় পুরনো-নতুন রিসোর্টসহ পর্যটনকেন্দ্র দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে। পদ্মা সেতু বাস ও রেল উভয়েরই চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এটির মাধ্যমে শুধু যাতায়াতেরই সুবিধা হবে না, বরং এটি টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। এসব সুবিধা মানুষের জীবনমানের উন্নয়নকে প্রভাবিত করবে। ২০১২ সালের ২৯ জুন দাতা সংস্থাগুলো ঋণচুক্তি বাতিল করে দেয়। একই বছরের জুলাইয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।
 
আজ পদ্মা নদীর বুকে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে পদ্মা সেতু, যার পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি বহু প্রকৌশলী ও কর্মীর কঠোর শ্রম। তাদের শ্রম-ঘামের ফসল আজকের এই পদ্মা সেতু। দেশের মানুষের কাছে পদ্মা সেতু অনেক গর্ব আর অহঙ্কারের প্রতীক। নির্দ্বিধায় বলা যায়, পদ্মা বহুমুখী সেতু দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি অভাবিত পরিবর্তন আনবে দক্ষিণাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। এই সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নের দখিনা দুয়ার খুলে গেল। পদ্মা সেতুর রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন।

http://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_Send-Money_728-X-90.gif



http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : [email protected]