ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
সুকান্ত বাবু ও অন্যরা
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২, ৬:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 116

জন্মের পরপরই চোখ পিটপিট করে মায়ের মুখের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে রইল পুতুলের মতো সুন্দর শিশুটি। তারপর চারদিকে চোখ ঘুরিয়ে কাকে যেন খুঁজতে লাগল। এতটুকু বাচ্চা কাকে খুঁজছে? নিশ্চয় তার বাবাকে। কিন্তু বাবা কোথায়? বাবা গেছেন যুদ্ধে। বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে। দেশ স্বাধীন হতে খুব বেশি সময় লাগল না। সারা দেশে আনন্দের জোয়ার বইতে লাগল। বাবা ফিরে এলেন স্বাধীন দেশে। আনন্দের বন্যা বইতে লাগল সেই শিশুটির পরিবারেও। মহা ধুমধাম করে শিশুটির নাম রাখা হলো সুকান্ত। সুকান্ত বাবু। আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল সুকান্ত। কিন্তু বড় কি হতে পারল সে? পারল না। কেন পারল না? সে কাহিনিই বলছি।

আর দশটি শিশুর মতো দুষ্টু আর চঞ্চল নয় সুকান্ত। মা যা বলেন তাই করে সে। যেটা নিষেধ করেন তা করে না। দৌড়াদৌড়ি, ঝাঁপাঝাঁপি, দুষ্টুমি, তার স্বভাবে নেই। বড়শি দিয়ে বড়দের মাছ ধরতে দেখে পড়ে থাকা গাছের শুকনো ডালকে বড়শি বানিয়ে মিছেমিছি মাছ ধরে সে। তাই দেখে তার জন্য বাড়ির মধ্যেই ছোট্ট শানবাঁধানো পুকুর বানিয়ে দেওয়া হলো। তাতে ছাড়া হলো নানা রঙের মাছ। ছোট্ট সুকান্ত বড়শি দিয়ে সে মাছ ধরার চেষ্টা করে। এটাই তার প্রিয় খেলা হয়ে দাঁড়ায়। কী মনে করে যেন মাকে বলে সুকান্ত, তোমাকে ছেড়ে চুপচাপ ঘাসের মধ্যে গিয়ে শুয়ে থাকব আমি। তার এ কথাই একদিন সত্যি হয়। কীভাবে?

সুকান্তরা এসেছে ঢাকায় তার দাদার বাসায়। সুকান্তর বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। দাদা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী। একদিন ভোররাতের ঘটনা। ঢাকার মসজিদে মসজিদে তখন আজান হচ্ছিল। এমন সময় সুকান্তদের বাসার সবাই টের পায়, কারা যেন গুলি করতে করতে তাদের বাসার দিকে আসছে। বাড়িতে ডাকাত পড়েছে মনে করে সবাই সাবধান হয়ে যায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সব দরজা-জানালা। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয় না। খুনির দল দরজা ভেঙেই ঢুকে পড়ে তাদের বাড়িতে। গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির সবার। ঘুম ভেঙে যায় চার বছর বয়সি সুকান্তরও। খুনিরা বাড়ির সবাইকে দোতলা থেকে নিচে নামিয়ে নিয়ে আসে। বড়দের সঙ্গে সঙ্গে ছোট্ট দুটি পায়ে ঘুমে ঢুলঢুলু চোখ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে সুকান্তও। গোলাগুলির শব্দে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায় সে। মায়ের কোলে ওঠার বায়না ধরে। পাশে থাকা বড় চাচ্চু তাকে কোলে তুলে নেয়। এমন সময় ঘাতকরা দিগি^দিক গুলি করতে থাকে। তার বড় চাচ্চুর গায়ের সঙ্গে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। অন্যদের সঙ্গে পড়ে যান বড় চাচ্চু। পড়ে যায় তার কোলে থাকা সুকান্তও। হামলাকারীরা চলে গেলে দেখা যায়, গুলিতে অনেকেই মারা গেছে। কেউ কেউ গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে আছে। বড় চাচ্চুর কোলের মধ্য থেকে টেনে বের করা হয় সুকান্তকে; কিন্তু না। মায়ের কোলে ওঠার জন্য তখন আর বায়না নেই তার। বেঁচে নেই সুকান্ত। সত্যিই ঘাসের মধ্যে একা একা শুয়ে থাকার জন্য প্রস্তুত সে।

ঘটনাটা উনিশশ পঁচাত্তর সালের পনেরোই আগস্টের। সেদিন ঘাতকরা শুধু চার বছরের নিষ্পাপ শিশু সুকান্তকেই হত্যা করেনি, তারা হত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে দশ বছরের শেখ রাসেলকে, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ১৪ বছর বয়সি মেয়ে বেবীকে, ১২ বছরের ছেলে আরিফকে। এ ছাড়া ওইদিন ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে আরও মারা গিয়েছিলেন বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তাদের পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্নেল জামিল, সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াত, তার বড়ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় বেন্টু খানকে। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট সকালে নিষ্ঠুর এ হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া। হত্যাকারীদের প্রতি ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। আমরাও ঘাতকদের এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই। ঘৃণা জানাই হত্যাকারীদের প্রতি।




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com