ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

আবোল তাবোলের ছড়াকার সুকুমার রায়
জহিরুল ইসলাম
প্রকাশ: শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:১৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 201

বাংলা ব্যাকরণের একাধিক শব্দের সন্ধি করা ও সন্ধিবিচ্ছেদের ব্যাপারটা তো তোমরা জানো, তাই না? এই যেমন, হিম+আলয়=হিমালয়, শুভ+ইচ্ছা=শুভেচ্ছা, মরু+উদ্যান=মরূদ্যান। এই সন্ধি নিয়ে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে মজার ছড়াটির কথা কি তোমরা জানো? ছড়াটির শুরু এভাবে- 

হাঁস ছিল, সজারুও, (ব্যাকরণ মানি না),

হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।
ব কহে কচ্ছপে- ‘বাহবা কি ফুর্তি!

অতি খাসা আমাদের ‘বকচ্ছপ মূর্তি’!...

ছড়াটির নাম ‘খিচুড়ি’। এটি লিখেছেন সুকুমার রায়। শুধু এই ছড়াটিই না, সুকুমার রায় এরকম অসংখ্য মজার মজার ছড়া লিখেছেন। সেসব ছড়া আজও মানুষের মুখে মুখে। ‘বাবুরাম সাপুড়ে’ নামের ছড়াটিও তোমরা নিশ্চয় পড়েছো- 

বাবুরাম সাপুড়ে,

কোথা যাস্ বাপুরে?

আয় বাবা দেখে যা,

দুটো সাপ রেখে যা...

এ ধরনের ছড়াকে বলা হয় ‘ননসেন্স ছড়া’। ননসেন্স বা কিম্ভূত ছড়া এমন এক ধরনের ছড়া যাতে ছন্দ ও অন্ত্যমিল থাকে, তবে এগুলো লেখা হয় মূলত কৌতুক পরিবেশনের জন্য। এমন আরেকটি ছড়া হলো- 

মাসী গো মাসী পাচ্ছে হাসি

নিম গাছেতে হচ্ছে সিম,

হাতির মাথায় ব্যাঙের বাসা

কাগের বাসায় বগের ডিম।...

এমন মজার মজার ছড়া দিয়ে সাজানো হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ বইটি। এই বইয়ের ‘কাঠ বুড়ো’ শিরোনামের ছড়াটি এমন- 

হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে- যেন কে বৃদ্ধ

রোদে বসে চেপে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ।

মাথা নেড়ে গান করে গুন্ গুন্ সঙ্গীত

ভাব দেখে মনে হয় না- জানি কি পণ্ডিত!...

বাংলা ভাষায় নননেন্স ছড়ার প্রবর্তন করেন সুকুমার রায়। পরে তার ছেলে সত্যজিৎ রায়ও এ ধরনের কিছু ছড়া লিখেছেন। সত্যজিৎ রায়ের সেই ছড়াগুলো ‘তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম’ নামের বইয়ে প্রকাশিত হয়। 

সুকুমার রায়ের আরেকটি মজার ছড়া ‘রামগরুড়ের ছানা’। ছড়াটি এমন- 

রামগরুড়ের ছানা

হাসতে তাদের মানা, 

হাসির কথা শুনলে বলে,

‘হাসব না- না, না- না!’...

সুকুমার রায়ের ছড়া মানে যে শুধুই ছন্দের কারিকুরি তা কিন্তু নয়। তার প্রতিটি ছড়াতেই রয়েছে একেকটি মজার গল্পও। ‘বড়াই’ নামের ছড়াটির শুরু এভাবে- 

গাছের গোড়ায় গর্ত ক’রে ব্যাং বেঁধেছেন বাসা,

মনের সুখে গাল ফুলিয়ে গান ধরেছেন খাসা।

রাজার হাতি হাওদা- পিঠে হেলে দুলে আসে- 

“বাপ্রে” ব’লে ব্যাং বাবাজি গর্তে ঢোকেন ত্রাসে!

ছড়াটি কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ছড়ার পরের পঙ্ক্তিগুলোতে রয়েছে আরও মজার গল্প।

রাজার হাতি মেজাজ ভারি হাজার রকম চাল;

হঠাৎ রেগে মটাৎ ক’রে ভাঙল গাছের ডাল।

গাছের মাথায় চড়াই পাখি অবাক হ’য়ে কয়- 

“বাস্রে বাস্! হাতির গায়ে এমন জোরও হয়”!

হাতির গায়ে যে অনেক জোর তা তো সবারই জানা। কিন্তু সেই জোরের কৃতিত্ব ব্যাঙ কীভাবে নেয় তা জানতে পারবে ছড়াটির পরের লাইনগুলোতে- 

মুখ বাড়িয়ে ব্যাং বলে, “ভাই, তাইত তোরে বলি- 

আমরা, অর্থাৎ চার- পেয়েরা, এম্নিভাবেই চলি”।

৫০টি ছড়া দিয়ে সাজানো হয়েছে সুকুমার রায়ের ‘আবোল তাবোল’ নামের বইটি। ১৯২৩ সালে কলকাতার ইউ রায় এন্ড সন্স নামক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বইটি প্রকাশ করে। এ বইয়ের প্রতিটি ছড়াই এমন মজাদার। তাই বইটি প্রকাশিত হওয়ার এত বছর পরও এ বইয়ের ছড়াগুলো ছড়িয়ে আছে মানুষের মুখে মুখে। 

সুকুমার রায়ের জন্ম ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের কলকাতায়। তিনি জন্মেছিলেন এক সাহিত্যানুরাগী পরিবারে, যার ফলে তার মধ্যকার সাহিত্যপ্রতিভার বিকাশ হয় সহজে। সুকুমার রায়ের বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন শিশুতোষ গল্প ও জনপ্রিয়- বিজ্ঞান লেখক, চিত্রশিল্পী, সুরকার ও শৌখিন জ্যোতির্বিদ। অন্যদিকে সুকুমার রায়ের ছেলে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্রকার হিসেবে সুনাম কুড়ান।

রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় বিএসসি (অনার্স) করার পর আলোকচিত্র ও মুদ্রণ প্রযুক্তির ওপর পড়াশোনা করেন। কালক্রমে তিনি ভারতের অগ্রগামী আলোকচিত্রী ও লিথোগ্রাফার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তিনি ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংঘ গড়ে তুলেছিলেন। এর মুখপাত্র ছিল ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’ নামের একটি পত্রিকা। মূলত এখান থেকেই তার ননসেন্স ছড়ার চর্চা শুরু।

সুকুমার রায় ছিলেন একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও বিখ্যাত ‘সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক। তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘ননসেন্স ছড়া’র প্রবর্তক। তার লেখা কবিতার বই ‘আবোল তাবোল’, গল্প ‘হ- য- ব- র- ল’, গল্প সংকলন ‘পাগলা দাশু’ এবং নাটক ‘চলচ্চিত্তচঞ্চরী’কে শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, বিশ্বসাহিত্যে সর্বযুগের সেরা ব্যঙ্গাত্মক শিশুসাহিত্যের অন্যতম বলে মনে করা হয়। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান সুকুমার রায়।

/ডিএফ




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com