ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
এপিক মনোলোগ 'আমাদের বঙ্গমাতা' (পর্ব ১)
আনিসুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১৪ আগস্ট, ২০২২, ৪:০৮ পিএম আপডেট: ১৫.০৮.২০২২ ২:৪২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 188

বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আমার লেখা, এপিক মনোলোগ 'আমি শেখ মুজিব' এর ফরাসি অনুবাদক রোলান্ড এনগুঈ এনজিওজল (Roland Engwee Ngiojol) মনোলোগটির অনুবাদ শেষে আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আমি যেন শেখ মুজিবের স্ত্রী রেণু'র ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলে আরো একটি মনোলোগ লিখি। রোলান্ডকে কথা দিয়েছিলাম আমি অবশ্যই লিখবো। এরপর মনে মনে সেই ভাবনা লালন করতে থাকি প্রায় বছরখানিক ধরে।  নানাজনের সঙ্গে আলাপ করি, জিজ্ঞেস করি তবে তেমন কেউ বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি আমাদের ইতিহাসের মহিয়সী এই মানুষটি সম্পর্কে। 

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিস্তর লেখালেখি ও স্মৃতিচারণ থাকলেও এর বিপরীতে তাঁর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে নিয়ে মৌলিক লেখালেখি ও তথ্য উপাত্ত খুব একটা পাওয়া যায় না। বঙ্গমাতা নিজেও অন্দরে থেকে ঠিক সময়ের ঠিক ভূমিকা পালন করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। লোকচক্ষুর আড়াল ভেঙে জনসম্মুখে আসার ব্যাপারে তাঁর ছিল দারুণ অনীহা। 

যদিও বাংলাদেশের জন্মের মহাকাব্যিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি তিনিও  মহাকাব্যের কেন্দ্রের একজন অবশ্যম্ভাবী মনীষা। আমাদের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে কার্যকর পণ্ডিতি আর গবেষণার বন্ধ্যাত্বের বিপরীতে তাঁর স্বামী বঙ্গবন্ধু, পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া, নীলিমা ইব্রাহিম, সুফিয়া কামাল, এবিএম মুসা, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, আমিনুল হক বাদশা, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, বেবী মওদুদ, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন  এবং সৈয়দ আবুল হোসেনের লেখাজোকা ও স্মৃতিচরণ থেকে বঙ্গমাতার পরিশীলিত ব্যক্তিত্ব এবং মনোজগতের একটা চিত্র কল্পনা করা যায়। খালেক বিন  জয়েনউদদীন এবং মালেক মাহমুদ সম্পাদিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ গ্রন্থে এদের অনেকের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখা আমার অনেক উপকারে এসেছে। 

বঙ্গমাতা সম্পর্কে আমার যথাসাধ্য পাঠ পরিক্রমা, কল্পনা আর ইতিহাসের প্রাপ্য সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানব ইতিহাসের বিরল এ মহিয়সী নারী আমাদের বঙ্গমাতাকে নিয়ে এই এপিক মনোলোগে বা মহাকাব্যিক স্বাগত সংলাপ 'আমাদের বঙ্গমাতা'। এই এপিক মনোলোগ কিশোর তরুণদের উদ্দেশে লেখা একই সঙ্গে বেতার ও থিয়েটারে প্রযোজনা উপযোগী একক চরিত্রের একটি পূর্ণাঙ্গ নাটক।

প্রথম পর্ব ১৯৩০ - ১৯৪৪
দ্বিতীয় পর্ব ১৯৪৪ - ১৯৭১
তৃতীয় পর্ব ১৯৭১
চতুর্থ পর্ব ১৯৭১ - ১৯৭৫
শেষ পর্ব ১৫ অগাস্ট ১৯৭৫


প্রথম পর্ব ১৯৩০ - ১৯৪৪

(ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কের ২৬ নম্বর বাড়ি ১৯৭১। কম্বলের উপর বসে, কখনো বা জানালার কাছে গিয়ে, একাকী কথা বলছেন নিজের সঙ্গে। যদিও নিজের সন্তানেরা, কাজের ছেলে বসে আছে তার আশেপাশেই, পরিবেশটা এমনই। ) 

আমি শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। ডাকনাম রেণু। 
আমার স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের অবিসংবাদিত নেতা। 
বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের প্রতিশব্দ তিনি। 
সেই টুঙ্গিপাড়ার গ্রাম থেকে এসে আজ কে কোথায় ছিটকে পড়েছি। 
ভয়ঙ্কর এই বিপদ আমরা সকলে মোকাবিলা করছি একটি মন্ত্র পড়ে।  
সেই মন্ত্র আমাদের সকলের দেশপ্রেম।

আমার তিন বছর বয়সে আমার বাবা চলে গেলেন সকলকে ছেড়ে পরপারে।  
রইলাম আমি, আমার বড় বোন যার বয়স পাঁচ, আমার মা আর দাদা। 
দুই বছর পরে মা'ও চলে গেলেন দুনিয়ার ময় ত্যাগ করে। 
রইলাম আমরা দুই বোন আর দাদা। 
পরে শুনেছি, তিন বছরের কথা তো আর আমার মনে নাই।  
ওই বয়সে তেরো বছর বয়সের শেখ মুজিবুর রহমান, যার ডাকনাম খোকা, তাঁর সঙ্গে আমার দাদার হুকুমে বিয়ে হয়।  
আমার দাদা, আমার শ্বশুর শেখ লুৎফর রহমানের চাচা। 
তিনি তার ভাতিজাকে ডেকে বললেন, আমার ছোট নাতি রেণুকে  তোমার বড় ছেলে খোকার সঙ্গে বিয়ে দিব। 
বিয়ের রেজিস্ট্রি হলো।  
সাত বছর বয়সে দাদাও চলে গেলেন পরপারে।  
এরপর আমি চলে এলাম আমার শাশুড়ির কাছে।
সেই থেকে তিনিই আমার মা, তিনিই আমার বাবা। 
উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকতাম ছোট সময়ে। 
এখন অভ্যাসশত ডেকে উঠি। 
এই নিয়ে মানুষ হাসাহাসিও করে।  
আর শাশুড়ি নিজের মেয়ের মতো সবকিছু শিখিয়েছেন পড়িয়েছেন বড় করেছেন। 
আজ সংকিছু কেন এতো মনে পড়ছে। 
স্মৃতির পাহাড় ভেঙে পড়ছে আমার সামনে।
আমি বিপদের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।  
প্রথম যেদিন আমার শাশুড়ির কোলে এলাম, উনি পরিচয় করে দিলেন এ তোমার দিদি, এ তোমার দাদা, বাকি থাকলো একজন। 
তিনি বড় ছেলে খোকা। 
আমি আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললাম এ আমার কে হয়?
ও তোমার দুলহা।  
সেই দুলহা, আমার স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান।  
তার সঙ্গে আমার বাসর হয় ১৯৪২ সালে।  
প্রথম ছেলে সন্তানের জন্ম হয় ১৯৪৪ সালে।  
সন্তানটি বাঁচেনি। 
এ এক বড় আঘাত। 
আমি ভেঙে পড়েছিলাম শরীরে এবং মনে। 
আমার স্বামী আজ কলকাতায় যাবেন। কি বলবো। 
বুকে অনেক কষ্ট, তার কষ্ট, কিন্তু তার দেশের জন্যে দেশের মানুষের জন্যে কিছু করার যে ঝোক সেটা থেকে বিরত হোক সেটা আমি চাই না।  
তারপরও কষ্টের কথা একটু বলি, 
'একবার কলকাতা গেলে যার আসতে চাও না. এবার কলেজ ছুটি হলেই বাড়ি এস।'

মানুষটা তখন কলকাতায় রাজনীতি আর পড়াশোনা নিয়ে দুনিয়ার ব্যস্ত। 
বাড়ি আসার মতো সময় ও ফুরসৎ কোনোটাই তার নাই।  
একবার তিনি ভারতবর্ষের দাঙ্গাপীড়িত এলাকায় মানুষের সেবার জন্যে বাংলার নেতা হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যাবেন। 
সোহরাওয়ার্দী সাহেব বললেন, 'মুজিব তুমি তোমার  বউয়ের কাছ থেকে অনুমতি নাও। 
আমার স্বামী শেখ মুজিব চিঠি লিখে আমার পরামর্শ চাইলেন। 
আমি লিখলাম, 

তিনি চিঠি লিখে জানতে চেয়েছেন তিনি কি টুঙ্গিপাড়ায় চলে আসবেন নাকি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের সঙ্গে দাঙ্গাপীড়িতপ মানুষের সেবায় বের হবেন। 
আমি ভেবে দেখলাম, আমিএখানে সকলের মাঝে থেকে সুস্থ হয়ে উঠবো। 
উনার উচিত হবে দেশের মানুষের সেবায় বেরিয়ে পড়া।
উনি যদি দেশের সেবায় না বের হন, কে বের হবে? 
আমার চিঠির কথা শুনে সোহরাওয়ার্দী সাহেব, 'তাঁকে বলেছেন, 'Mujib, she is a very precious gift to you from God. Don’t neglect her, please’. 
উনি আমারে কী নেগলেক্ট করবেন? 
উনার দিল আমার জন্যে মায়ায় ভরা।  
সে আমি জানি তা তিনি কলকাতায় থাকুন বা টুঙ্গি পাড়ায় থাকুন বা দিল্লিতে থাকুন। 
মায়ার বন্ধনে বাঁধা আমরা পরস্পরে। 
বাঁচি আর মরি, একই সুতায় গাঁথা যাঁদের প্রাণ।
উনি বি.এ পরীক্ষা যাতে অখণ্ড মনোযোগে এবং ভালো করে পড়াশোনা করে দিতে পারেন সেজন্য আমি কলকাতায় চলে আসি। 

উনার জন্যে মানুষের যে ভালোবাসা আর দোয়া উনাকে হায়েনার দল কিচ্ছু করতে পারবে না।  
কামালটা যে কোথায় কি অবস্থায় আছে? 
পরিবারের অন্য আত্মীয়দেরও খবর পাবার কোনো সুযোগ নাই। 
সবাই যেন বিপদের অকুল পাথারে হাবুডুবু খাচ্ছি। 
এই যে বাচ্চা ছেলে রাসেল, সাত বছর বয়স, ওর বয়সেই আমি শাশুড়ির কোলে এসেছিলাম। 
দিন গেলো রাত যাচ্ছে ছেলেটার মুখেও কোনো দানাপানি তুলে দিতে পারিনি। 
আরে বন্দীরও তো কিছু মৌলিক অধিকার থাকে, তার মধ্যে তিনবেলা আহার। 
সেটাও কি আমরা পেতে পারি না? 
আমার স্বামী, এদেশের নেতাদের সঙ্গে জীবনের যৌবনের পুরোটা এই জন্যেই কী  এই সাধের পাকিস্তানের তরে লড়েছিলেন? 
ইচ্ছে করে জিন্নাহ সাহেবের কবরের কাছে গিয়ে যদি জিজ্ঞাস করতে পারতাম! 

চলবে..

২য় পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com