ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
ঈমানের পরিচর্যা ও বিশ্বাসের শুদ্ধতা
মুহাম্মদ আমজাদ হুসাইন
প্রকাশ: সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ২:৪৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 89

মুসলিম হিসেবে সবার কর্তব্য ঈমান সম্পর্কে সতর্ক থাকা। ঈমান ও বিশ্বাস কাচের মতো খুবই স্পর্শকাতর। সামান্য আঘাতেই চুরচুর ভেঙে পড়ে। টেরও পাওয়া যায় না। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন। প্রতিটি মুসলমানকেই ইসলামের কালেমা পড়তে হয়, যা কালেমায়ে তাইয়েবা নামে পরিচিত-‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।’ সাহাবায়ে কেরাম ছিলেন এমন ঈমানের অধিকারী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে আমাদেরকে সাহাবায়ে কেরামের মতো ঈমান আনার আদেশ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন-‘আর যখন তাদেরকে বলা হয় অন্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আনয়ন করো, তখন তারা বলে আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদের মতো! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা কিন্তু তারা তা বোঝে না।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৩)

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সাহাবি যুগের মুনাফিকদের লক্ষ করে বলেছেন, ‘তোমরা সাহাবিদের মতো ঈমান আনয়ন করো। সাবাহায়ে কেরামের ঈমান যেমন নির্ভেজাল ও ত্রুটিমুক্ত, তোমরাও নিজেদের ঈমানকে নেফাক ও কপটতামুক্ত করো। একনিষ্ঠভাবে নির্ভেজাল ঈমান গ্রহণ করো। সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে প্রাণোৎসর্গিত হয়ে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য, ইসলামের জন্য যেকোনো কষ্ট-ক্লেশ অম্লান বদনে সয়েছেন, নবীজির নির্দেশ বিনা বাক্য ব্যয়ে পালন করেছেন তোমরাও সেভাবে ঈমান গ্রহণ করো। নবীজির আদেশ-নিষেধ শিরোধার্য করে নাও।’ আয়াতে যদিও শুধু মুনাফিকদের লক্ষ করে বলা হয়েছে কিন্তু সাহাবায়ে কেরামের মতো ঈমান আনার এই আদেশ আরও অনেক ব্যাপক। কেয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষের জন্যই এই নির্দেশ বলবৎ রয়েছে। সুতরাং আমাদের ঈমান ও আমাদের আমল সাহাবায়ে কেরামের ঈমান ও আমলের কষ্টিপাথরে যাচাই করা অবশ্য কর্তব্য। 

ঈমানের সব শাখায় সব বিবেচনায় উত্তীর্ণ ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম। ইসলামের প্রথম যুগে দুর্বল নওমুসলিমদের ওপর যে অকথ্য জুলুম-নির্যাতন হয়েছে তা বলাই বাহুল্য। আফ্রিকার ইথিওপিয়া (হাবশা) বংশোদ্ভূত হজরত বেলাল রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন প্রথম যুগে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবিদের অন্যতম। তিনি ছিলেন নিতান্ত অসহায় একজন দাস। তার মালিক ছিল উমাইয়া ইবনে খালফ। ঈমান আনার অপরাধে দ্বিপ্রহরে মরুভূমির উত্তপ্ত বালুরাশির ওপর খালি গায়ে শুইয়ে দিত। দুষ্ট বালকদের হাতে তুলে দিতÑতারা তাঁর গলায় রশি বেঁধে টেনেহিঁচড়ে অলিগলিতে ঘুরাত। এমন অমানুষিক জুলুম করেও ঈমানের সোনালি পথ থেকে তাঁকে সরাতে পারেনি। নির্মম জুলুম ও অত্যাচারের প্রতিউত্তরে তাঁর মুখে একটি মাত্র শব্দ উচ্চারিত হয়েছে-আহাদ! আহাদ! আল্লাহ এক! আল্লাহ এক! 

মদিনায় হিজরতের পরও দেখা গেল ঘরে ঘরে মদের সয়লাব। বড় বড় মটকাভর্তি মদ। হঠাৎই একদিন আয়াত নাজিল হলো-‘মদ হারাম’। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের ডেকে আল্লাহর আদেশ শুনিয়ে দিলেন। সাহাবায়ে কেরাম বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করলেন না। কোনো প্রশ্ন করলেন না। কারণ জানতে চাইলেন না। আদেশ পাওয়ামাত্র মদভর্তি মটকা ঘর থেকে বাইরে ভেঙে ফেলে দিলেন। এরপর কোনো সাহাবি আর মদে চুমুক দেননি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন মসজিদে নববিতে বসে সাহাবাদের বললেন, ‘হে আমার সাহাবারা! মাতা-পিতা সন্তান ও দুনিয়ার সব মানুষ থেকে তোমাদের অন্তরে যদি আমার ভালোবাসা বেশি না থাকে, তাহলে তোমরা ঈমানদার হতে পারবে না।’ 

সাহাবাদের মধ্যে কপটতা ছিল না। তাঁদের অন্তরে যা থাকত মুখে তা প্রকাশ করতেন। মিথ্যা বলে কাউকে খুশি করার চিন্তা তাঁদের মধ্যে ছিল না। নবীজির কথা শুনে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি দুনিয়ার সব মানুষ থেকে আপনাকে বেশি ভালোবাসি কিন্তু আমার সন্তানদের থেকে বেশি ভালোবাসি না। 

আমি আমার সন্তানদের আপনার থেকে বেশি ভালোবাসি।’ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাহলে তুমি এখনও পূর্ণ ঈমানদার হতে পারোনি।’ হজরত ওমর চলে গেলেন। পরদিন এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি এখন সন্তান থেকে আপনাকে বেশি ভালোবাসি।’ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘এখন তুমি পূর্ণ ঈমানদার। এমনই ছিল সাহাবায়ে কেরামের ঈমান। অত্যাচার তাঁদেরকে ঈমানের পথ থেকে বিচ্যুত করেনি। আল্লাহর বিধানের সামনে টুঁ শব্দটি করেনি। নবীজির প্রতি ঈমান ও ভালোবাসা ছিল নিখাদ। সাহাবায়ে কেরাম নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামান্য অঙ্গুলি নির্দেশে জীবন-যৌবন সব উৎসর্গ করেছেন, সামাজিক কুপ্রথা পদদলিত করে মুহূর্তেই ইসলামের বিধান আঁকড়ে ধরেছেন। বিপরীতে আমরা ইসলামের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি কতটা নিবেদিত! আমাদের মন-মননে হৃদয়ের গভীরে কতটা লালন করি নবীর ভালোবাসা! 

উপর্যুক্ত হাদিসের আলোকে আমাদের ঈমানকে কিছুটা নিরীক্ষণ করি। নবীর ভালোবাসা কি আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছি? আমি কি নবীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি? ভালোবাসা থাকে হৃদয়ে। ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ হয় কথায়, কাজে। আমাদের কাজে কি নবীর ভালোবাসা প্রকাশ হয়? মানুষ যাকে ভালোবাসে তার গায়ে সামান্য আঁচড় লাগতে দেয় না। ভালোবাসার মানুষকে কেউ গালি দিয়েছে শোনামাত্র তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। 

সত্যমিথ্যা যাচাইয়ের আগেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে। কিন্তু নবীর চরিত্রে যখন কালিমা লেপন করা হয়, বাক্যবানে যখন নবীজিকে জর্জরিত করা হয়, সেসব শুনে কি আমি অগ্নিমূর্তি হই? আমার মন কি ভেঙে চুরমার হয়? যদি না হয় তাহলে আমি কিসের ঈমানদার? 

এভাবে কখনো চিন্তা করেছি? চিন্তা করেছি কি আমার ঈমানের অবস্থান কোথায়? শুধু মুখে নিজেকে ঈমানদার দাবি করলেই কি ঈমানদার হয়ে গেলাম? আমার কার্যকলাপ, চিন্তাচেতনা কতটা ইসলামসম্মত আর কতটা ইসলামবিরোধী ভেবে দেখতে হবে না? শুধু মুখে কালেমা পড়া আর ঈমানের দাবি করাই তো যথেষ্ট নয়, ঈমানের পরিচর্যা করতে হবে।

আমি যে দর্শন ও চিন্তাচেতনা লালন করি ঈমানের কষ্টিপাথরে তা যাচাই করতে হবে। সেগুলো আমার ঈমানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না দেখতে হবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সাহাবায়ে কেরামের মতো ঈমানদার হওয়ার এবং সঞ্চিত ঈমানকে হেফাজত করার ও আরও বৃদ্ধি করার তওফিক দান করুন।

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif

আরও সংবাদ   বিষয়:  ঈমানের পরিচর্যা  




https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com