ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

কাগজের টাকা ও ইলেকট্রনিক মানি
মেহেদী হাসান নাঈম
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ১০:৫৪ এএম আপডেট: ২৪.১১.২০২২ ১:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 69

টাকা, অর্থ কিংবা মুদ্রা যে নামেই ডাকেন এর প্রয়োজন আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অনস্বীকার্য। টাকা বললে শুরুতেই আমাদের মাথায় যে ধারণাটি আসে তা হলো কাগজের টাকা বা ধাতব মুদ্রা। আধুনিকায়নের যুগে প্রযুক্তিনির্ভরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বৃদ্ধি পেয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির রাজত্ব। 

গত কয়েক দশকে অর্থনীতিতেও দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে প্রযুক্তি। ফলে কাগজের টাকা রূপ নিয়েছে ইলেকট্রনিক মানিতে। আগে যেমন কেনাকাটায় ব্যবহার হতো কাগজের নোট কিংবা ধাতব মুদ্রা, এখন সেই কাজে ব্যবহার হচ্ছে পিন বা পাসওয়ার্ডের মতো বিষয়গুলো। নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে শুধু ব্যালেন্স দেখা যায়। জানার চেষ্টা করব কাগজের টাকা থেকে ইলেকট্রনিক মানিতে রূপান্তর হওয়ার গল্প ও সম্ভাবনার কথা।

মুদ্রার প্রচলন হওয়ার পূর্বে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য পশু শিকার ও প্রকৃতি থেকে বিভিন্ন দ্রব্য সংগ্রহ করত। কিন্তু তাতে সব প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হতো না। কেউ পশু শিকারে দক্ষ হলেও অস্ত্র বানাতে পারত না। আবার কেউ অস্ত্র বানাতে পারলেও শিকার করতে পারত না। ফলে শুরু হয় পরস্পর সহযোগিতা। যে ভালো শিকার করতে পারত তাকে অস্ত্র দেওয়া হতো, বিনিময়ে সে পশু দিত। এই বিনিময় প্রথাকে বার্টার সিস্টেম বলা হয়। 

একসময় বিনিময় মাধ্যম হিসেবে কালক্রমে প্রচলন হয় দুষ্প্রাপ্য শামুক, ঝিনুক ও বিভিন্ন ধরনের কড়ি। তারও অনেক পর আসে স্বর্ণ ও রুপার মুদ্রা। মানুষের কাছে যখন অনেক স্বর্ণ জমা হতো, নিরাপত্তার জন্য তারা ওই সময়ের স্বর্ণকার ও মহাজনদের কাছে জমা রাখত। প্রমাণ হিসেবে পেত কাগজের রসিদ। স্থানান্তর ও বহনজনিত মানুষ ওই রসিদ ব্যবহার শুরু করে। যার বর্ধিত রূপ হচ্ছে কাগজি মুদ্রা। মূলত সুইডেনের স্টকহোম ব্যাংক প্রথম কাগজি মুদ্রাকে স্বীকৃতি প্রদান করে।

কাগজের মুদ্রা সর্বপ্রথম তৈরি করা হয় ৭০০ থেকে ৮০০ সালে চীনে। তবে এই মুদ্রা বেশি দিন লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে বিরাজ করতে পারেনি। ১৪৫৫ সালের পরই বন্ধ হয়ে যায় এই টাকার ব্যবহার। ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চীন আবার তার ধাতব মুদ্রায় ফিরে যায় এবং পরবর্তী সময়ে আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মুদ্রা। হাজার বছরের বিবর্তনের ফলে যে কাগজের মুদ্রা আমরা ব্যবহার করছি তার রূপগত অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। আধুনিকায়নের এই যুগে সারা বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন হয় অনলাইন প্রক্রিয়ায়। যেখানে শুধু কয়েকটি অঙ্ক স্থানান্তরের মাধ্যমে লেনদেন সম্ভব। যেখানে কোনো কাগজি মুদ্রার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। 

ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন সম্পন্ন করা যায়। উন্নত বিশ্বে পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় বেশিরভাগ মানুষ অনলাইন লেনদেন করতে চায়। তার যথেষ্ট কারণও আছে। অপরদিকে ইউএসএ আইডি কর্তৃক ২০১৫ সালে প্রকাশিত অন্য এক গবেষণায় দেখা যায়, অনলাইনে লেনদেনের সংখ্যা ২০১৩ সালে ১০ থেকে ৭৭ মিলিয়নে পৌঁছায়। যেখানে ২ বছরে লেনদেন বৃদ্ধি পায় ৬৭ মিলিয়ন। এমন অবাক করা তথ্য থেকে এটাই পরিষ্কার বোঝা যায়, কাগজি মুদ্রার ব্যবহার আগামী কয়েক বছরের মধ্য নাটকীয়ভাবে হ্রাস পাবে। 

একদিকে যেমন গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অনলাইনে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও অনেকটা আগুনে ঘি ঢালছে। অধিক গ্রাহক ও মুনাফার আশায় তারা তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করছে। যা মানুষকে কাগজি মুদ্রার ব্যবহার থেকে মুখ ফিরিয়ে অনলাইনে লেনদেন করতে আহ্বান করছে। সবকিছু ছাপিয়ে আধুনিক এই মাধ্যমে হ্যাক বা সাইবার ঝুঁকি লুকিয়ে আছে। এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। হতে হবে আরও দক্ষ। প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বিনিময় মাধ্যমের যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে তা নিঃসন্দেহে গ্রাহকদের জন্য শুভকর। তবে দরকার সচেতনতা আর সরকারের কঠোর নজরদারি।

লেখক: শিক্ষার্থী
    সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com