ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২
http://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

http://www.shomoyeralo.com/ad/Untitled-1.jpg
চোরচক্রের হাতে জিম্মি নৌ-রুট
জাকির হোসেন হৃদয়, অভয়নগর (যশোর)
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:৪৪ এএম আপডেট: ২৩.০৯.২০২২ ৫:৫৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 65

ভয়ঙ্কর একটি চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে নৌ-রুট। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা নৌ-বন্দর থেকে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দর পর্যন্ত এ চক্রটি থাবা বিস্তার করে আছে। অভিযোগ উঠেছে এ চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বহিরাগত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, চাঁদাবাজ, অসাধু নৌযান শ্রমিক-কর্মচারী ও অসাধু কিছু ব্যবসায়ী। সম্প্রতি নওয়াপাড়া নদী-বন্দর ব্যবহারকারী একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ১২০০ টন সার চুরির ঘটনা ধরা পড়ার পর এ রুটে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে নানা অজানা তথ্য।
 
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে ছেড়ে আসার পথে নওয়াপাড়া বন্দরে পৌঁছানোর আগেই প্রতিটি লাইটারেজ জাহাজ থেকে কমপক্ষে ৫০ থেকে ২০০ টন পণ্য চুরি হয়ে যায়। এসব চোরাইপণ্য বন্দর এলাকার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী মোটা অঙ্কের লাভের আসায় কিনে নিচ্ছে। এমন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীও নওয়াপাড়া নদী-বন্দর এলাকায় গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। 

সূত্র জানায়, চোরাইকৃত পণ্য ট্রলারে নওয়াপাড়া নৌ-বন্দরের কয়েকটি ঘাটেও আনা হয়। ঘাটের দায়িত্বরতদের ম্যানেজ করে এসব পণ্য রাতারাতি আনলোড করা হয়। তাদের অভিযোগ, এসব চোরাইপণ্য ধরার পর চুরির সঙ্গে নৌযানের কোনো অসাধু শ্রমিক-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেয়ে ব্যবস্থা নিতে গেলেই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। তারা ফেডারেশনের মাধ্যমে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে লোড-আনলোড বন্ধ করে দেয়। এতে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হয়। 

নওয়াপাড়া নদী-বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নৌ-রুটজুড়ে রাতের আঁধারে ট্রলারে লাইটারেজ জাহাজগুলোয় হানা দেয় চোর সিন্ডিকেট। তারা কখনো কখনো কার্গো জাহাজের শ্রমিক-কর্মচারী ও পাহাদারকে ম্যানেজ করে পণ্য চুরি করে। ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হলে অস্ত্র ঠেকিয়ে মালামাল ছিনতাই করে। অন্যথায় কৌশলে কার্গো জাহাজের দুয়েকজনকে ম্যানেজ করে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে অচেতন করে পণ্য চুরি করে। 

প্রতিনিয়ত পণ্য চুরির ঘটনা ও বিভিন্ন সময়ে নাজেহাল হওয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে দেশের স্বনামধন্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নওয়াপাড়া গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জনি বলেন, নব্বই দশক থেকে আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকের হাতে সার পৌঁছে দিয়ে আসছি। কিন্তু নৌ-রুটে ভয়ঙ্কর মাফিয়া চোর সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। নৌ-পুলিশের চরম অবহেলা ও কোস্ট গার্ডের গাফিলাতিকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, গোটা নৌ-রুটে এ সিন্ডিকেট থাবা বিস্তার করে আছে। এ ছাড়া নওয়াপাড়া বন্দর এলাকায়ও একটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যারা বিভিন্ন নোঙর করা কার্গো থেকে অস্ত্র ঠেকিয়ে পণ্য চুরি করে থাকে। তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে নানাভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে তাদের। পরে গম, কয়লাসহ কিছু পণ্যের আমদানি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। তিনি নওয়াপাড়া নদী-বন্দরকে আরও গতিশীল করতে নৌ-রুট নিরাপদ রাখার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে নওয়াপাড়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুজ্জামান নৌ-পুলিশের অবহেলার কথা অস্বীকার করে বলেন, নৌ-রুটকে নিরাপদ রাখতে নৌ-পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে নৌ-পুলিশে লোকবল ও ইকুইপমেন্টের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নৌ-পথে টহল দেওয়ার মতো কোনো নৌযান না থাকায় বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি দাবি করেন, নৌ-পুলিশের টহলের জন্য একটি স্পিডবোট ও লোকবল বাড়ানো গেলে এ চুরি বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।’ 

বিষয়টি নিয়ে নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, কয়লা ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাহজালাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়ছি। চোর ধরতে গেলেই নানামুখী বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন এ চক্রের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের শেকড় উপড়াতে না পারলে ব্যবসা করা দুরূহ হয়ে পড়বে।’ 

এ ব্যাপারে নওয়াপাড়া নদী-বন্দরের সহকারী পরিচালক মাসুদ পারভেজের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। প্রায়ই লাইটারেজ থেকে সারসহ পণ্য চুরির ঘটনা শোনেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক। আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বিষয়। ফলে এটি প্রশাসনের ওপর বর্তায়। তবে নওয়াপাড়া নদী-বন্দরের ব্যবসায়ীদের সার্বিক সুবিধা-অসুবিধায় এবং বন্দর গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে সব প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকি।’




http://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com