ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

সংকটের শক্তি: শেখ হাসিনা
কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1199

এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রকৃতির রূপসী কন্যা বাংলাদেশকে যে মানুষটি প্রতিনিয়ত একটি সুন্দর আগামী উপহার দেওয়ার প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন, তিনি আর কেউ নন- আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন যখন দেশ অনিয়ম, অরাজকতা এবং দুর্নীতি চরম অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক সে সময় দেশ গড়ার শপথ নিয়ে রাজপথে নামেন বাংলাদেশের এই সুখ দুঃখের কাণ্ডারি।
 
শেখ হাসিনার তুখোড় নেতৃত্ব প্রায় ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগকে পুনরায় সরকার গঠনের সুযোগ করে দেয়। সরকার গঠনের পরপরই দেশের অরাজকতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হস্তে নেমে পড়েন এই দেশরত্ন। প্রথমেই শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার মত অসম্ভব কাজটি। সেই সাথে তিনিই প্রথম আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০৪০ পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে । 

শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে এবং দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে।শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প আজ সফল ভাবে বাস্তবায়িত। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন সড়ক বিশিষ্ট টানেল নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, দোহাজারী-রামু-ঘুমধুম রেল প্রকল্প, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রাবন্দর, বিদ্যুৎ নির্মাণ প্রকল্প, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে। প্রচণ্ড দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে এসব প্রকল্পের কাজ।
 
সেই সাথে বাংলাদেশের চলমান বন্যা ও এর প্রভাব মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে শেখ হাসিনা সরকার। বন্যায় বাংলাদেশের নদীগুলো ভয়ঙ্কর এবং খরস্রোতা রূপ নেয়। সেই সময় আমাদের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল প্লাবিত হয়। এছাড়াও প্রতিবছর বাংলাদেশে হানা দেয় সিডর, নার্গিসের মত ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়। যার কারণে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণের অর্থ বরাদ্দ রাখে এই সকল প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায়। গ্রামীণ পরিবারগুলোর দারিদ্র মোকাবিলায় শেখ হাসিনার নেওয়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ একটি যুগান্তরী প্রকল্প। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা সরকার বিপুল পরিমাণ গবাদি পশু বিতরণ করে। যার ফলে আজ বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবারগুলো অনেকটা স্বাবলম্বী। কৃষি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নেও এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অপরিসীম।
 
এদিকে কয়েক দশক ধরে নিপীড়নের শিকার হয়ে মিয়ানমারে বসবাসকারী প্রায় দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে প্রবেশ করলে তাদের মৌলিক চাহিদার পূরণের মত গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয় শেখ হাসিনা সরকার। তাদের আগমনের শুরু থেকেই, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে ও ইউএনএইচসিআরের সক্রিয় অংশগ্রহণে তাদের জীবনের মৌলিক ব্যবস্থা যেমন খাদ্য, বাসস্থান এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছে যেখানে রয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে সরকার জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে খুবই অনিচ্ছুক। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ক্রমবর্ধমান সংকটকে সহানুভূতির সাথে পরিচালনা করছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে চীন ও ভারতের সমর্থন দৃশ্যমান। তবুও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক এই শক্তিগুলোকে এই সংকটের একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানে আসতে রাজি করাতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। দুর্ভাগ্যবশত, উভয় দেশেরই মিয়ানমারে বিশাল কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। এমন কি রাশিয়াও এই ইস্যুতে মিয়ানমারের প্রতি অনেকটা সহানুভূতিশীল।
 
কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণেও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার অত্যান্ত চৌকস ভূমিকা পালন করেছে। দেশে কোভিড ভাইরাস প্রবেশের আগেই বাংলাদেশ অন্য দেশগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোভিড প্রবেশের সাথে সাথে শুরু হয় কঠোর লকডাউন। যার কারণে কোভিডে মৃত্যু হার অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। সেই সাথে দেশের জিডিপিও নিয়ন্ত্রণ করা হয় যথাযথ ভাবে। যেখানে করোনা মহামারী চলমান অবস্থায় অন্যান্য দেশ খাদ্য জোগান দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সেখানে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর তা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথা সময়ে নেওয়া সুপরিকল্পনার মাধ্যমে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের এই দীর্ঘ চলার পথে প্রতি পদে পদে বিপদ ও মৃত্যুর ঝুঁকি তাকে তাড়া করেছে। এই দেশরত্নকে ২১ বার তাকে হত্যার অপচেষ্টা করা হয়েছে। জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করে তিনি এগিয়ে চলেছেন এবং বর্তমানে তিনি সব দিক দিয়েই একজন পরিণত মানুষ। তিনি কেবল দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগেরই সভানেত্রী নন, তিনি সরকারপ্রধান হিসাবেও বেশি সময়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। পর পর ৩ বার বিজয়ী হয়েছেন তিনি। 

আশা করা যায় তিনি দেশকে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে যাবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করবেন। তার এই অসামান্য ভূমিকা- বিশেষত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট সকল সংকটকালীন মুহূর্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দৃঢ়তার সাথে মোকাবিলা করছেন তা বাংলার ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে। সেই একই দৃঢ়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ যেমন ৭৪ বছরে পদার্পণ করলেন, কামনা করি- সেই একই দৃঢ়তা নিয়ে তিনি বাংলাদেশকে নিয়ে যাক আরো অনন্য উচ্চতায়– যে উচ্চতায় বাংলাদেশকে দেখে কুর্নিশ করবে গোটা বিশ্ব – সমগ্র বিশ্বের জনগণ।

লেখক : সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com