ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

নভেম্বরের শেষে কুশিয়ারা থেকে পানি উত্তোলন সম্ভব
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১:৫১ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 162

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সর্বশেষ নয়াদিল্লি সফরে সেচকাজের জন্য কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নে আগামী অক্টোবরের শেষভাগে কাজ শুরু হবে। তার আগে চিঠির মাধ্যমে ভারতকে বিষয়টি জানানো হবে। আনুষ্ঠানিক সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে কুশিয়ারা থেকে পানি উত্তোলন সম্ভব হবে। এ ছাড়া দুই পক্ষের যৌথ নদী কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে যেসব নতুন সিদ্ধান্ত হয়েছে তা এগিয়ে নিতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় দুই দেশের কারিগরি কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ভারতীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দিয়েছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সেচকাজের জন্য কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের জন্য বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মারক সই এমনভাবে করেছে, যখনই স্মারকটি সই হয়েছে তখন থেকেই তা বাস্তবায়ন করা যাবে। কিন্তু তারপরও কুশিয়ারা নদীর যে অংশ থেকে পানি উত্তোলন করা হবে এবং নালা বা যে খাল দিয়ে উত্তোলিত পানি আসবে তা উন্নয়নের আগে ভারতকে চিঠি দিয়ে জানাতে হবে, যাতে কোনো বাধা না আসে। অন্যদিকে, ফেনী নদী থেকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুম অঞ্চলের জন্য ১৮২ কিউসেক খাবার পানি উত্তোলনের জন্য বিগত ২০১৯ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যে সমঝোতা সই হয়েছিল তা সামনে কার্যকর হবে। ফেনী নদী ইস্যুতে যখন সমঝোতা সই হয় তখন দুই পক্ষের প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে স্থান নির্ধারণ, মনিটরিং সিস্টেম, পানি উত্তোলনের জন্য পাম্পের ক্যাপাসিটি ইত্যাদি বিষয়ের নিষ্পত্তি না হওয়ায় সেই সমঝোতা এখনও কার্যকর হয়নি, যা আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) সূত্রে জানা গেছে, এখনও বর্ষা এবং নদীর পানিপ্রবাহ সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণে থাকায় পানি উত্তোলনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে সব প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি পানি উত্তোলনও সম্ভব হবে। তাই অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক মনে হলে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। যাতে কুশিয়ারা থেকে পানি উত্তোলনের প্রস্তুতি নিতে কোনো বাধা না আসে। সূত্রগুলো আরও বলছে, সর্বশেষ জেআরসি বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে কুশিয়ারা এবং ফেনী নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নিষ্পত্তি করার সম্মতি নেওয়ার পাশাপাশি দুই পক্ষের মধ্যে আরও প্রায় এক ডজন নদী ইস্যুতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নদী ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে শুধু পানির হিস্যা বণ্টনই নয়, নদীর পরিবেশ উন্নয়ন, বন্যার পূর্বাভাসসংক্রান্ত সহযোগিতা, যৌথ নদীর অববাহিকা থেকে পানি উত্তোলনসহ নদীর ইতিবাচক ব্যবহারের জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে- মহানন্দা, সারি গোয়াইন, হাওরা, সোমেশ্বরী, জাদুকাটা, ঝালোখালি, ধরলা, পিয়াইন, গঙ্গা, মনু, খোয়াই, গোমতী, মুহুরী ও দুধকুমার। এ ছাড়া দুই পক্ষের সই করা গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি আগামী ২০২৬ সালে শেষ হবে। ওই চুক্তিটি নবায়ন করতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। নদীসংক্রান্ত এসব বিষয় এগিয়ে নিতে জেআরসির কারিগরি কমিটি আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় বৈঠকে বসবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৬ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লি সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় এবং একান্ত বৈঠক করেন। ওইদিন ভারত প্রজাতন্ত্রের জলশক্তি মন্ত্রনালয় এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রতিটি ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারকটি আসাম সরকারকে সমঝোতা স্মারকটি শুষ্ক মৌসুমে (১ নভেম্বর-৩১ মে) কুশিয়ারা নদীর সাধারণ অংশ থেকে ১৫৩ কিউসেক পর্যন্ত পানি উত্তোলন করতে সক্ষম করবে। এছাড়াও  দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর পর দিন ৭ সেপ্টেম্বর যৌথ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। যৌথ বিবরণীতে দুই পক্ষের পানি সহযোগিতা ইস্যুতে বলা হয়, ভারতের ফেনী নদীর অনুরোধ বাংলাদেশ বিবেচনায় নিয়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি উত্তোলনের জন্য সমঝোতা স্মারক সই করার বিষয়টিকে দুই নেতা স্বাগত জানান। এর ফলে বাংলাদেশ সেচ সুবিধা পাবে এবং দক্ষিণ আসামে পানি প্রকল্পগুলোকে সহায়তা দেবে। পানি ব্যবস্থাপনার ব্যাপ্তি বাড়াতে যৌথ নদী কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন দুই নেতা। 

যৌথ নদী কমিশনের স্থায়ী সদস্য মাহমুদুর রহমান বুধবার সময়ের আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে কুশিয়ারা নদী থেকে পানি উত্তোলনের বিষয়ে নিষ্পত্তি হওয়ায় এখন আর কোনো সমস্যা নেই। এখনও বর্ষাকাল চলমান এবং কুশিয়ারা নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি। তাই এখনই পানি উত্তোলন করা যাচ্ছে না।’ এ নদী থেকে পানি উত্তোলন কবে নাগাদ শুরু হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পানি উত্তোলনের আগে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে। তার জন্য নদী থেকে উত্তোলন করা পানি যে খাল দিয়ে আসবে তার মুখের বাঁধ কাটতে হবে। খালের মুখের বাঁধ কাটার আগে কূটনৈতিক চ্যানেলে তা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জানানো হবে। আশা করছি, সব প্রস্তুতি শেষে সামনের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হবে।’



আরও সংবাদ   বিষয়:  কুশিয়ারা   পানি উত্তোলন   ভারত   




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com