ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের রফতানি আয়, সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত থাকুক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ১১:১৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 170

বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাসের মধ্যেও বাংলাদেশের রফতানি আয় আশা জাগাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণে বাংলাদেশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন দেশে। বিশেষ করে খাদ্য ও কৃষিজাত শিল্প পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। তার প্রভাব পড়ছে রফতানি আয়ে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ায় এর বাজার বিস্তৃতির উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। 

অর্থনীতিতে তেমন সুখবর ছিল না গত কয়েক মাস ধরে। প্রবাসী আয় ও রফতানি আয়েও ছিল নেতিবাচক ধারা। বেশি শঙ্কা ছিল রিজার্ভ কমে আসা নিয়ে। রিজার্ভ এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছে। এই সংকটময় অবস্থায় আশা জাগাচ্ছে রফতানি আয়। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এই একটিমাত্র খাত এখন বড় ভূমিকা রাখছে। 

এর পাশাপাশি প্রবাসীয় আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহও বাড়ছে। এই দুই খাত ক্ষয়িষ্ণু রিজার্ভে প্রাণ ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী গত নভেম্বর মাসে দেশের ইতিহাসে রফতানি আয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এক মাসে পাঁচ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রফতানি আয় এর আগে দেশ কখনো অর্জন করতে পারেনি। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সামগ্রিক রফতানি আয়ে মোট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আর একক মাস হিসেবে শুধু নভেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এই সময়ে মোট রফতানি আয়ের ৮৬ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। 

সামগ্রিক রফতানির তথ্যে দেখা যায়, কৃষিপণ্য খাতে এ পাঁচ মাসে রফতানির পরিমাণ মাত্র ৪২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ শতাংশ কম। চামড়া ও চামড়াজাত খাতে আয় এসেছে ৫৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। পাট ও পাটজাতপণ্যের রফতানি আয় ৪০ কোটি ৬৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ শতাংশ কম।

রোববার সময়ের আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত প্রায় চার মাস ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যাহত হওয়ার কথা বলে আসছিলেন রফতানিকারকরা। আবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পোশাক রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ায় ক্রয়াদেশও কমে আসছিল বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছিল। ব্যবসায়ীদের এসব পূর্বাভাসের সঙ্গে মিল রেখে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধিতে থাকা রফতানি হোঁচট খায় গত সেপ্টেম্বরে এসে; আগের মাসের মতো অক্টোবরেও আগের বছরের একই মাসের চেয়ে রফতানি আয় কমে যায়। তবে নভেম্বরে এসে রফতানি আয়ে গতি আসায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন রফতানিকারকরা।

ডলার সংকটে অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি খরচ কমানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জ্বালানিতে ভর্তুকি কমাতে লোডশেডিংয়ের মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। তবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ যে হারবে না সে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে রফতানি আয়ের এ ইতিবাচকতা। 

রফতানি আয় বৃদ্ধির এ ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি যেসব খাতে রফতানি বেড়েছে, সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। এর পাশাপাশি সম্ভাবনাময় খাতগুলোর দিকেও সার্বিক পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। রফতানি আয়ের ইতিবাচক গতিধারা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি থাকুক এমনটিই আমাদের কাম্য। 

/জেডও


https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com