ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির
তোফায়েল আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 97

বাংলার গণমানুষের নন্দিত নেত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ সারা দেশের মানুষ দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও আশীর্বাদ করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে দীর্ঘ চার দশক নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে জেল-জুলুম ও মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জনগণের রায় নিয়ে চার বার সরকারে অধিষ্ঠিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর কতিপয় বিশ্বাসঘাতকের হাতে সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্মমভাবে নিহত হন। ওই সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে যান। ’৮১-এর ১৭ মে নির্বাসন শেষে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেন। যেদিন প্রিয় নেত্রী স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে আসেন সেদিন শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, ছিল সর্বব্যাপী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ। স্বৈরশাসনের অন্ধকারে নিমজ্জিত স্বদেশে তিনি হয়ে ওঠেন আলোকবর্তিকা, অন্ধকারের অমানিশা দূর করে আলোর পথযাত্রী।

’৭৫-এর পর আওয়ামী লীগ যখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল তখন তিনি দলের হাল ধরেন। ’৮১-এর ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে আমরা জীবনপণ চেষ্টা করে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে আওয়ামী লীগের ঐক্য ধরে রেখে বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার ওপর দলের নেতৃত্বভার অর্পণ করে তার হাতেই তুলে দিয়েছিলাম দলের রক্তেভেজা সংগ্রামী পতাকা। কাউন্সিলে অনেক আলাপ-আলোচনার পর জাতীয় ও দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচন করা হয়। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে দলীয় ও জাতীয় ঐক্যের বৃহত্তর ও মহত্ত্বর প্রয়োজনে তার আগমন এবং নেতৃত্ব গ্রহণ। নেতৃত্ব গ্রহণের পর তাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মৃত্যুঝুঁকি নিয়েই তিনি রাজনীতি করছেন। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতেই দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তাবে শহীদের রক্তেভেজা দলীয় ও জাতীয় পতাকা স্বহস্তে তুলে নিয়ে প্রমাণ করেছেন সেদিনের কাউন্সিল অধিবেশনে গৃহীত আমাদের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। এরপর শতসহস্র আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত। স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়ার ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সফলভাবে কাউন্সিল অধিবেশন করার মাধ্যমে কায়েমি স্বার্থবাদীদের চক্রান্ত আমরা ব্যর্থ করেছিলাম। কাউন্সিলের সার্বিক সাফল্য কামনা করে শেখ হাসিনা এক বার্তায় বলেছিলেন, ‘আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে যান।’ বার্তাটি সাধারণ সম্পাদক আবদুুর রাজ্জাক অধিবেশনে পাঠ করে শুনিয়েছিলেন। ’৮১-এর ১৭ মে দেশে ফেরার আগে স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়ার নির্দেশে ‘শেখ হাসিনা আগমন প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলাম আমরা। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গণবিরোধী স্বৈরশাসকের ভিত কেঁপে উঠেছিল।

’৮১-তে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনবিরোধী গণ-আন্দোলন সংগঠিত করেন। সামরিক শাসকের নির্দেশে ’৮৩-এর ফেব্রুয়ারি তাকেসহ আমাদের শীর্ষ নেতাদের সামরিক গোয়েন্দারা চোখ বেঁধে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায় এবং বিনা কারণে একটানা ১৫ দিন আমাদের আটক রাখা হয়। ’৮৪-এর ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বরে নেত্রীকে পুনরায় গৃহবন্দি করা হয়। ’৮৫-এর মার্চে তাকে তিন মাস এবং আমাকে ছয় মাস বিনা বিচারে আটক রাখা হয়। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা সত্ত্বেও ’৮৬-এর ১০ নভেম্বর তিনি যখন সচিবালয় অবরোধ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখন পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গাড়িতে উপবিষ্ট থাকা অবস্থায় তার গাড়ি ক্রেন দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং পরদিন ১১ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে এক মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয়। ’৮৮-এর ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। সেদিন বঙ্গবন্ধু-কন্যাকে রক্ষায় বহু নেতাকর্মী প্রাণ বিসর্জন দেন। ’৯০-এর ২৭ নভেম্বর জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে অন্তরীণ করা হয়; প্রবল গণরোষের ভয়ে সামরিক সরকার ওই দিনই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর ’৯১-এর ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের প্রাক্কালে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ’৯৪-এ তার আহ্বানে ট্রেন মার্চের সময় ঈশ্বরদী রেল স্টেশনের উত্তর প্রান্তে বন্দুকধারীরা তার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। সেদিনও তিনি সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। ২০০৯-এর ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন ও নিউইয়র্ক টাইমসের ১৪-১৫ মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি থামব না, এসব ষড়যন্ত্র উদঘাটন করতেই হবে। আমি নিজের জীবনের জন্য ভীত হয়ে পড়লে গোটা জাতি ভীত হয়ে পড়বে। আমি জানি, কিছু বুলেট আমায় তাড়া করছে।’ ঘাতকের সর্বশেষ নিষ্ঠুর আঘাত এসেছিল ২০০৪-এর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে। সেদিন প্রিয় নেত্রী প্রাণে বেঁচে গেলেও জীবন দিতে হয়েছে আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মীকে। শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সর্বমোট ২১ বার হামলা হয়েছে। অকুতোভয় শেখ হাসিনার বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর মতোই অসীম সাহসী, চিত্ত তার ভয়শূন্য! 

২০০৮-এর নির্বাচনে রূপকল্প-২০২১-এ ঘোষণা করা হয়েছিল বাংলাদেশ হবে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং ‘মধ্যম আয়ের দেশ’। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব। ২০০৯ থেকে এই ১৩ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত। বিস্ময়কর উত্থান ঘটেছে বাংলাদেশের। ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আমরা ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হয়েছি। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের লাইসেন্সপ্রাপ্তির মাধ্যমে ‘নিউক্লিয়ার নেশন’ হিসেবে বাংলাদেশ আজ বিশ্ব পরমাণু ক্লাবের সদস্য। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করার পরেও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫,২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, করোনা অতিমারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ বিলিয়ন ডলার ও রফতানি আয় ৫২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া পায়রা বন্দর, গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনসহ বহু উন্নয়নমূলক কাজ এখন সমাপ্তির দিকে। অতিমারি ও যুদ্ধ না হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আট শতাংশ ছাড়াত। ২০২০-২১ অর্থবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় ২,৫৯১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়েছি।

২০২০-এ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ এবং ২০২১-এ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সারা দেশে সগৌরবে পালন করা হয়েছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে। জাতির পিতা দুটি লক্ষ্য নিয়ে রাজনীতি করেছেন। এক. বাংলাদেশের স্বাধীনতা, দুই. অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। সেই কাজটি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সততার সঙ্গে শেখ হাসিনা করে চলেছেন। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, শিল্প ও কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে, নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত গ্রামগুলো শহরে রূপান্তরিত হচ্ছে। একদা যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলেছিল, ‘বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি’, আজ তারাই বলে, ‘বিস্ময়কর উত্থান বাংলাদেশের’।

প্রিয় মাতৃভূমির স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে শেখ হাসিনার অঙ্গীকার, ‘৫০ বছরের গ্যাসের মজুদ না রেখে আমি গ্যাস রফতানি করব না।’ সেই অঙ্গীকার তিনি সমুন্নত রেখেছেন এবং দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে শক্তিশালী করেছেন। ’৯৬-এ রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বলাভের পর ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’, ‘গঙ্গার পানি চুক্তি’ করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার কথা ৩৪ হাজার কিউসেক, অথচ তারই দক্ষতায় শুষ্ক মৌসুমে ৬৪ হাজার কিউসেক পানি পাওয়া গেছে। ’৯৮-এর বন্যায় ভিজিএফ কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে বন্যার্ত তিন কোটি মানুষকে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সরবরাহ করেছেন। ’৯৬-এ তিনি যখন রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে তখন দেশের খাদ্য ঘাটতি ছিল ৪০ লাখ মেট্রিক টন। সেই খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে বাংলাদেশ খাদ্য রফতানিকারক দেশে উন্নীত হয়েছে। ধান, গম ও ভুট্টার ফলনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে অগ্রসরমাণ বাংলাদেশ। বর্তমান বিশ্বে প্রতি হেক্টর জমিতে গড় উৎপাদন প্রায় তিন টন আর বাংলাদেশে তা ৪.১৫ টন।

২০১৫-এর ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দি আর্থ’ প্রদান করা হয় তাকে। নির্যাতিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সারা বিশ্বে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধিতে পরিচিত হয়েছেন। ভারতের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লিটারেচার’ ডিগ্রি প্রদান করে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি ও সমুদ্রসীমা নির্ধারণ চুক্তি করেন শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতুতে রেলপথ, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেলপথ তারই অবদান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার প্রজেক্ট, মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট, মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, ঢাকা মেট্রোরেল, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দোহাজারি থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ এ সবই তার নেতৃত্বে যুগান্তকারী কাজ। বিগত বছরে রাজধানী ঢাকার উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। নয়নাভিরাম হাতিরঝিল প্রকল্প, চলাচলের সুবিধার জন্য নিত্যনতুন ফ্লাইওভার শেখ হাসিনার অবদান। দেশে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে শেখ হাসিনার দাবি অনুযায়ী ১/১১-এর সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়নে বাধ্য হয়েছিল।

তিনি নিয়মিত পড়াশোনা করেন। কেবিনেট মিটিংগুলোতে যথাযথ হোমওয়ার্ক করে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। যখন একটি বিষয় প্রস্তাব আকারে পেশ করা হয়, তখন সেই বিষয়ের খুঁটিনাটি বিষয় তিনি সভায় সবিস্তারে তুলে ধরেন এবং সঠিকভাবে প্রতিটি প্রস্তাবের ওপরে সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন। তার এই অবাক করা প্রস্তুতি আমাদের মুগ্ধ করে। উদয়াস্ত কাজ করেন। ভীষণ পরিশ্রমী, হাস্যোজ্জ্বল এবং আবেগময়ী মানুষ তিনি। ধর্মপ্রাণ হিসেবে প্রতি প্রত্যুষে তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করে কর্মদিবস শুরু করেন। বাবার মতোই গরিবের প্রতি দরদ অপরিসীম। বঙ্গবন্ধুর ফান্ড আমার কাছে থাকত। তিনি গরিব-দুঃখী মানুষকে সাহায্য করতেন। আমাকে নির্দেশ দিতেন তাদের সাহায্য করো। জাতির পিতার কন্যার কাছে গরিব-দুঃখী মানুষ যখন হাত পাতে বাবার মতো তিনিও তাদের সাহায্য করেন। আমাদের দেশে যারা বুদ্ধিজীবী-কবি-সাহিত্যিক-সমাজসেবক, তাদের বিপদ-আপদে পাশে দাঁড়ান তিনি। একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বহু পুরস্কার এবং খেতাবে তিনি বিভূষিত। বাবা-মায়ের মতো সাদামাটা জীবনে অভ্যস্ত শেখ হাসিনা সংস্কৃতিবান খাঁটি বাঙালি নারী।

বাংলার মানুষের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ এবং মমত্ববোধ, তার জ্যোতির্ময় বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা থেকে আহরিত। তবে এটা মনে করার কোনো কারণ নেই যে, তিনি কেবল বঙ্গবন্ধু-কন্যা হিসেবে পরিচিত, বরং আপন যোগ্যতায় স্ব-মহিমায় বাংলার কোটি মানুষের হৃদয়ে তিনি অধিষ্ঠিত। শুধু বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক নন, আন্তর্জাতিক নেতা হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি প্রতিষ্ঠিত। এবার জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনে পুনরায় বাংলায় বক্তৃতা প্রদানের মধ্য দিয়ে তিনি প্রিয় মাতৃভাষাকে গৌরবান্বিত করেছেন। বাংলার মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির লক্ষ্যে নিবেদিত প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম শুভ জন্মদিনে তার দীর্ঘ জীবন কামনা করি।
 
আওয়ামী লীগ নেতা,
সংসদ সদস্য




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com