ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

জন্মদিন আজ
সুরের আকাশে ধ্রুবতারা লতা মুঙ্গেশকর
শাহনেওয়াজ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 99

দীননাথ মুঙ্গেশকরের পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার আগের রাত। ১৩ বছর বয়সি লতাকে নিজের কাছে ডাকেন। চোখ দুটো তখন জলে ভাসছে। পুঁতির দানার মতো এক বিন্দু জল চোখের কোল বেয়ে পড়ল। আর লতার হাতে নিজের তানপুরাটি দিয়ে বললেন, ‘আমার তো তোমাকে দেওয়ার কিছু নেই। আশীর্বাদ আর এই তানপুরা হোক তোমার বন্ধু। অন্ধকার পথের দিশারি।’ তানপুরা হাতে পেয়ে লতাও কেঁদে ফেললেন। কাঁদতে কাঁদতে শপথ নিলেন, সংগীতকে কোনোদিন ছেড়ে যাবেন না। আজ এই মহান শিল্পীর জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৪২ সালের ২৪ এপ্রিলে পিতার মৃত্যু লতাকে অনেকটা বড় করে দেয়। এই বয়সে তার যত ইচ্ছে আর অনিচ্ছা ছিল সব বন্দি করে সংসারের দিকে নজর দিলেন। কারণ ছোট বোন আশা, উষার ক্ষুধার মুখ দেখতে রাজি নন। বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাকে যেতে হলো। পুনেতে নবযুগ ফিল্মস নামে একটি কোম্পানিতে কাজ নেন। আর কাজটি হচ্ছে গান আর অভিনয় করতে হবে। মাসে ১০০ টাকা। কষ্টে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। এরপরও লতাকে ঘরের প্রায় সব কাজ করতে হতো। 

হঠাৎ অফার এলো মারাঠি ছবিতে গান গাওয়ার। কিন্তু সেই গানটি ছবি থেকে বাদ দেওয়া হলো। তবে আরেক ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। সেই ছবিতে গান গেয়েছিলেন সে সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূরজাহান। নূরহাজান সময়-সুযোগ পেলেই লতার কাছে গান শুনতে চান। এভাবে একদিন গুলাম হায়দর নামে এক সংগীত পরিচালকের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি লতার মধ্যে অনন্ত সম্ভাবনা খুঁজে পান। লতাকে সঙ্গে নিয়ে যান চলচ্চিত্র শিল্পের এক মহারথীর কাছে। তিনি লতার গান শুনলেন। কিন্তু গলা নাকি খুব সরু, এই বলে তাকে ফিরিয়ে দিলেন। তবে গুলাম হায়দার লতাকে নিয়ে হাল ছাড়লেন না।

কয়েক দিনের মধ্যে লতার ডাক পড়ল ‘মজবুর’ নামে একটি ছবির গান গাওয়ার জন্য। এরপর লতাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পর্যায়ক্রমে গান গাওয়া শুরু হলো। মধুবালার লিপে সেই গান রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে গেল। আর সেই গানের কলি হচ্ছে, ‘আয়েগা আনেওয়ালা’। লতা মুঙ্গেশকরের প্রথম ছবির গানের পারিশ্রমিক ছিল ২৫ টাকা। এর পর তা উঠল ৮০০ টাকায়। একপর্যায়ে পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচ হাজার টাকা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এক দিনে ছয় থেকে আটটি গানও রেকর্ড করেছেন লতা মুঙ্গেশকর। এভাবে লতার জীবনে আসে যশ ও প্রতিপত্তি।

লতা মুঙ্গেশকরের গান শুনে জওহরলাল নেহরু কেঁদেছেন। কাঁদিয়েছেন শ্রোতা থেকে শুরু করে অনেক সংগীত পরিচালক, চলচ্চিত্র পরিচালককে। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, লতার জীবনে প্রেম এসেছিল। অভিনেতা সি রামচন্দ্র থেকে শুরু করে অনেকে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। অনেকে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একজনকে বিয়ে করবেন বলে পছন্দ করলেন, সেই পরিবারের আপত্তিতে আর বিয়ে হয়নি। তাই হয়তো লতা মুঙ্গেশকর তার আত্মজীবনীতে বলেছেন, ‘আমি সংগীতকে বিয়ে করেছি।’ একবার এক সংগীত পরিচালক বলেছিলেন, লতার হাঁচি হলে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সর্দি লেগে যায়।

লতা মুঙ্গেশকর যখন চলচ্চিত্র জগতে আসেন তখন এ আঙিনায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছিলেন নূরজাহান, শামশাদ বেগম, সুরাইয়া মুলতানিকার। দেশভাগের পর নূরজাহান পাকিস্তান চলে যান। আর সুরাইয়া গান গাওয়া বন্ধ করে দেন। লতা হিন্দি ছাড়াও ৩৮টি ভাষায় গান গেয়েছেন। তবে নিজে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার প্রথম বাংলা গান গাওয়ার পেছনে হেমন্ত মুখোপাধ্যয়ের অবদান বেশি।’ তিনি বাংলা ভাষায় মোট ২২৩টি গান গেয়েছেন।
লতা মুঙ্গেশকর তার কণ্ঠ দিয়ে যাদের চেনান তাদের মধ্যে মধুবালা, নার্গিস, সায়রা বানু, রেখা, রাখি, মীনা কুমারীসহ নতুন প্রজন্মের অনেক নায়িকা রয়েছেন। ভারতের সব প্রধানমন্ত্রীর প্রিয় গায়িকা ছিলেন লতা মুঙ্গেশকর। সাদা ছিল তার পছন্দের রং। তাই সাদা ছাড়া ভিন্ন আর কোনো রঙে নিজের সঙ্গে জড়াননি কিংবদন্তি লতা মুঙ্গেশকর। তিনি হতে চেয়েছিলেন রাগসংগীতশিল্পী। কিন্তু হতে পারেননি। আর এ আক্ষেপের কথা বলেছিলেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীকে।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com