ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

কোনো পাপকে ছোট মনে করার সুযোগ নেই
মাহমুদ আহমদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 153

পাপ ছোট-বড় যেমনই হোক, পাপ পাপই। কোনো পাপকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা যে বিভিন্নভাবে পাপকাজ করেই যাচ্ছি এর জন্য কি কখনো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছি? আমরা কি মনে করে নিয়েছি আল্লাহ আমাদের পাকড়াও করবেন না? যদি মনে করি তিনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না, তাহলে এটা হবে আমাদের জন্য মারাত্মক ভুল। কেননা কতক সময় আল্লাহ তার বান্দাকে ছাড় দেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়ে থাকি। আর আমার কৌশল অতি শক্তিশালী’ (সুরা নুন : ৪৫)। তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আমি তাদের অজ্ঞাতে তাদেরকে ধীরে ধীরে পাকড়াও করব। আমি তাদের অবকাশ দিচ্ছি, নিশ্চয় আমার কৌশল অতি শক্ত’ (সুরা আরাফ : ১৮২-১৮৩)। আল্লাহ কখন কাকে ধরবেন তা আমরা কেউ বলতে পারি না। তাই আমাদের সবার উচিত নিজেদের পাপের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা-ইস্তেগফার করে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

আমরা যখন যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, ইচ্ছা করলেই আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করতে পারি। প্রতিদিন কত শত পাপ হয়ে যায়, আমাদের এ অনুভূতিও যেন নেই। এটা অনেক ভয়ের কারণ। দুনিয়াতে আল্লাহ ছাড় দিলেও আখেরাতে ছেড়ে দেবেন না। আখেরাতের অনন্ত জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ইস্তেগফারের বিকল্প নেই। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমি ভুল করেছি, তারপর আমার মাঝে অনুশোচনা হলো, আর আমি এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলাম এবং ইস্তেগফার করলাম আর আল্লাহ তায়ালাও আমাকে ক্ষমা করে দিলেন। তাই বলে বারবার ভুল করব আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকব তা কিন্তু ঠিক নয়।
 
মুমিন একই ভুল বারবার করেন না। আমাদেরকে এমনভাবে ইস্তেগফার করতে হবে, যেন আমার দ্বারা এমন ভুল দ্বিতীয়বার আর কখনো সংঘটিত না হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ঈমানদার ব্যক্তি একই গর্তে দুবার দংশিত হন না’ (বুখারি : ৬১৩৩)। এ হাদিসে মহানবী (সা.) মুমিনদের সতর্ক ও সচেতন জীবনযাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। মুমিন ব্যক্তি পাপের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে নিজেকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দিচ্ছেন- তোমরা যদি মুমিন হও, তবে কখনো অনুরূপ আচরণের পুনরাবৃত্তি কোরো না।’ (সুরা নুর : ১৭)

পাপ হয়ে গেলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করাও একটি ইবাদত। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির ওপর রাগান্বিত হন। আমাদের অনেকেরই এমন এমন অপরাধ রয়েছে, যা মানুষ জানলে সমাজে মুখ দেখাতে পারব না। কিন্তু আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সেগুলো ঢেকে রেখেছেন। এটি বান্দার প্রতি তাঁর অবারিত অনুগ্রহ মাত্র। কারণ তিনি চান বান্দা তওবা করে গুনাহমুক্ত হোক। এ জন্য আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পাপ-পুণ্যের ভাবনা ও হিসাব কষা একান্ত জরুরি। সবসময় আল্লাহ পাকের কাছে পাপের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে আর তাঁর শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। তিনি আমাদের না চাইতেও কত কিছুই না দান করছেন! আমরা যদি এসবের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন না করি, তাহলে অকৃতজ্ঞ হিসেবে পরিগণিত হব। আল্লাহ তওফিক দিন।



আরও সংবাদ   বিষয়:  পাপ   ছোট  




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com