ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

চৌদ্দগুণ ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প প্রস্তাব চউকের অর্থের নয়-ছয় কোনোভাবেই কাম্য নয়
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 88

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে গৃহীত একটি প্রকল্পে অর্থব্যয়ের ভুতুড়ে প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)। মূল প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার ড্রেন সম্প্রসারণে যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৮ লাখ টাকা, সংশোধিত প্রকল্পে এক লাফে সেটি হয়ে গেছে তিন কোটি ১৬ লাখ টাকা। একইভাবে মূল প্রকল্পে প্রতিটি সিল্ট ট্রাপের নির্মাণ ব্যয় ছিল ৭০ লাখ টাকা, এখন সেটি করতে চেয়েছে পাঁচ কোটি ২১ লাখ টাকায়।
এভাবে অনেক খাতে আগের ব্যয়ের চেয়ে দুই থেকে ১৪ গুণ পর্যন্ত বেশি ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়নে নেওয়া এ প্রকল্প সংশোধন করে মোট তিন হাজার ৯১০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে চউক। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মামুন আল রশীদ বলেন, ‘প্রকল্পটির কিছু কিছু ব্যয় অতিরিক্ত মনে হয়েছে। তারা যে হিসাব দিয়েছে আমাদের লোক দিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করাব। যাচাই করে যেটা করণীয় সেটা করব।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের চট্টগ্রাম জেলার সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী বলেন, ‘নানা গবেষণা করে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। এরপর ব্যয় এবং সময় ঠিক করে দেওয়া হয়। এরপরও প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয় অর্থলোপাট আর দুর্নীতি করার জন্য। এ প্রকল্পের নতুন করে কিছু ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা নেই। জলাবদ্ধতার কারণে খালে পড়ে চারজন মারা গেছেন। কাজ যথাসময়ে শেষ হলে এমনটা হতো না। জবাবদিহিতা ও সুশাসন না থাকলে জনগণের উপকার হবে না।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৭ সালে একনেক অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এরপর ব্যয় না বাড়িয়ে প্রকল্পটি প্রথমবার ২০২১ সাল পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপরও কাজ শেষ করতে না পারায় নতুন করে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মূল প্রকল্পে ব্যয় ছিল পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত ৯ হাজার ৫২৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে তিন হাজার ৯১০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বাড়ছে।

এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য নগরীর খালগুলো পরিকল্পিত পুনঃখনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা দূর করা। খালের দুই পারে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে খালের সীমানা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ করে খালের অবৈধ দখল বন্ধ করা এবং খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, ‘এ প্রকল্পের কাজের তথ্যাদি আমার জানা নেই। কাগজপত্র আমাদের কাছে থাকে না। প্রকল্পের খুঁটিনাটি সব বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক বলতে পারবেন।’ সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘তিনিও এ প্রকল্পের বিষয়ে কিছু জানেন না।’ এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মাঈনুদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তার মতামত জানা যায়নি। 
নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। যথাসময়ে কাজ শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকার পরও প্রকল্পটিতে বারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়াও প্রকল্পটিতে অর্থব্যয়ের অস্বাভাবিক প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু চউক যে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছে তাতে অস্বাভাবিক চাহিদা স্পষ্ট পরিলক্ষিত।

নির্মাণের মধ্যভাগে প্রকল্পটি নিয়ে উঠেছে নানা অসামঞ্জস্য প্রস্তাবনা। নতুন করে প্রকল্পটির যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারা, কেন এই অস্বাভাবিক বরাদ্দ প্রস্তাব দিলেন, তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। অর্থের নয়-ছয় কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নতুন বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে । আমরা সেই প্রত্যাশায় রইলাম।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com