ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

ফিজার প্রথম স্কুল
আজাদ চৌধুরী
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২, ১২:৫৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 73

ফিজা আজ প্রথম শ্রেণির প্রথম পাঠ নিতে বিদ্যালয়ে যাবে। তাই ও খুব সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। আজই প্রথম সে বড় দুই বোনের সঙ্গে একসঙ্গে নাশতা খেতে বসেছে। নাশতা খাওয়া হলে ফিজা দাঁত ব্রাশ করে ব্যাগ গোছাতে থাকে। দেখে নেয় তার বই-খাতা, কলম-পেনসিল, কাটার, রাবার, স্কেল ব্যাগে আছে কি না।

ব্যাগ দেখা হলে ফিজা মাকে বলে, ‘মা, আমার টিফিন কই? আর পানির পট?’ ‘এই তো দিচ্ছি, তুমি ড্রেস পরো’, বলেন ফিজার মা। 

সাতটা বাজতেই ফিজা ওর মায়ের সঙ্গে বিদ্যালয়ের দিকে রওনা দেয়। সঙ্গে ওর বড় দুই বোন আলিফ ও মীমও আছে। সাড়ে সাতটার ভেতর বিদ্যালয়ে ঢুকতে হবে। অ্যাসেমব্লিতে অংশ নিতে হবে। সব মিলিয়ে ফিজা ভারি উত্তেজিত।

বিদ্যালয়ে ঢোকার আগে ফিজার মা বলেন, ‘দুষ্টুমি করবে না। মন দিয়ে ম্যাডামের কথা শুনবে। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলবে। মনে রেখো, আজ স্কুলে তোমার প্রথম দিন।’
ফিজা বলে, ‘ঠিক আছে মা। আল্লাহ হাফেজ।’ 

মায়ের কাছে বিদায় নিয়ে ফিজারা তিন বোন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। তাদের মা দাঁড়িয়ে থেকে হাত নাড়েন।

ফিজার বড় বোন আলিফ বলে, ‘চলো, তোমাকে তোমার ক্লাস রুমে দিয়ে আসি।’
ফিজা হাসিমুখে ক্লাস রুমে ঢুকে রোল নম্বর অনুযায়ী তার সিটে বসে। তার বাম পাশের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার নাম কী?’ 
মেয়েটি জবাব দেয়, ‘হাবিবা।’

ডান পাশের মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করতেই বলে, ‘আমি কথা।’ 

‘আর আমি ফিজা’, বলে ফিজা ওদের দুজনের সঙ্গে হাত মেলায়। তারপর বলে, ‘চলো অ্যাসেমব্লিতে যাই।’ 
নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে ফিজা অ্যাসেমব্লিতে অংশ নেয়। 

অ্যাসেমব্লিতে পিটি করতে গিয়ে ফিজার ভারি ভালো লাগে। হাত-পা ছুড়ে পিটি করতে গিয়ে ব্যায়ামের মতো লাগে তার। পিটি শেষে জাতীয় সংগীত; ফিজা দরদ দিয়ে জাতীয় সংগীত গায়। তারপর সারিবদ্ধ হয়ে ক্লাস রুমের দিকে যাত্রা। ফিজা হাবিবা ও কথার সঙ্গে কথা বলতে বলতে ক্লাস রুমে ঢোকে। 
ঠিক আটটার সময় ক্লাস রুমে আসেন মিস। তিনি এসে বলেন, ‘আমি আফরিনা। তোমাদের ক্লাস টিচার। বাংলা পড়াব। আজ প্রথম দিন। তাই সবার আগে পরিচয় জানা যাক। তোমরা একে একে পরিচয় বলবে। সবার আগে যার রোল নম্বর সবার শেষে সে তার পরিচয় দাও।’ 
সবাই চুপ হয়ে থাকে সবার শেষ রোল যার, তার পরিচয় জানার জন্য। কিন্তু যার রোল নম্বর সবার শেষে সে তার পরিচয় না দিয়ে চুপ হয়ে থাকে। তখন মিস বলেন, ‘ফারিহা কে দাঁড়াও।’
ফারিহা নামের মেয়েটি বোকা বোকা চেহারা নিয়ে দাঁড়ালে ফিজা ফিক করে হেসে দেয়। তারপরই জিভে কামড় দেয়।
ফিজার হাসির শব্দে মিস অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকান। তারপর বলেন, ‘কে হাসল? দাঁড়াও।’ 
ফিজা তখন লজ্জিত মুখে দাঁড়ায় এবং বলে, ‘সরি মিস।’
ক্লাসের সবার দৃষ্টি তখন ফিজার দিকে। 
মিস বলেন, ‘সরি বলার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু তুমি হাসলে কেন, সেটি বলো।’ 

ফিজা তখন বলে, ‘মিস, আপনি যে বললেন সবার শেষে যার রোল নম্বর তাকে তার পরিচয় বলতে; কিন্তু ও তো বুঝতেই পারেনি ওর রোল নম্বর সবার শেষে। তাই আমার হাসি পেয়েছে।’ 
ক্লাসের অন্যরা তখন বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে ফিজার দিকে। 
মিস বলেন, ‘তুমি কী করে জানলে?’

ফিজা বলে, ‘এটা তো খুব সহজ। প্রতিটি ক্লাসে ৮০ জন করে, আমাদের ক্লাসে রোল নম্বর ৮১ থেকে শুরু হয়েছে। তাহলে যার রোল নম্বর ১৬০, সে-ই তো সবার শেষে থাকবে।’
ফিজার কথা শুনে মিস বলেন, ‘বাহ! তোমার তো বেশ বুদ্ধি। তোমার নাম কী?’
‘আমার নাম ফিজা।’ 

মিস যেন খুব মজা পেয়েছেন, তাই রসিকতা করে বলেন, ‘কি বললে, পিজ্জা? হট না কুল?’

মিসের রসিকতায় ক্লাসের সবাই হেসে ওঠে। ফিজাও বুঝতে পারে ব্যাপারটি। তাই সে বলে, ‘পিজ্জা নয়, ফিজা, এফ আই জেড এ। মানে তরঙ্গ। জলতরঙ্গ বলতে পারেন।’
শুনে মিস বলেন, ‘বাহ! আসলেই তোমার অনেক বুদ্ধি। আজ থেকে তোমাকে বুদ্ধিমতী ফিজা বলে ডাকব। ঠিক আছে?’
মিসের কথায় ফিজা বলে, ‘জি ম্যাম, আপনার যেমন ইচ্ছে।’ 

ফিজার কথা শুনে মিস বলেন, ‘ওরে বাবা! তুমি তো কথাও বলো সুন্দর করে। এবার তাহলে শুরু করা যাক পরিচয়ের পালা।’
এরপর একে একে সবাই তাদের পরিচয় দিতে থাকে। পরিচয় পর্ব শেষ হতে-না-হতেই ক্লাস শেষের ঘণ্টা বেজে ওঠে। আর মিস যেতেই সবাই হল্লা শুরু করে।
ফিজা হাবিবাকে বলে, ‘ওয়ার্ড পাজল খেলবি?’

হাবিবা ও কথা ওয়ার্ড পাজল খেলতে রাজি হওয়ায় ফিজা খাতার পেছনে পাজলের জন্য ঘর কাটতে থাকে। পাজলের ঘর তৈরি হতে-না-হতেই ক্লাসে এসে ঢোকেন ইংরেজির মিস। তিনি এসে বলেন, ‘কেমন আছো তোমরা? আমি রাফিজা, তোমাদের ইংরেজি পড়াব। তার আগে তোমাদের পরিচয় জেনে নিই।’
ইংরেজি ক্লাস শেষে পনেরো মিনিটের টিফিন বিরতি পেয়ে ফিজা তার টিফিন বের করে; হাবিবা ও কথাও তাদের টিফিন বের করে। ফিজা এনেছে আপেল ও কমলা। হাবিবা বার্গার আর কথা ভেজিট্যাবল রোল। 
হাবিবা ও কথার টিফিন দেখে ফিজা বলে, ‘তোদের টিফিন কি কেনা?’
হাবিবা ও কথা দুজনই মাথা নেড়ে সায় জানায়। 
ফিজা অবাক হয়ে বলে, ‘তোরা জানিস না বাইরের কেনা ফাস্টফুড খেলে কি হয়?’
হাবিবা জানতে চায়, ‘কী হয়?’ 
ফিজা বলে, ‘শরীর খারাপ হয়। বুদ্ধি কমে যায়। আরও কত অসুখ-বিসুখ হয়। বাসার টিফিন খাবি। মাকে বলবি বানিয়ে দিতে।’ 
কথা বলে, ‘তুই এসব জানলি কী করে?’ 
জবাবে ফিজা জানায়, ‘বাবার কাছ থেকে। বাবা অনেক বই পড়েন। পত্রিকা পড়েন। সেসব পড়ে বাবা আমাদের বলেন কী করতে হবে আর কী করতে হবে না। বাবা বলেন, সুন্দর-সুস্থ থাকতে হলে ইচ্ছা আর চেষ্টা থাকতে হবে। নে, এখন টিফিন খা। তোরা যেহেতু বাইরের টিফিন এনেছিস, তাই তোদেরটা আমি খাব না; কিন্তু তোরা আমারটা খেতে পারিস।’ 
টিফিনের পর অঙ্ক ক্লাস আর অঙ্ক ক্লাস শেষে ছুটি। সেই সঙ্গে শেষ হয় ফিজার প্রথম দিনের স্কুলের পাঠ। ছুটি হতেই ফিজা হাবিবা ও কথার সঙ্গে ক্লাস থেকে বের হয়ে আসে। নতুন বন্ধু পেয়ে তার খুব আনন্দ হয়। কথা ওদের থেকে বিদায় নেয়। আর ফিজা হাবিবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে ক্যাম্পাসের বাইরে চলে আসে। হাবিবার মা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। হাবিবা আসতেই তিনি তাকে নিয়ে বাসার দিকে রওনা দেন।
কিছুক্ষণ পর হাবিবার মা খেয়াল করেন হাবিবার সঙ্গে একটি মেয়ে কথা বলতে বলতে তাদের সঙ্গে চলছে। তিনি তখন জানতে চান, ‘তুমি আমাদের সঙ্গে কেন? তোমার সঙ্গে কেউ নেই? তুমি কি একা একা বাসায় যাবে?’ 

ফিজা তখন বুঝতে পারে সে কী ভুল করেছে। তাই সে বলে, ‘আন্টি ভুল হয়ে গেছে। মা বলেছিল ছুটির পর ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকতে। হাবিবার সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি চলে এসেছি। সরি আন্টি। আন্টি, আপনি কি মাকে একটা ফোন কল দিতে পারেন? আমি মায়ের নম্বর জানি।’
হাবিবার মা বলেন, ‘তুমি তোমার মায়ের মোবাইল নম্বর মুখস্থ করে রেখেছো?’
ফিজা বলে, ‘বাবারটাও জানি।’

হাবিবার মা বলেন, ‘বাহ্! ভালো, খুব ভালো। দেখলে হাবিবা, তোমার নতুন বন্ধু কত স্মার্ট?’
হাবিবা বলে, ‘হ্যাঁ, আজ ক্লাসে মিস ওকে খুব পছন্দ করেছেন। বুদ্ধিমতী বলেছেন।’

হাবিবার মা বলেন, ‘তাই নাকি! ভালো।’ এরপর হাবিবার মা ফিজার মাকে কল দিয়ে ঘটনা জানান। 
মা এলে ফিজা বলে, ‘মা, ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো এমন হবে না। তোমাকে না দেখলে বের হব না।’

ফিজার মা বলেন, ‘ঠিক আছে, মনে থাকে যেন। এখন তুমি একটা কাজ করবে। আমাকে বাসায় নিয়ে যাবে। দেখি তুমি একা একা বাসায় যেতে পারো কি না। এটা তোমার পরীক্ষা।’ 
রাস্তার বাম পাশ দিয়ে খুব সাবধানে এগিয়ে চলে ফিজা, পেছনে পেছনে তার মা খেয়াল রাখেন মেয়ে কী করছে। একসময় ফিজা তাদের বাসার সামনে এসে দাঁড়ায়। 
ফিজার মা কাছে এসে বলেন, ‘গুড, ভবিষ্যতে জরুরি মুহূর্তে এভাবেই বাসায় চলে আসবে। কিন্তু মনে রেখো, এটি কেবল একটি পরীক্ষা ছিল। স্কুল থেকে একা একা বাসায় চলে আসার জন্য নয়।’ 
ফিজা বলে, ‘ঠিক আছে মা, মনে থাকবে। জানো মা, আজ স্কুলে অনেক মজা হয়েছে।’
‘তাই! ঠিক আছে, খাওয়ার পর সে গল্প শুনব।’
‘আচ্ছা।’





https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com