ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় চট্টগ্রামবাসী
ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২, ১:৩৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 125

সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৮ মার্চ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১০ বছর পর একই মাঠে আবারও ভাষণ দেবেন ৪ ডিসেম্বর। আর এ দিনের অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রামবাসী। 

চট্টগ্রামবাসী এদিন স্বাগত জানাতে চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। যা অনুধাবন করে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং অঙ্গসংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা এক মাস আগে থেকে নিতে শুরু করেন ব্যাপক প্রস্তুতি। 

এ জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটাতে চায় দলটির চট্টগ্রামের নেতাকর্মীরা। ফলে সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামের আসার খবর জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, চট্টগ্রাম নগরকে সাজিয়ে তোলাসহ নানা প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। যা এখন শেষ পর্যায়ে। তবুও কী যেন শেষ হয়নি, আরও কিছু বাকি আছে অর্থাৎ শেষ হয়েও হলো না শেষ এমনটাই মনে করছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শুক্রবার বিকালে এসব কথা বলেন তিনি। 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জন্য যা করেছেন, তার তুলনায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। তিনি চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কর্ণফুলী বঙ্গবন্ধু টানেলের গর্বিত মালিক বানিয়েছেন। 

তিনি চট্টগ্রামে সড়কের যানজট কমাতে মোড়ে মোড়ে ফ্লাইওভার করেছেন। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণাধীন। চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে বে-টার্মিনাল প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। মিরসরাই ইকোনমেকি জোন, কর্ণফুলীর দক্ষিণ পারে টানেল ঘিরে চায়না ইকোনমিক জোন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।’ 

শুধু মহানগর নয়, জেলা-উপজেলায় এমন কোনো সড়ক-মহাসড়ক নেই প্রশস্তকরণ কাজ করা হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে আমরা সর্বাধিক প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে দলের ১০ হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী উপস্থিত হবেন। থাকবেন চট্টগ্রামের সব মন্ত্রী-উপমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি। 

 নৌকার আদলে মঞ্চ : আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘পলোগ্রাউন্ড মাঠে দিন-রাত সমানতালে কাজ চলছে। এরমধ্যে মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বরাবরের মতো নৌকার আদলে সুদৃশ্য মঞ্চ তৈরির কাজ করছে সাহাবুদ্দিন ডেকোরেটার্স। যেখানে অন্তত ২০০ অতিথি বসার সুযোগ হবে। 

সাহাবউদ্দিন ডেকোরেটার্সের স্বত্বাধিকারী হাজী মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, মঞ্চটির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ১৬০ ফুট। মঞ্চের মাঝখানের ৪০-৮০ ফুটের মধ্যে ২০০ অতিথি বসবেন। মঞ্চের উচ্চতা হবে ৭ ফুট। এ ছাড়া মঞ্চের সামনে মুক্তিযোদ্ধা, ভিআইপি ও মহিলাদের বসার জন্য পৃথক প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে।

লাগানো হয়েছে ৩০০ মাইক : জনসভার স্থান থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রচারে পলোগ্রাউন্ড ও আশপাশের এলাকায় ৩০০ মাইক লাগানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা থেকে আসছে বিখ্যাত মাইক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কলরেডির ১৫০ মাইক। মঞ্চের মাঝখানে ৮০ ফুটের এলইডি লাগানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেখার জন্য ভেতরে-বাইরে সাত স্থানে বড় এলইডি লাগানো হবে।

জনসমুদ্রে পরিণত হবে জনসভা : জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন দীর্ঘ এক মাস ধরে। জনসভার মাঠের ভেতরের দশ গুণ (প্রায় ২০ লাখ) বাইরে লোক সমাগম করার কথা জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এমপি বলেন, ‘ইতিমধ্যে পলোগ্রাউন্ডের জনসভার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আমাদের প্রত্যেক এমপি ও নেতা নিজ নিজ এলাকা থেকে লোকজন আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে প্রচুর লোকজন আসবে। প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকেই চট্টগ্রামে জনসভায় আসার ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন। গত ১৪ বছরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে প্রচুর উন্নয়ন করেছেন। এই উন্নয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় আসবেন।

থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা : চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছেন, বিমান বন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তায় থাকবে এসএসএফ, ডিজিএফআই, সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স, এনএসআই, র‌্যাব ও পুলিশের এলিট ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বাহিনী। 

এ ছাড়া জনসভাস্থলে গড়ে তোলা হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা। এরমধ্যে মঞ্চের সামনে প্রথম ধাপে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী অবস্থান নেবে। সেখানে উপস্থিত জনতার কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। দ্বিতীয় ধপে থাকছে নারী দর্শকরা। সেখানে পুলিশের স্পেশাল ফোর্স নিরাপত্তায় থাকবেন। তৃতীয় ধাপে পুলিশের আরেকটি স্তর থাকবে। চতুর্থ ধাপে এলিট ফোর্স র‌্যাবের সদস্যরা অবস্থান  নেবে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে থাকবে ৭৫০০ পুলিশ সদস্য। 

লাগানো হয়েছে ১০০ সিসি ক্যামেরা :  জনসভার নিরাপত্তায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা নিয়ে কোনো হুমকি নেই। তবুও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। 

মঞ্চে বসতে লাগবে করোনা নেগেটিভ সনদ :  চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের জনসভার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে বসবেন কারা সেটি চূড়ান্ত করছেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু সেই নিরাপত্তার পরও মঞ্চে থাকা নেতাদের দিতে হবে আরেকটি পরীক্ষা। সেটি হলো করোনা নেগেটিভ সনদ থাকলেই উঠতে পারবেন প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে। 

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতা মঞ্চে বসতে পারবেন তা চূড়ান্ত করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। তবে মঞ্চে যারা বসবেন তাদের শুক্রবারের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ সনদ মঞ্চের নিরাপত্তার দাায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফএর কর্মকর্তাদের কাছে দেওয়া কথা। 

জানা গেছে, এসএসএফের সবুজ সংকেত পাওয়া সিকিউরিটি পাসপ্রাপ্তদের অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করাবে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদের থেকে যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসবে কেবল তারাই মঞ্চে উঠার অনুমতি পাবেন।

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com