বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ভালো একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আশা করছি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সি ডিকসন ‘ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটাং বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত মিট দ্য এম্বাসেডর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন।
হাইকমিশনার সি ডিকসন বলেন, নির্বাচনে ভোট আয়োজন, গণনা ও ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। অব্যাহতভাবে উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে ভালো নির্বাচনের বিকল্প নাই। ভোটের মাঠে কে জয়লাভ করবে তা অবশ্যই এই দেশের জনগণ ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে ঠিক করবে। এক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে যুক্তরাজ্য পর্যবেক্ষক বা অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।
রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রসঙ্গে হাইকমিশনার রবার্ট সি ডিকসন বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে শুরু থেকেই যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সহযোগিতা ও সমর্থন করে আসছে, যা সামনের দিনেও অব্যাহত থাকবে। আশা করছি, এই সঙ্কটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান ঘটবে।
যুক্তরাজ্যের নির্বাচন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বলেন, সামনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী পদে যিনিই আসুক না কেন বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আমাদের দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
রাশিয়ার ইউক্রেনে আগ্রাসন ইস্যুতে হাইকমিশনার বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনকে রক্ষায় যুক্তরাজ্য অস্ত্র সরবরাহ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার রবার্ট সি ডিকসন বলেন, স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের তালিকাতে প্রবেশ করায় যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে। ব্রিটিশ সরকার বিদ্যমান জিএসপি ব্যবস্থার স্থলে ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ নামে একটি নতুন স্কিম ঘোষণা করেছে। নতুন স্কিম অনুযায়ী, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবে।
মিট দ্য এম্বাসেডর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ছিলেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ-এর চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর এ চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান এবং ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটাং বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সাধন কুমার দাস। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, এবং সাংবাদিক অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
/জেডও