ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২ ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার মঙ্গলবার ৬ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

মৃত্যুচিন্তা সততার পথে চালিত করে
নাঈমুল হাসান তানযীম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ২:০৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 264

মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এক সত্য। পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর আর দাম্ভিক ব্যক্তিটিও এ সত্যকে উপেক্ষা করতে পারে না। আমাদের প্রত্যেককেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। এর থেকে রেহাই পাবে না কেউই। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং কেয়ামতের দিন তোমরা পূর্ণ বদলাপ্রাপ্ত হবে। অতঃপর যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে ব্যক্তি হবে সফলকাম। বস্তুত পার্থিব জীবন প্রতারণার বস্তু ছাড়া কিছুই নয়’ (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫)। মৃত্যুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা থেকে কেউই বাঁচতে পারবে না। যখন যার চলে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় ঘনিয়ে আসবে তাকে চলে যেতেই হবে। এর থেকে পালাতে পারবে না কেউই। যতই সুরক্ষিত আর মজবুত দুর্গে অবস্থান করুক না কেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যেখানেই তোমরা থাক না কেন, মৃত্যু তোমাদের পাকড়াও করবেই। এমনকি যদিও তোমরা অবস্থান করো সুদৃঢ় দুর্গে।’ (সুরা নিসা : ৭৮)

মৃত্যু মানে পার্থিব এই মায়াবী জগৎ ছেড়ে যাওয়া। মৃত্যু মানে আত্মা ও শরীরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলা। মৃত্যু মনে মানুষের আসল ও অনন্ত জীবনের পথে এগিয়ে চলা। অর্থাৎ পার্থিব জীবন থেকে পরকালীন জীবনে পা বাড়ানোর মাধ্যম হলো মৃত্যু। মৃত্যুর কোনো অভিজ্ঞতা হয় না। কোনো মানুষ মৃত্যুবরণের পর ফিরে আসে না। ফিরে এসে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার কোনো সুযোগও থাকে না। মৃত্যু একবার হয়। এই জগৎ থেকে পরলোকে নিয়ে যায় মৃত্যু। মৃত্যু এক অনিবার্য সত্য। দুনিয়ার কোনো শক্তি তা আজ পর্যন্ত ফেরাতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। এটাই অনিবার্য সত্য। দুনিয়ার জীবন কেউ ধরে রাখতে পারে না। সময়ে একে বরণ করেই নিতে হয়। মৃত্যু কোনো অপরিচিত বস্তু নয়। প্রতিদিন মানুষ ঘুমায়। আর এই ঘুমের মধ্যে তার মৃতপ্রায় অবস্থা হয়। প্রতিদিনই মানুষ একটু একটু করে মারা যায়। একদিন চূড়ান্তভাবে, পরিপূর্ণভাবে মারা যাবে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘মৃত্যু এলে আল্লাহ প্রাণ হরণ করেন। আর যারা জীবিত, তাদেরও তিনি চেতনা হরণ করেন ওরা যখন নিদ্রিত থাকে। তারপর যার জন্য মৃত্যু অবধারিত, তিনি তার প্রাণ রেখে দেন আর অন্য জনকে এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চেতনা ফিরিয়ে দেন। এর মধ্যে তো চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে।’ (সুরা জুমা : ৪২)

মৃত্যু যেহেতু আমাদের প্রতিটি মানুষের বাস্তবতা, তাই সর্বাবস্থায় মৃত্যুর কথা ভাবতে হবে। হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা সব মুহূর্তেই আমাদের স্মরণে রাখতে হবে মৃত্যুর কথা। কারণ কখন যে কার বিদায়ের ডাক চলে আসে কেউই সেটা জানি না। আমাদের কাছে সেটা অজানা থাকলেও তকদিরে সে ক্ষণ ও মুহূর্ত ঠিকই নির্দিষ্ট করা আছে। অকালমৃত্যু বলতে কিছু নেই। সবাই তকদিরে লিখিত সুনির্দিষ্ট সময়েই মৃত্যুবরণ করবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আল্লাহর হুকুম ব্যতীত কারও মৃত্যু হতে পারে না। কেননা তা সুনির্ধারিত।’ (সুরা আলে ইমরান : ১৪৫)  মৃত্যু নিয়ে আমরা যত বেশি চিন্তা-ফিকির করব ততই আমাদের ঈমান বৃদ্ধি পাবে। মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবন কেমন হবে। কবরে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। সৎ হলে কী মিলবে অসৎ হলে কী ভয়ানক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেমন হবে বিচার দিবসের অবস্থা। কী পুঁজি নিয়ে দাঁড়াব আল্লাহ তায়ালার দরবারে- এসব যদি নিত্য ভাবি তাহলে অবশ্যই আমাদের ঈমান তাজা হবে। অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি হবে। মানুষের প্রতি অন্যায় আর জোর-জুলুমের অনুশোচনা জাগ্রত হবে মনের ভেতর। বেশি বেশি কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারত করলেও মৃত্যুর কথা স্মরণ হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) কবরস্থানে গিয়ে কাঁদতেন। ফলে তার দাড়ি ভিজে যেত। তাকে বলা হলো, জান্নাত-জাহান্নামের কথা শুনে আপনি কাঁদেন না, অথচ কবরে এসে কাঁদেন?’ জবাবে তিনি বলেন, ‘কবর হলো আখেরাতের প্রথম মনজিল। যদি কেউ এখানে মুক্তি পায়, তাহলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যায়। আর এখানে মুক্তি না পেলে পরের মনজিলগুলো তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। অতঃপর তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কবরের চেয়ে ভীতিকর দৃশ্য আমি আর দেখিনি।’ (তিরমিজি)

মৃত্যুচিন্তা অন্তরে ইখলাস নিয়ে আসতে সাহায্য করে। বান্দাকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে আমল করতে উৎসাহী করে। তখন আর লোক-দেখানো মনোভাব থাকবে না। কারণ সে যেকোনো কাজ করার পূর্বে এ কথা চিন্তা করবে যে, হয়তো এটাই আমার জীবনের শেষ আমল; তখন সে সযত্নে প্রভুর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আমল করবে। মরণের ভাবনা তাকে বাধ্য করবে আল্লাহর জন্য ইবাদত করতে। আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে সংক্ষেপে কিছু শিক্ষা দিন। তিনি বলেন, ‘যখন তুমি তোমার নামাজে দাঁড়াবে, তখন এমনভাবে নামাজ আদায় করো, যেন এটাই তোমার শেষ নামাজ। তুমি এমন কথা বলো না, যার জন্য তোমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে। আর মানুষের হাতে যা আছে তা থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও’ (ইবনে মাজা : ৪১৭১)। কোনো মানুষ যখন মৃত্যুর চিন্তায় চিন্তিত হবে, তখন সে ভালো পথে হাঁটার চেষ্টা করবে। অসৎকর্মের দিকে পা বাড়াবে না। আল্লাহর প্রতি অভিমুখী হবে। যেসব জিনিস অন্তরকে কলুষিত করে তা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তওফিক।




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com