ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

এক বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৩৮ শতাংশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ৫:৩৭ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 66

করোনার পর থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অভ্যস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। গ্রাম এবং শহর এলাকায় এ হার নিয়মিত বাড়ছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। অপরদিকে একই সময়ে লেনদেন বেড়েছে ৪০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেখা গেছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদকৃত তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে আট হাজার ২৭৬ কোটি টাকারও বেশি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৩৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আমানতের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। যা চলতি বছর সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শহর এলাকায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৮২ কোটি টাকা। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে একই সময়ে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রাম এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ হয় ২৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে আমানত সংগ্রহ করে শহর এলাকায় চার হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা এবং গ্রাম এলাকায় ১৭ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা।

একই সময়ে লেনদেনও বেড়েছে এ খাতে। এক বছরের ব্যবধানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তথ্য মতে, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে লেনদেন বেড়েছে ১৬ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আগের বছরে লেনদেন ছিল ৪২ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা এ বছর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শহর এলাকায় লেনদেন হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দুই হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা বেশি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে শহর এলাকায় লেনদেন হয় ৯ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। গ্রাম এলাকায় চলতি সেপ্টেম্বরে লেনদেন হয় ৪৭ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বেশি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছিল ৩৩ হাজার দুই কোটি টাকা।

শুধু লেনদেন এবং আমানতেই নয়, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসায় চলছে এক নীরব বিপ্লব। প্রায় প্রতিটি খাতেই সূচক বেড়েছে এ খাতে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাত থেকে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৬৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের বছরে একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ৪৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ সময়ে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২২৩ কোটি টাকারও বেশি। ঋণ বিতরণেও শহরের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে গ্রামাঞ্চল। চলতি সেপ্টেম্বরে মোট ঋণের ২৪০ কোটি টাকা বিতরণ হয় শহরে অপরদিকে গ্রামে বিতরণ হয় ৪৪৪ কোটি টাকা। আগের বছরের সেপ্টেম্বরে শহর এলাকায় ঋণ বিতরণ হয় ১৭১ কোটি টাকার এবং গ্রামে ২৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়। সব সূচকে এগিয়ে থাকলেও ইউটিলিটি বিল প্রদানে কমেছে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবহার। এ মাধ্যমে চলতি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিল বিতরণ হয়েছে ১৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার। যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শহর এলাকায় এ সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ইউটিলিটি বিল প্রদান করা হয় ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার এবং গ্রামাঞ্চলে বিল প্রদান করা হয় ১২২ কোটি ৭০ লাখ টাকার। এদিকে আগের বছর সেপ্টেম্বরে শহরাঞ্চলে বিল প্রদান করা হয় ১১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার এবং গ্রামে বিল প্রদান হয় ১৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকার।

চলতি বছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ প্রবাসী আয় সংগ্রহ কমেছে। অবশ্য চলতি বছরের তুলনায় আগের বছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় পাঠানোর হার বেশি ছিল প্রবাসী শ্রমিকদের। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয় দুই হাজার ৪৩৪ কোটি টাকার। যা আগের বছরের তুলনায় ১৫২ কোটি টাকা। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয়েছিল দুই হাজার ৫৮৭ কোটি টাকার। চলতি বছর শহর এলাকায় রেমিট্যান্স সংগ্রহ হয় ২৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার এবং গ্রামে এর পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। অপরদিকে আগের বছরের একই সময়ে শহরে প্রবাসী আয় সংগ্রহ হয় ৩৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকগুলো সংগ্রহ করে দুই হাজার ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স। আলোচিত সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের পরিমাণও বেড়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এজেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে শহরে এজেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৪৩টি এবং গ্রামে এর সংখ্যা ১২ হাজার ৪৭৩টি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা এক হাজার ২৪৯টি বেশি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এর সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৪৬৭টি। এর মধ্যে শহরের এজেন্ট সংখ্যা ছিল এক হাজার ৮৮৫টি এবং গ্রামে ছিল ১১ হাজার ৫৮২টি।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে নারীদের অংশগ্রহণ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এজেন্ট ব্যাংকের নারী সদস্যের সংখ্যা ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৩০৯টি এবং পুরুষ এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮০টি। এর মধ্যে আগের বছর একই সময়ে নারীদের সংখ্যা ছিল ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৯টি এবং পুরুষ হিসাবের সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৭টি। এর মধ্যে শহর এলাকায় নারী হিসাব সংখ্যা ১৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৪টি এবং গ্রামে এর সংখ্যা ৬৮ লাখ ২৭ হাজার ২৫৫টি। অপরদিকে পুরুষ এজেন্টের হিসাব ছিল শহরে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৯৫৭টি এবং গ্রামে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৫২৩টি।


আরও সংবাদ   বিষয়:  এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে   আমানত বেড়েছে  




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com