ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২ ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ৮ ডিসেম্বর ২০২২
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

রাজবাড়ীর ইছাককে লিবিয়ায় আটকে রেখে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ২:২২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 125

ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাস দিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতনের পর আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফজলু ব্যাপারী। তিনি রাজবাড়ীর আলীপুর ইউনিয়নের আলাদিপুর ২ নম্বর কলোনীর গ্রামের বাসিন্দা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফজলুর খপ্পরে পড়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পাচ্ছে না কেউ। সম্প্রতি তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হলে ফজলুর বর্বরতার কাহিনি প্রকাশ্যে আসে।
 
জানা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের ইছাক মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে নানা প্রলোভনে বিদেশে নিয়ে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় ১৫ লাখ টাকা আদায় করে নিয়েছে দালাল চক্রের হোতা ফজলু। 

এ ঘটনায় ওই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হলে ফজলুর স্ত্রী কুলসুম ওরফে পোলো পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ওই নারীর জামিন না হলে ইছাককে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে দালালচক্র। এমন ঘটনায় আতংকের মধ্যে দিন পার করছে পরিবারটি।

নির্যাতনের শিকার ইছাক মিয়ার মা জোহরা বেগম বলেন, একই উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের আলাদিপুর ২ নম্বর কলোনীর গ্রামের ফজলু ব্যাপারী লিবিয়াতে ভালো বেতনে চাকরি দেওয়ার জন্য আমার ছেলে ইছাককে লোভ দেখায়। আমার ছেলে তার কথায়  লিবিয়াতে যাওয়ার জন্য রাজি হয়। ফজলু ব্যাপারীও লিবিয়াতে থাকে। চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ ফজলুর কথামতো তার স্ত্রী কুলসুম ও মেয়ে রিতা আমার বাড়িতে আসলে তাদের কাছে বিদেশ যাওয়া বাবদ ৪ লাখ টাকা তুলে দিই। 

তিনি বলেন, ২১ মার্চ তারা আমার ছেলেকে লিবিয়াতে পাঠিয়ে দেয়। লিবিয়া যাওয়ার এক মাস পরেই ফজলু তার সহযোগীদের সহায়তায় আমার ছেলে ইছাককে নির্যাতন করে জিম্মি করে। এরপর সে মোবাইলে ইমোতে কল করে ৩ লাখ টাকা পাঠাতে বলে। 

তিনি জানান, তিনি ফজলুর স্ত্রী ও মেয়ের কাছে গত ৯ জুন ৩ লাখ টাকা দেন। এর কিছু দিন পর ইছাকের শরীরে নির্যাতনের দাগ দেখিয়ে তারা আবারও ৪ লাখ টাকা দাবি করে। না হলে তারা ইছাককে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ফলে তিনি নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন উপায়ে টাকা সংগ্রহ করে ৪ লাখ টাকা দেন। 

জোহরা বেগম বলেন, এতো টাকা পাঠানোর পরেও তারা আমার ছেলেকে মুক্তি দেয়নি। গত ২০ সেপ্টেম্বর ফজলু ইমোতে আরও ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। টাকা পাঠাতে মিস হলে ইছাককেও মিস করবেন বলে হুমকি দেয়। ২১ সেপ্টেম্বর তার কথা মতো ইসলামী ব্যাংক সোনাইমুড়ি নোয়াখালী শাখায় রেজাউল হক চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির ব্যাংক একাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আরও টাকা পাঠান জোহরা বেগম।
 
জোহরা বেগম বলেন, এভাবে আমার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা আদায় করে দালালচক্র। এরপরেও দালাল চক্র আমার ছেলেকে মুক্তি দেয়নি। সে এখন কোথায় আছে, কীভাবে আছে তাও জানি না। ফলে নিরুপায় হয়ে ১৪ নভেম্বর রাজবাড়ীর মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইবুনালে ফজলু, কুলসুম ও রিতাকে আসামি করে মামলা করেন ইছাক মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম।
 
তিনি আরও জানান, ফজলু এভাবে বিভিন্নজনকে বিদেশে নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় করেছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না কেউ।
 
এদিকে স্বামীর ওপর নির্যাতনের খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ইছাকের স্ত্রী আমেনা বেগম। ছোট ছোট চারটি সন্তান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। অসুস্থতার জন্য প্রতিবেদকের সঙ্গে ঠিক মতো কথা বলতে না পারলেও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন আমেনা বেগম।

ইছাক মিয়ার ছোট ভাই ইউনুস মিয়া বলেন, আমার ভাবীর দায়েরকৃত মামলায় গত ১৬ নভেম্বর ফজলুর স্ত্রী কুলসুম গ্রেফতার হলে ফজলু ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন সময় আমাদের হুমকি দিচ্ছে। তার স্ত্রীকে যদি জামিন না করানো হয়, তাহলে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলবে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা আতংকের মধ্যে দিন পার করছি।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজবাড়ী থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি কুলসুম ওরফে পোলো (৩৫)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল আসামি বিদেশে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি সমস্যার কথা উল্লেখ করে আমাদের কাছে লিখিতভাবে, ফোনে অথবা ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ করেন, আমরা সার্বক্ষণিক তাদের পাশে থাকব। প্রথমে আমরা নিজেরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। যদি না পারি সেক্ষেত্রে আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কথা বলে যেভাবে সহযোগিতা করার দরকার, সেভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাটা করব।

/জেডও




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com