ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
ব্যাংক নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই
ড. মিল্টন বিশ্বাস
ড. মিল্টন বিশ্বাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ৯:৪৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 198

২০২০ থেকে ২০২১ সাল অবধি করোনা মহামারির থাবায় অর্থনীতি কিছুটা পতনোন্মুখ হলেও সেই অবস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও উন্নত বিশ্বের বিচিত্র ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টা নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে তেলের বাজারের উচ্চমূল্যের সূত্রে বাংলাদেশে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা ভালোই আছি। অপেক্ষাকৃত ভালো থাকাটা সহ্য করতে পারছে না একটি গোষ্ঠী কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। যারা দেশের ভেতর এবং বিদেশে বসে নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ব্যাংকিং খাত নিয়ে ভয়ংকরভাবে শুরু হয়েছে স্বাধীনতাবিরোধীদের অপতৎপরতা।

এ জন্য গত ৩ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ব্যাংক থেকে গ্রাহকেরা ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকে টাকা নেই, এমন কথা ছড়ানো হয়েছে। তাই সাধারণ গ্রাহক আতঙ্কে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কাউকে বাধা দেয়নি। ব্যাংক সবাইকে টাকা দিতে পেরেছে। এখন সেই গ্রাহকেরা আবার ব্যাংকে টাকা রাখতে শুরু করছেন। একটি মহল সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’ 

প্রকৃতপক্ষে ‘ব্যাংকে টাকা নেই’- এই অপপ্রচার শুরু হয় নভেম্বরে। গ্রাহকরা সে সময় আতঙ্কে ব্যাংক থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে রক্ষিত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এরপরও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের আমানত তুলে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছরে কোনো ব্যাংক বন্ধের রেকর্ড নেই।’ ব্যাংকিং খাতকে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে যে গুজবের প্রসার ঘটেছে তাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো দৈন্যদশায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কারণ প্রচারে বলা হয়েছিল, রিজার্ভ শেষ, বাংলাদেশ দেউলিয়ার পথে, ব্যাংকে টাকা নেই, গ্রাহকরা জমাকৃত টাকা ফেরত পাচ্ছে না, কয়েকটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রভৃতি। কেবল রাজনৈতিক কারণে ও প্রভাবশালীদের চাপে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সংকট চলছে- এ রকম আপত্তিকর কথাও প্রচার করা হয়েছে। অথচ এসব অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত ব্যাংকের ওপর আস্থার সংকট কখনো ছিল না, এখনো নেই। ফারমার্স ব্যাংকটি ভিন্ন নামে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সচল আছে। তবে সরকারকে আর্থিক খাত নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে।

যেমন ‘খেলাপি ঋণ’ থেকে মুক্তি পেতে আর্থিক খাতের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা। দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই সমস্যাটি অব্যাহত রয়েছে এবং সমস্যাটি সমাধানের জন্য বহুবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। নব্বই দশকে এবং ২০০১ সালে আর্থিক সংস্কার প্রবর্তনের মাধ্যমে সমস্যাটি কিছুটা হ্রাস করা হয়েছিল। খেলাপি ঋণের নিম্নমুখী প্রবণতা ২০১১ সাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। যা হোক, পরবর্তী বছরগুলোতে, নজরদারির ত্রুটি এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলার অভাবের কারণে, খেলাপি ঋণের সঙ্গে জড়িত বড় আকারের কেলেঙ্কারিগুলো চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু দেশে আবারও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাংকিং খাতের অবস্থার জন্য ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, পর্ষদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্বল মনিটরিংকে দায়ী করেছেন। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির তথ্য বের করা অর্থমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের দায়িত্ব। আসলে যারা ঋণ এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংকের ক্ষতি করছে তারা আসলে সরকারের শত্রু।

অন্যদিকে এই ডিসেম্বরেই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা সুদের হারের সীমা তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে তাগিদ দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে এটি বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বলেছেন, যদি হঠাৎ করে সুদের হার বেড়ে যায়, বিনিয়োগকারীরা সমস্যায় পড়বেন। কারণ উৎপাদন খাতের বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিযোগিতামূলক বৈশি^ক বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি করতে হবে। এ জন্য তারা ভালো সময়ের অপেক্ষায় আছেন। অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখনও সুদের হার বেশি, যা সুদের হার বাড়ানোর আগে বিবেচনায় নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গ্যাস সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা লোকসানে পড়ছেন। এ অবস্থায় সুদের হার বৃদ্ধি বিনিয়োগবান্ধব হবে না। উচ্চ সুদের হার অনেক সেক্টরে অনিশ্চয়তা তৈরি করবে, ইতিমধ্যে করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভুগছে ব্যবসায় সেক্টর। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যেই ভোক্তা ঋণের সুদের হার শিথিল করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রসঙ্গে রউফ বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা নির্ধারণ করে দেবে। 

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। প্রয়োজনে এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে হবে, নতুবা আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিয়ে সংখ্যা কমিয়ে আনা যেতে পারে। আমরা যদি দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে চাই, তবে আমাদের আর্থিক খাতে মনোযোগ দিতে হবে। আশঙ্কা ছিল ব্যাংকিং খাত নিজেই একটি বিপর্যয়কর অবস্থানে চলে যেতে পারে। এ জন্য এই মুহূর্তে সরকারকে বড় ধরনের সংস্কার আনতে হবে। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাস্তবে রূপ দিতে ব্যর্থ হব। এ ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের বড় ভূমিকা রয়েছে। স্টক মার্কেট, ব্যাংকিং সেক্টরের পাশাপাশি বন্ড ও ইন্স্যুরেন্স মার্কেটের ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। যদি ব্যাংকিং খাতকে বাছাই করা কয়েকজন অর্থনৈতিক অপপ্রচারকারীর শোষণের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়, তাহলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনো আশা নেই। তবে আশার পতাকা উড্ডীন হচ্ছে আকাশে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে ব্যাংকে আমানত বা সঞ্চয়ে ঝুঁকির ভয় দূর হয়েছে। ব্যাংকের ওপর মানুষের আস্থা পুনরায় ফিরে এসেছে। তিনি বলেছেন, ‘পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ আছে, ব্যাংকে টাকার ঘাটতি নেই।’ এ পরিপ্রেক্ষিতে অনেকটা ভালো অবস্থায় থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে যেসব রাজনীতিবিদ অপপ্রচারে উৎসাহ দিয়েছেন তারা আসলে দেশের মঙ্গল কামনা করেন না। উপরন্তু অর্থনীতি বিষয়ে তাদের পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই। দেশপ্রেমহীন সেসব ব্যক্তি বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানাতে পারেননি। অন্যদিকে ব্যাংকিং সেক্টরকেও বিপদে ফেলতে পারেনি। বরং উন্নয়নের নানা সূচকে দেশ এগিয়ে চলেছে।
লেখক: চেয়ারম্যান, বাংলা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com