ঢাকা শহরের প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে দূষণবিরোধী নাগরিক প্রচেষ্টার আয়োজনে ‘বুড়িগঙ্গা নদী কার্নিভাল’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ কনসোর্টিয়াম এবং বুড়িগঙ্গা নদী মোর্চার যৌথ উদ্যোগে কামরাঙ্গীরচরের থোটা অঞ্চলের মুসলিমবাগ টাওয়ার মাঠে 'বুড়িগঙ্গা নদী কার্নিভাল' এর আয়োজন করা হয়।
এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, বাপা'র সভাপতি এবং মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম।
আলোচনা অনুষ্ঠানের পরে শতাধিক সুসজ্জিত নৌকার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য কার্নিভাল কামরাঙ্গীরচরের থোটা গুদারাঘাট থেকে শুরু করে বাবুবাজার ব্রিজ থেকে খোলামোড়া ঘাট পর্যন্ত নদী প্রদক্ষিণ করে থোটা গুদারাঘাটে এসে শেষ হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এই আয়োজন।
বক্তব্যে সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারি দলের লোকেরাই নদী দখল করেন। এবং এইসব দখলবাজরা কোনও দলের নয়, এরা সকল সরকারের পিঠে সাওয়ার হয়।
তিনি লন্ডনের টেমস নদী ও চিনের হোয়াংহো নদীর ইতিহাস টেনে বলেন, টেমস নদী দখলমুক্ত করতে ৪০ বছর লেগেছে, হোয়াংহো নদী দখলমুক্ত করতেও অনেক সময় লেগেছে। আমরা বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত করেই ছাড়ব।
কামরুল আরও বলেন, আদি চ্যানেল উদ্ধারের কাজ চলছে। এতে অনেকের বাড়িঘর ভাঙা পড়বে, তখন আমাদের সহযোগিতা পাবেন না। চারদিকে রাস্তা হবে, ওয়াটার বাস চালু হবে পুরোপুরি। এটা হলে শহরের যানজট অনেকটা কমবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, নদী বাঁচাতে কেন আন্দোলন করতে হবে? এটা কোনও সরকারের দেশ না, এটা দলের দেশ না, এটা জনগণের দেশ। জনগণের নদী জনগণকে ফেরত দিতে হবে।
এসময় কাউন্সিলর সাইদুল ইসলাম মাদবর, শেফালী বেগম, মোকাদ্দেস হোসেন নাহিদ, মোহাম্মদ হোসেন, নুরে আলম, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামজন মজুমদার, ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শহীদউল্লাহ, মনির হোসেন চৌধুরী, লালবাগ জোন এসি একে রায় নিয়তিসহ নদী সংরক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
/জেডও