ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

জি-২০ সম্মেলনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
মো. হাসান তারেক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৫০ এএম আপডেট: ২৪.১১.২০২২ ১:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 62

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলোর দুদিনের জি-২০ সম্মেলন শুরু হয়েছিল গত ১৫ নভেম্বর। জি-২০ বা গ্রুপ অব টোয়েন্টি হলো বিশ্বের প্রধান প্রধান উন্নত এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর ফোরাম। ফোরামটি বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি প্রশমন এবং স্থিতিশীল উন্নয়নের মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়ে আলোচনার প্ল্যাটফর্ম। জি-২০ গোষ্ঠীর দেশগুলো বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৮৫ শতাংশের নিয়ন্ত্রক। বৈশ্বিক বাণিজ্যেরও ৭৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা। পাশাপাশি মানব সম্পদেও ভরপুর এই গোষ্ঠী। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এই গোষ্ঠীর সদস্যগুলোর বাসিন্দা।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয়েছিল গ্রুপ অব টোয়েন্টি বা জি-২০। এটি মূলত বিভিন্ন রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের একটি সভা ছিল। সভার লক্ষ্য ছিল, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক সংকট সমাধানের জন্য কার্যকরী নীতিমালা রচনা। বর্তমানে এই ফোরামের শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিটি সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে থাকেন। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিভক্তি সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোটকে সহায়তা করার পদক্ষেপ নিতে স্বাগতিক ইন্দোশিয়ার জানানো আহ্বানের মধ্য দিয়ে এবারের এই সম্মেলন শুরু হয়েছিল। এবারের জি-২০ সম্মেলনের স্লোগান ছিল ‘একসঙ্গে ফিরে আসা, শক্তিশালীভাবে ফিরে আসা’।

বালি সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো বলেন, ‘বিশ্বকে বাঁচাতে যুদ্ধ বন্ধ করা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে ভাগ করা মোটেও ঠিক হবে না। যুদ্ধ বন্ধে জি-২০ জোটকে অবশ্যই প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া যাবে না।’ তা ছাড়া, এই সম্মেলনের ১৬ পাতার একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ সদস্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান এই যুদ্ধের তীব্র নিন্দা করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে এ যুদ্ধ অপরিমেয় মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে বেশ চাপে ফেলছে। জি-২০ সম্মেলনে আগত সব নেতা যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের যে সমাধান চাইছেন এটি এই সম্মেলনের একটি বড় প্রাপ্তি।

এবারের জি -২০ সম্মেলনে এসে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বহুল প্রতীক্ষিত এই শীর্ষ বৈঠকটি এমন এক সময় হলো যখন বিশ্বের এই দুই শীর্ষ অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে সম্পর্ক বেশ তিক্ত। ২০২১ সালে জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথমবার দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। এর আগে একাধিকবার ফোন বা ভিডিও কলে কথা হলেও সশরীর বৈঠক হয়নি। তিন ঘণ্টার এই বৈঠকের ফলে দুই বৈরী রাষ্ট্রের সম্পর্কের কিছু গুণগত পরিবর্তন হতে পারে বলে আশা করা যায়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, জো বাইডেন এ বৈঠকের সময় শি জিনপিংকে বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলবে কিন্তু তা সংঘাতে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়।’ চীনা প্রেসিডেন্ট এ বৈঠকে জো বাইডেনের সঙ্গে একমত হন যে, ইউক্রেনের যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার কখনোই হওয়া উচিত নয়।

বালি সম্মেলনের আরেকটি বড় প্রাপ্তি হচ্ছে, এই সম্মেলনে বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের ফলে সারা বিশ্বে যে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে তা মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে একমত পোষণ করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং খাদ্য ও জ্বালানির ‘অস্ত্রায়নের’ বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন সদস্য দেশগুলোকে। তা ছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার এবং খাদ্যশস্যের স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তা ছাড়া এই সম্মেলনে আরও বিস্তর আলোচনা হয়েছে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতি, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার হুমকি নিয়ে। 

জি-২০ সম্মেলনে প্রকাশের জন্য তৈরি করা একটি ব্লগে আইএমএফ বলেছে, বিশ্ব অর্থনীতির সূচকগুলো আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত করছে, বিশেষ করে ইউরোপে। জি-২০-ভুক্ত অধিকাংশ দেশের উৎপাদন ও সেবা খাতের সূচকগুলো ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। টানা কয়েক মাস ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। আর তাতে পুরো বিশ্ব অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই সম্মেলন থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন এই সংকট থেকে নিস্তার পাওয়ার লক্ষ্যে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবারের সম্মেলনে। 

এই সম্মেলন শুরুর আগে জোটের স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রীরা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, আগামীতে যেকোনো মহামারি মোকাবিলার লক্ষ্যে তারা ১৪০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি তহবিল গঠন করবেন। এবারের এই সম্মেলনে এ ধরনের নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের এবং বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট কোনো গাইডলাইন প্রস্তুত বা যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা হলো, এবারের জি-২০ সম্মেলনের মাধ্যমে চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হলো। যার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক নানাবিধ সংকট থেকে উত্তরণের আশা করাই যেতে পারে।

লেখক: প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
    ডক্টর মালিকা কলেজ, ঢাকা




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com