ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ : ফিলিস্তিন ১, ইসরাইল ০
ফেরাস আবু হেলাল
প্রকাশ: সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:১০ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 193

ফিলিস্তিনিদের কাছে ৪৮ একটি বেদনাদায়ক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা। এই সংখ্যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের জাতীয় বিপর্যয়ের স্মৃতি। এটি ১৯৪৮ সালের নাকবা বা মহাবিপর্যয়ের বছরকে নির্দেশ করে, যখন তাদের পূর্বপুরুষদের হত্যা করা হয়েছিল। ইসরাইল রাষ্ট্র তৈরি করতে তাদের নিজেদের মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে। আরবরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন জানাতে এই সংখ্যাটি ব্যবহার করে থাকে। 

বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনিদের প্রতি যে বিপুল সমর্থন দেখা গেছে তা উপেক্ষা করছে পশ্চিমা মিডিয়া। কাতারে শ্রমিকদের অধিকার, সমকামীদের অধিকার নিয়েই সোচ্চার থাকতে দেখা গেছে তাদের। এমনকি বিশ্বকাপে খেলতে আসা ইউরোপের সাতটি দেশের অধিনায়ক সমকামীদের সমর্থনে ‘ওয়ানলাভ আর্মব্যান্ড’ পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর দিন ফিফা সতর্ক করে জানিয়েছিল, এ ধরনের কিছু পরে মাঠে নামলে শাস্তি হিসেবে হলুদ কার্ড দেওয়া হবে

কাতারে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়া-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে তিউনিসিয়ার সমর্থকরা ‘ফি প্যালেস্টাইন’ লেখা বিশাল একটি পতাকা তুলে ধরেন। মরক্কোর সমর্থকরাও বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাদের দলের খেলার সময় একই কাজ করেছিলেন। 

চলতি বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইসরাইল খেলার যোগ্যতা অর্জন না করলেও দেশটি থেকে অনেক সাংবাদিক কাতারে এসেছেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর ইসরাইল সম্বন্ধে আরবদের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের চিন্তাভাবনা জানার আগ্রহ ছিল তাদের। আর বিশ্বকাপের এই সময়টিকেই তার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু কাতারে এসে তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে। ইসরাইলি সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন যে আরবভক্তরা তাদের স্বাগত জানাননি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে আরবরা ইসরাইলি টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করছেন এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করছেন। 

আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের পর মরক্কোও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নামে পরিচিত ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ চুক্তিটিতে স্বাক্ষর করেছিল। যদিও আমিরাত এবং বাহরাইন এই চুক্তিকে জনপ্রিয় হিসেবে হাজির করার অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের দুই বছর পরে কাতার বিশ্বকাপে এসে দেখা গেল আরবরা তথাকথিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছেন। 

২০১১ সালের আরব বসন্ত এবং পরবর্তী প্রতিবিপ্লবের সময় থেকেই সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে কর্তৃত্ববাদী শাসকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এ সময় উপসাগরীয় দেশগুলোতে ভিন্ন মতাবলম্বীদের নীরব করা হয়েছে এবং কারারুদ্ধ করা হয়েছে। নিজ দেশের ভিন্ন মতাবলম্বীদের অভূতপূর্ব দমন-পীড়নের পটভূমিতে এই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করেছেন কতিপয় আরব রাষ্ট্রের একনায়ক শাসক। জনগণের সঙ্গে এই চুক্তির কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি তাদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি তারা। 

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, সাতটি আরবের ৮০ শতাংশ লোকই আব্রাহাম অ্যাকর্ডসকে খুব নেতিবাচক হিসেবে দেখেন। কাতার বিশ্বকাপ আরব জনগণের মনের ভাব প্রকাশের একটি স্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমে মরক্কো থেকে পূর্বে সৌদি আরব পর্যন্ত বেশিরভাগ আরব ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে নির্দ্বিধায় নিজেদের মত প্রকাশ করছেন। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভক্তদের জন্য বানানো ফ্যান জোন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে তরুণ প্রজন্মের আরবরা ইসরাইলকে সাহসিকতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছেন, যা তাদের নিজ দেশে হয়তো কখনোই করা সম্ভব হতো না। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে একজন ইসরাইলি সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, আরব ফুটবলভক্তরা তার ইসরাইলি জাতীয়তার কারণে তার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। প্রকৃতপক্ষে দোহার ফ্যান জোনগুলোর অনেক ভিডিওতে দেখা গেছে, আরবরা যখন বুঝতে পারেন যে ইসরাইলি সাংবাদিকরা তাদের ইন্টারভিউ নিচ্ছেন তখনই তারা সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইসরাইল বলে যেকোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই তাও বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এমনকি টিভি ক্যামেরার সামনে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরে ফিলিস্তিন, ফিলিস্তিন বলে স্লোগান দিয়েছেন। 

ইসরাইলের সঙ্গে মরক্কোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রায় দুই বছর পর গত সপ্তাহে বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মরক্কোর ভক্তরা যে বিশাল ফিলিস্তিনি পতাকা প্রদর্শন করেছেন তা বিশেষভাবে একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করা মরক্কোর ভক্তদের একটি আবেগঘন গানের ভিডিও নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ধরনের ভিডিওগুলোতে আরব জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। তাদের শাসকদের আরোপ করা চুক্তি যে তারা প্রত্যাখ্যান করছেন তাও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি রাজনীতিবিদরা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নামে এতদিন ধরে যে কৃত্রিম মুখোশ নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিল, এবারের বিশ্বকাপে তা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয়েছে। 

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট জয়লাভ করে। ফলে আবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি। কট্টোর ইহুদিবাদী এই রাজনীতিবিদ ফিলিস্তিনি সংঘাতের সমাধান না করেই আরব দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছেন। আর এ ক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে তিনি পেয়েছিলেন অকুণ্ঠ সমর্থন। ট্রাম্প মূলত বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে এবং চাপ সৃষ্টি করে কতিপয় আরব শাসককে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বাধ্য করেছিলেন। 

সম্প্রতি নেতানিয়াহু ইসরাইলি পত্রিকা হারেৎজ-এ লিখেছেন, ‘গত ২৫ বছর ধরে আমাদের বারবার বলা হয়েছিল যে অন্য আরব দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি তখনই আসবে, যখন আমরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে ফেলব। কিন্তু এখনও বলছি শান্তি রামাল্লাহ দিয়ে আসবে না বরং এর চারপাশ থেকেই আসবে।’ এর মাধ্যমে তিনি বলতে চাচ্ছেন ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি চুক্তির চেয়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে শান্তি চুক্তি করা ইসরাইলের জন্য অনেক লাভজনক। প্রসঙ্গত, রামাল্লাহ ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি শহর। এটি বর্তমানে ফিলিস্তিন জাতীয় কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল জর্ডান থেকে রামাল্লাহ দখল করে নিয়েছিল। 

এদিকে কিছু আমেরিকান ভাষ্যকার এবং রাজনীতিবিদ জোর দিয়ে বলেছেন যে ফিলিস্তিন ইস্যু আরবদের জন্য আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তারা পরামর্শ দিয়েছিলেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধান না করেই আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক উপভোগ করতে পারে। কিন্তু কাতার বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোর ফুটেজ এই দাবিকে অস্বীকার করে। আরব শাসকদের কাছে হয়তো ফিলিস্তিন ইস্যুর কোনো গুরুত্ব নেই, তবে নিশ্চিতভাবে বলা যায় আরব জনগণের হৃদয়ে অবস্থান করছে ফিলিস্তিন। ইসরাইলি রাজনীতিবিদ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত আরব স্বৈরশাসকদের মধ্যে যতই ঘনিষ্ঠতা তৈরি হোক না কেন, আরব জনগণ কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি অনুভব করেন। ফলে নির্দ্বিধায় ইসরাইলি রাষ্ট্র এবং জনগণের প্রতি বৈরিতা প্রকাশ করেছেন তারা। অন্তত এবারের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে, দোহার অলিতে-গলিতে ফিলিস্তিনিদের প্রতি নজিরবিহীন ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন আরবরা। 

আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের ২০১৯-২০ সালে করা একটি জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ আরব জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের সমস্যা আরবদেরই সমস্যা। এটা কেবল ফিলিস্তিনিদের সমস্যা বলে উপেক্ষা করা যাবে না। একই জরিপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চেয়ে ইসরাইলকেই আরব দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়েছে। 

যদিও বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনিদের প্রতি যে বিপুল সমর্থন দেখা গেছে তা উপেক্ষা করছে পশ্চিমা মিডিয়া। কাতারে শ্রমিকদের অধিকার, সমকামীদের অধিকার নিয়েই সোচ্চার থাকতে দেখা গেছে তাদের। এমনকি বিশ্বকাপে খেলতে আসা ইউরোপের সাতটি দেশের অধিনায়ক সমকামীদের সমর্থনে ‘ওয়ানলাভ আর্মব্যান্ড’ পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর দিন ফিফা সতর্ক করে জানিয়েছিল, এ ধরনের কিছু পরে মাঠে নামলে শাস্তি হিসেবে হলুদ কার্ড দেওয়া হবে। এরপর নিজেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন, জার্মানির ম্যানুয়েল নয়্যার, ওয়েলসের গ্যারেথ বেলসহ আরও অনেকেই। তবে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেসার, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে খেলা দেখার সময় ওয়ানলাভ আর্মব্যান্ড পরে সমকামীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তিনি এই ছবি টুইটারেও পোস্ট করেছেন। অপরদিকে জার্মান ফুটবলাররা ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে খেলার আগে মুখে হাত দিয়ে গ্রুপ ছবি তুলেছিলেন। কিন্তু ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্টরা জার্মানির এ ধরনের ভণ্ডামির নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ সমকামীদের প্রতি জার্মানরা দরদ দেখাতে উৎসাহী, অথচ নিজ দেশে ফিলিস্তিনি অ্যাক্টিভিস্টদের দমন করতে একটুও কুণ্ঠিত নন তারা। 

অবশ্য আরব ফুটবলভক্ত এবং খেলোয়াড়দের ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। খেলার মাঠে রাজনৈতিক বার্তা প্রেরণের জন্য জরিমানা থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গান গাওয়া, গাজার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে স্লোগান দেওয়ার কাজ নিয়মিতই করে আসছেন তারা। আরব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একজন সৌদি ইউটিউবার কাতারে বিভিন্ন দেশের পতাকা বিক্রি করছেন এবং গ্রাহকদের উপহার হিসেবে একটি অতিরিক্ত ফিলিস্তিনি পতাকা দিচ্ছেন। এই ধরনের খবর খুব কমই পশ্চিমা মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকে। 

যদিও আরব সমর্থকদের প্রায়ই বলা হয় খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাবেন না কিন্তু ইউরোপীয় দলগুলো এবং ইউরোপীয় দর্শকদের নিজেদের স্বার্থে সবসময় এই কাজটিই করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ববাসীর সামনে ইউরোপ, আমেরিকার মুখোশ খুলে দিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পর থেকে ইউরোপের মাটিতে যতগুলো খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে সবখানেই খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শকরা ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। 

এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর কাতার বিশ্বকাপে ফুটবল সমর্থকদের কাছ থেকে ফিলিস্তিনের জন্য পাওয়া এই ব্যাপক সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন জিতে গেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া একটি বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, এই টুর্নামেন্টে কে বিজয়ী হয়েছে তা ইতোমধ্যে সবাই জেনে গেছেন। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে ফিলিস্তিনের সমর্থনে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়াতে এবং স্লোগান দিতে দেখা গেছে। এটি আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণে ইসরাইলের প্রচেষ্টার প্রতি একটি আঘাত। 

তিনি বলেন, ‘আরবদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে স্বপ্ন ইসরাইল দেখছে, কাতার বিশ্বকাপে তা প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা খেয়েছে। কোনো কিছুই ইসরাইলি দখলদারিত্বকে স্বাভাবিক করতে পারবে না। কোনো কিছুই ফিলিস্তিনকে মানুষের হৃদয় ও মন থেকে উপড়ে ফেলতে পারবে না।’

লেখক: আরাবি টোয়েন্টিওয়ান নিউজ ওয়েবসাইটের প্রধান সম্পাদক। লন্ডনভিত্তিক অনলাইন নিউজ ওয়েবসাইট মিডল ইস্ট আইতে প্রকাশিত তার এ লেখাটি সময়ের আলোর জন্য অনুবাদ করেছেন ফারহানা করিম চৌধুরী 

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com