ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
ঘুরে আসুন পানাম সিটি
জীবন যখন যেমন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৫:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 79

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশ। এখানে ঘুরে বেড়ানোর স্থানের অভাব নেই। ভ্রমণপিপাসুরা ছুটি পেলেই ট্রাভেল ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সময়ের অভাবে অনেকে ভ্রমণে বের হতে পারেন না। তবে আপনি চাইলে দিনেই ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার খুব কাছেই পানাম নগর থেকে। পানামের অলিগলিতে ঘুরতে ঘুরতে উপভোগ করতে পারবেন অপূর্ব কারুকার্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া। সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর হতে আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থানটি। এটি ‘হারানো নগরী’ নামেও পরিচিত। এই এলাকায় একসময় বসবাস ছিল ধনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের। মসলিনের জমজমাট ব্যবসা ছিল। প্রাচীন সেই নগরীর তেমন কিছুই আর এখন অবশিষ্ট নেই। এখন আছে শুধু ঐতিহাসিক সেই পুরনো বাড়িগুলো।
 
ঈসা খাঁ-এর আমলের বাংলার রাজধানী পানাম নগর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর- প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যার সঙ্গে বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাস জড়িত।পানাম নগরীর দুই ধারে ঔপনিবেশিক আমলের ৫২টি স্থাপনা রয়েছে। এর উত্তর দিকে ৩১টি এবং দক্ষিণ দিকে ২১টি স্থাপনা অবস্থিত। স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে ইউরোপীয় শিল্পরীতির সঙ্গে মোগল শিল্পরীতির মিশ্রণ লক্ষ করা যায়। পানাম নগরী নিখুঁত নকশার মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন রয়েছে। নগরীর পানি সরবরাহের জন্য দুই পাশে খাল ও পুকুরের অবস্থান লক্ষ করা যায়। এখানে আবাসিক ভবন ছাড়াও উপাসনালয়, গোসলখানা, পান্থশালা, দরবার কক্ষ ইত্যাদি রয়েছে। পানাম নগরের আশপাশে আরও কিছু স্থাপনা আছে যেমন- ছোট সর্দারবাড়ি, ঈশা খাঁর তোরণ, নীলকুঠি, বণিক বসতি, ঠাকুরবাড়ি, পানাম নগর সেতু ইত্যাদি।

যেভাবে যাবেন 
ঢাকার গুলিস্তান থেকে স্বদেশ বা বোরাকের এসি পরিবহনে উঠে নামবেন মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা। সময় লাগতে পারে ১ ঘণ্টা, তবে শুক্রবার ছাড়া অন্য দিন হলে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা হাতে নিয়ে বের হতে হবে। মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় নেমে দেখবেন অটো দাঁড়ানো আছে। সেই অটোতে চড়ে চলে যেতে পারবেন পানাম সিটিতে। এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে চিটাগাং রোডের বাসে করে চিটাগাং রোড যাবেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে যেতে পারেন। পানাম সিটিতে প্রবেশ করতে আপনাকে টিকেট কাটতে হবে। প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার জাদুঘর বন্ধ থাকে।
থাকার ব্যবস্থা 
আপনি যদি ঢাকার আশপাশেই অবস্থান করেন তাহলে এক দিনেই ঘুরে আসতে পারবেন পানাম নগর। তবে যদি দূর থেকে আসেন তাহলে আপনার থাকার জন্য এখানে খুব ভালো মানের হোটেলও রয়েছে।
কিছু টিপস
 পানাম নগরের প্রত্যেকটি ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ তাই নির্দেশনা অমান্য করে কোনো ভবনের ওপরে উঠবেন না।
 ভ্রমণের সময় অবশ্যই সঙ্গে করে খাবার পানি রাখবেন। পানাম নগরের ভেতরে আপনি পানি পাবেন না। 
 ক্যামেরা, মানিব্যাগসহ যাবতীয় জিনিস নিজের সঙ্গে রাখুন। ছবি তোলার সময় ব্যাগ বা সঙ্গে থাকা কোনো কিছু পাশে রাখলে সেটার প্রতি খেয়াল রাখুন। 
 ভবনের ভেতরে ঢুকলে বেশি সময় ধরে থাকবেন না। দেখেই বেরিয়ে আসুন। কেননা ভবনের ভেতরটা অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে এবং গুমটবাঁধা। তাই এখানে বেশি সময় থাকলে শরীরে অ্যালার্জি শুরু হয়ে যেতে পারে।
 অনেকে সন্ধ্যার পরেই এখানে অবস্থান করে। এটা না করাই ভালো। কারণ অপরিচিত পরিবেশে আপনি বিপদে পড়তে পারেন। তাই পানাম নগর ভ্রমণ সন্ধ্যার আগেই সেরে ফেলুন।
 পানাম নগর ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ এই নগরী। কাজেই এখানে আবস্থিত কোনো সম্পদ নষ্ট করবেন না। ভেতরে প্রস্রাব বা পায়খানা করার মতো জঘন্য কাজ করবেন না।




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com