ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

বৈরী আবহাওয়ায় পিছিয়ে অভ্যন্তরীণ নৌপথ
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৩১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে আমদানি ও রফতানি পণ্যভর্তি ও খালি কন্টেইনার পরিবহনে বেশ পিছিয়ে রয়েছে নৌপথ। ব্যয় বেশি হলেও দ্রুত সময়ে পণ্য পাঠাতে সড়ক পথেই আগ্রহ বেশি শিল্পোদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের। এরপর ব্যবহৃত হচ্ছে রেলপথ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুর উৎপাত, পানগাঁও-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন জাহাজ চলাচল না করায় যথাসময়ে পণ্য পৌঁছতে অনিশ্চয়তা থাকায় অভ্যন্তরীণ নৌপথ তেমন নজর কাড়তে পারেনি আমদানি-রফতানিকারকদের কাছে।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স অ্যাসোসিয়েটসের পরিচালক নজিব উদ্দিন বলেন, ‘নৌপথের তুলনায় সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি। এরপরও দ্রুত সময়ের মধ্যে পণ্য পৌঁছানো বা বন্দরে নেওয়া সম্ভব হয় বিধায় সড়ক পথেই সবার আগ্রহ বেশি।’ অন্যদিকে সড়ক পথের তুলনায় খরচ কম হলেও রেলপথে পণ্যভর্তি কন্টেইনার এবং খালি কন্টেইনার পরিবহনে সক্ষমতার লিমিট রয়েছে। এরপরও রেলপথে সক্ষমতার পুরোটাই ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে এগিয়ে গেলে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাপক সুফল আসত। যার প্রভাব পড়ত বাজারে ভোক্তা পর্যায়েও।

শনিবার সকালে এ তথ্য জানান বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বন্দর থেকে পণ্য খালাস করার পর অথবা ডিপো থেকে পণ্য বন্দরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সড়ক পথকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হলো সড়ক পথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেশি পড়লেও দ্রুত সময়ের মধ্যে দিনে দিনে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পণ্য আনা-নেওয়া করা যায়। বৈরী আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি ও বেশি সময় লাগায় নৌপথে অনেকেরই আগ্রহ কম। সময় কমানো গেলে নিশ্চয়ই ব্যবসায়ীরা অভ্যন্তরীণ নৌরুটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।’ একই মত ব্যক্ত করে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতি বছর আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। নৌপথে পণ্য পরিবহনে একদিকে খরচ কম, অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধবও বটে। তাই সড়ক পথ ও রেলপথের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের কাছে নৌপথকেও আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর থেকে দেশের অভ্যন্তরে আমদানি ও রফতানি পণ্যভর্তি কন্টেইনার এবং খালি কন্টেইনার পরিবহনে রেলপথে সক্ষমতার প্রায় পুরোটাই ব্যবহৃত হচ্ছে। নৌপথেও আগের তুলনায় গতি বেড়েছে। নৌপথকে আকৃষ্ট করার জন্য আমরা পানগাঁও চালু করেছি।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে পুরো আমদানির ৭০ ভাগই ঢাকামুখী। এ কারণে সড়কে চাপ পড়ে, খরচও বেশি হয়। রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই আমরা সবসময় চাই যে পণ্যটা নৌপথে চলে যাক। পানগাঁও রুটে আমরা চার্জ কমিয়েছি। পানগাঁওগামী জাহাজের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম বন্দরের সব উদ্যোগ আছে। আমরা অনেক ধরনের সুবিধাও দিচ্ছি। পানগাঁও রুটে কেউ কার্গো নিলে তাদের জন্য স্টোর রেন্ট কম ও ল্যান্ডিং চার্জ কম। তারপরও ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হচ্ছে না। দ্রুত সময়ে পণ্য আনা-নেওয়া করার জন্য ব্যবসায়ীরা সড়ক পথই বেশি ব্যবহার করছেন।

পণ্য পরিবহনের তুলনামূলক চিত্র : চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে রেলপথে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৮৬২ টন, সড়ক পথে দুই কোটি সাত লাখ ২০ হাজার ১০৬ টন ও নৌপথে চার লাখ পাঁচ হাজার ২৮৮ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ২০১৮ সালে রেলপথে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৯০৩ টন, সড়কপথে তিন কোটি ৮০ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৩ টন ও নৌপথে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৯২৬ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে।

অন্যদিকে ২০১৯ সালে রেলপথে পাঁচ লাখ ২৪ হাজার ৩০৫ টন, সড়ক পথে দুই কোটি ৪৮ লাখ পাঁচ হাজার ৬০২ টন ও নৌপথে ছয় লাখ ৬২ হাজার ৮৪৯ টন পণ্য সারা দেশে আনা-নেওয়া করা হয়েছে। তার পরের বছর ২০২০ সালে রেলপথে ছয় লাখ ৪৮ হাজার ৪২৭ টন, সড়ক পথে দুই কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার ৭২৫ টন ও নদীপথে ৮ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৯ টনের মতো পণ্য আনা-নেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ২০২১ সালে রেলপথে ছয় লাখ ৯৭ হাজার ২৬০ টন, সড়ক পথে দুই কোটি ৬১ লাখ ১৯ হাজার ৯৪৪ টন ও নৌপথ ব্যবহার করে ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ টন পণ্যভর্তি কন্টেইনার পরিবহন করা হয়। যা বাড়ানো গেলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাপক সুফল পাওয়া যেত। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘চট্টগ্রামে অভ্যন্তরীণ নৌপথে কন্টেইনার পরিবহন শুরু হয় ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। ৯ বছর পার হলেও পণ্য পরিবহনে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ব্যবহারের বিষয়টি ব্যবসায়ীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারিনি। বন্দর থেকে নৌপথে ছোট জাহাজে কন্টেইনার আনা-নেওয়া হয় কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে ও সামিট অ্যালায়েন্সের নৌ টার্মিনালে। রেলপথে কন্টেইনার নিয়ে কমলাপুর ডিপোতে খালাস করা হয়। রেলপথে আগে মাসে ৫২টি কন্টেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করত। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫টিতে।’

তবে বন্দরে জাহাজ থেকে কন্টেইনার নামানোর পর বেশির ভাগই বন্দর বা ডিপো থেকে কন্টেইনার খুলে কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাকে করে সারা দেশে নেওয়া হয়। আবার রফতানি পণ্যের ৯০ শতাংশই সারা দেশের কারখানা থেকে কাভার্ড ভ্যানে করে চট্টগ্রামের ১৮টি বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে কন্টেইনারে ভরা হয়। এরপর বন্দর থেকে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়।

/এসকে


আরও সংবাদ   বিষয়:  নৌপথ  




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com