ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
এলসির অর্থও শোধ করতে পারছে না ইসলামী ব্যাংক
সবধরণের ঋণ প্রদান সংক্রান্ত নথি তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
সাইফুল্লাহ আমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২, ১২:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 1063

দেশের বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের পথপ্রদর্শক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। মোট ব্যাংকিংয়ের ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করা এ ব্যাংকটির অবস্থা ভালো নেই। ইসলামী ব্যাংকের মূল মালিকানায় থাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ। অথচ গ্রুপটির আমদানি করা তেলের এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) বা ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না ব্যাংকটি। এ গ্রুপের এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানির আমদানি করা তেলের মোট এক কোটি ৬১ লাখ ডলারের মূল্য পরিশোধ করতে পারছে না ব্যাংকটি।

সূত্র মতে, ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রাম অঞ্চলের খাতুনগঞ্জ শাখায় এলসি খোলে ওই এডিবল অয়েল কোম্পানি। মোট চারটি এলসির মাধ্যমে তেল আমদানি করে তারা। প্রথম এলসির মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮৬৭ ডলারের তেল আমদানি করে কোম্পানিটি, যার এলসি নম্বর ০৮৬৯২২০২০১৭৬। দ্বিতীয় এলসিটি খোলা হয় ৫২ লাখ দুই হাজার ৪৬৬ ডলারের, যার নম্বর ০৮৬৯২২০২০১৭৯। তৃতীয় এলসির নম্বর ০৮৬৯২২০২০১৮২। এ এলসির বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ পাঁচ হাজার ৬৫৬ ডলার। চতুর্থ এলসির অর্থের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার ১০৮ ডলার, যার নম্বর ০৮৬৯২২০২০১৮৪। এ চারটি এলসির বিপরীতে মোট অর্থের পরিমাণ এক কোটি ৬১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৬৮ কোটি ১৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৯২ টাকা (প্রতি ডলারের মূল্য ১০৪ টাকা হিসেবে)।

এর চারটি এলসির একটি থেকে আরেকটি খোলার সময়ের ব্যবধান খুব কম। এলসিগুলোর এ দায় পরিশোধ না করায় বিদেশের ব্যাংকগুলোর কাছে খেলাপি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কোম্পানির। এ ছাড়া দেশের সবচেয়ে ভালো ব্যাংকটি এলসির দায় পরিশোধ করতে পারছে না এমন খবরে বিদেশি ব্যাংকগুলোও আর দেশের ব্যাংকগুলোর এলসির দায় নিতে চাইবে না। ফলে পণ্য আমদানিতে সমস্যা তৈরি হবে দেশের জন্য। শুধু তাই নয়, দেরিতে এলসির দায় পরিশোধের ফলে খরচ বেড়ে যাবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী। এ গ্রুপটির মালিকানায় থাকা ইসলামী ব্যাংকও দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক। এ ব্যাংকের মোট আমানত এখন এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে বেশি আমদানি এবং রফতানি সংঘটিত হয় এ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতি মাসে প্রবাসী আয়ও পায় ইসলামী ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি। প্রায় প্রতি মাসেই ৩০ কোটি ডলারের উপরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে থাকে ব্যাংকটি। এত সমৃদ্ধ ব্যাংকটির মালিকানায় থাকা কোম্পানির এলসির দায় পরিশোধ করতে পারছে না, তা খুবই অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা খুবই শঙ্কার। এ ব্যাংকটি যদি ফল (পতন হয়) করে তবে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এটি মারাত্মক হুমকি বয়ে আনবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এ ব্যাংকটি নিয়ে যে আলোচনা এবং সমালোচনা হচ্ছে তা সত্যিই খুব আতঙ্কের।’

এস আলম সুপার এডিবল অয়েল কোম্পানির আমদানির দায় পরিশোধে কেন দেরি হচ্ছে জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনিরুল মওলা সময়ের আলোকে বলেন, ‘বড় ব্যাংক হিসেবে আমাদের সঙ্গেই সবাই আমদানি এবং রফতানির বাণিজ্য করতে চায়। এ অবস্থায় প্রচুর বেসরকারি বাণিজ্যের পাশাপাশি এখন সরকারি অনেক এলসিও আমরা খুলছি। এতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা সব এলসিই পরিশোধ করে দেব। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

এলসি পরিশোধ করতে না পারা প্রসঙ্গে এস আলম গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সুব্রত কুমার ভৌমিক সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমাদের সব এলসির দায় পরিশোধ হয়ে যাবে। কোনো সমস্যা নেই এতে। ইসলামী ব্যাংক বড় ব্যাংক, নিয়ম অনুযায়ী সব এলসিই পরিশোধ করবে। আমরা মালিক কোম্পানি বলে আমাদের অগ্রাধিকার দেবে বা আগে করে দেবে তেমন নয় বিষয়টা। আমাদের আগে আরও অনেক কোম্পানির এলসি খোলা হয়েছে। সেসব আগে দেবে। আমাদের সিরিয়াল এলে পরিশোধ করা হবে।’

সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমে বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রচার হয়। এর জেরে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সঠিক তথ্য জানাতে বলা হয় বাংলাদেশ ব্যাংককে। গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার গত মঙ্গলবার নির্ধারিত সূচির বাইরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও প্রধানমন্ত্রী এ রকম কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানায় ব্যাংকের একটি সূত্র। সেদিন সন্ধ্যায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে পাঠান গভর্নর।

এ ছাড়া এ ব্যাংকটিতে বিশেষ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে লক্ষ্যে গঠিত হয় কমিটিও। পাশাপাশি ৮টি গ্রুপকে দেওয়া ৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছাড়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায় ব্যাংক সূত্রে। অপর একটি সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংকের সব ধরনের ঋণ দেওয়া সংক্রান্ত নথি তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর সময়ের আলোকে বলেন, ‘এ ব্যাংকটির অবস্থা কি এতই খারাপ যে মাত্র দেড় কোটি ডলার এলসি পেমেন্ট দিতে পারছে না? এ ব্যাংকটি নেওয়াই হয়েছে অসৎ উদ্দেশ্যে। যে ব্যাংক এককভাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স কালেক্ট করে, সে ব্যাংক এ সামান্য কয়েকটি ডলার দিতে পারছে না তা দুঃখজনক। আর সে এলসি ব্যাংকটির মালিকানায় থাকা কোম্পানির।’

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় খাতুনগঞ্জ ব্রাঞ্চ ব্যবস্থাপক মো. এহসানুল ইসলামের সঙ্গে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তারও কোনো উত্তর দেননি। তাই তার মন্তব্য জানার সুযোগ হয়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র জিএম আবুল কালাম আজাদ সময়ের আলোকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কাল সকালে জানাতে পারব। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব বিষয়ে সতর্ক রয়েছে।’

আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। যেসব ব্যাংকের ডলার নেই, সামর্থ্য নেই সেসব ব্যাংক যেন এলসি খুলতে না পারে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।’

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com