ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
কালজয়ী চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের জন্মদিন আজ
আনন্দ সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২, ২:৪১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 121

বাংলাদেশের সিনেমা ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র বলা হয় জহির রায়হানকে। শুধুমাত্র সিনেমা জগত নয় বরং সাহিত্য থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত শহীদদের সঙ্গে উচ্চারিত হয় তার নাম। আজ ১৯ আগস্ট, তার ৮৮তম জন্মদিন। ১৯৩৫ সালের এই দিনে ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। 

খাপছাড়া পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে তার সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। পরে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ১৯৫৭ সালে তিনি চলচ্চিত্রে যুক্ত হন ‘জাগো হুয়া সবেরা’ ছবির সহকারী পরিচালক হিসেবে।

১৯৬৪ সালে জহির রায়হান নির্মিত উর্দু ছবি ‘সঙ্গম’ ছিল সমগ্র পাকিস্তানের প্রথম রঙিন ছবি। ১৯৬৫ সালে নির্মিত তার ছবি ‘বাহানা’ পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র। ‘মনসামঙ্গল’ পুরাণ থেকে নির্মিত ‘বেহুলা’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৬ সালের সেপ্টেম্বরে। আগস্টে মুক্তি পাওয়া সালাউদ্দিন নির্মিত ‘রূপবান’-এর পথ ধরে ‘বেহুলা’ও প্রচুর জনপ্রিয়তা পায়। এ দুটি ছবিই ছিল বাংলার লোকজ কাহিনী থেকে নির্মিত। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ভিত গড়ে দিয়ে ছিল ছবিগুলো।

এ ছবি দুটি দিয়েই ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় হতে শুরু করে বাংলাদেশের ছবি। জহির রায়হান নির্মিত অন্য চলচ্চিত্রগুলো হলো- ‘কখনো আসেনি’, ‘সোনার কাজল’, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘আনোয়ারা’। এছাড়া প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবেও তিনি কয়েকটি ছবির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সাহিত্যিক হিসেবেও তিনি যথেষ্ট নাম কুড়িয়েছিলেন। তার লেখা কয়েকটি উপন্যাস হলো- ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফালগুন’, ‘বরফ গলা নদী’, ‘আর কতদিন’, ‘কয়েকটি মৃত্যু’, ‘তৃষ্ণা’। এছাড়া অনেকগুলো ছোটগল্প লিখেছেন তিনি। 

‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নামের একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রও নির্মাণ শুরু করেছিলেন জহির রায়হান। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ায় এই সিনেমাটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। যেখানে ক্যামেরাই হয়ে উঠে তার রাইফেল। কলকাতায় ‘জীবন থেকে নেয়া’র বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয়।

জহির রায়হান নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রগুলো দেশ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। প্রামাণ্যচিত্রগুলো হলো স্টপ জেনোসাইড, বার্থ অব নেশন, লিবারেশন ফাইটার্স এবং ইনোসেন্ট জিনিয়াস।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন। ঢাকায় ফিরে জানতে পারেন তার বড় ভাই সাহিত্যিক-সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার ১৪ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ। জহির তার বড় ভাইকে খুঁজতে লাগলেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি সকালে একটি ফোন এল। অপরিচিত একজন জানাল ঢাকা মিরপুরের ১২ নম্বর সেকশনের একটি বাড়িতে আপনার বড় ভাই শহীদুল্লা কায়সারকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ফোন পেয়েই ছুটলেন জহির রায়হান। এ যাওয়াই ছিল তার শেষ যাওয়া। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের হাতে মিরপুরে তিনি শহীদ হন বলে পরে জানা যায়। তবে তার মৃতদেহটিও পাওয়া যায়নি।

সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হন জহির রায়হান। উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি হলো আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪, হাজার বছর ধরে), নিগার (কাঁচের দেয়াল, শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭১, সাহিত্য : মরণোত্তর, ১৯৭২ সালে ঘোষিত), একুশে পদক (১৯৭৭, চলচ্চিত্র : মরণোত্তর) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯২, সাহিত্য : মরণোত্তর)।




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com