ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
শাহজালাল বিমানবন্দর: কমছে না লাগেজ ভোগান্তি
রফিক রাফি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ১০:০৬ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 122

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ বহু পুরোনো। এ ভোগান্তি লাঘবে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। এখনও লাগেজ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে, আর লাগেজ ভাঙা এবং খোয়া যাওয়ার অভিযোগ তো আছেই।

সম্প্রতি ‘লাগেজ ভোগান্তি’ নিরসনে একটি কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। কমিটি গত ৩০ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সরেজমিন পরিদর্শন করে। গত মাসে কমিটি তাদের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, টোট্রাক্টরের সংখ্যা কম থাকায় এবং র‌্যাম্প এরিয়ায় জায়গা কম থাকায় লাগেজ ডেলিভারিতে অনাকাক্সিক্ষত বিলম্ব হয়। এ ছাড়া দুটি ফ্লাইটে আসা একাধিক লাগেজের কার্টুন ছেড়া, চেইন খোলা এবং একাধিক ট্রলির চাকা ও হাতল ভাঙা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করে কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি লাগেজ স্টোর আছে। যেসব লাগেজ যাত্রীদের সঙ্গে ফ্লাইটে না এসে দেরিতে আসে সেগুলো রাখার জন্য প্রতিটি এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে দুটি লাগেজ স্টোরে র‌্যাকে জায়গা বরাদ্দ করা আছে। লাগেজ স্টোর-২ পরিদর্শনকালে দেখা যায় যে, এখানে অনেক আনক্লেইমড ব্যাগেজ রাখা হয়েছে। ব্যাগেজ স্টোর-২ এ শেলফের নিচে অনেক মালামাল এলোমেলোভাবে পড়ে আছে, এয়ারলাইন্স বা সিরিয়াল অনুযায়ী লাগেজগুলো গুছিয়ে রাখা হয়নি। আরও দেখা যায়, হোম ডেলিভারির সঠিক হিসাব ব্যাগেজ স্টোর-২ এ রক্ষিত রেজিস্টারে লেখা হচ্ছে না। কিছু এয়ারলাইন্স দেরিতে আসা লাগেজ কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের পর ব্যাগেজ স্টোর-২-এ না এনে সরাসরি ভেন্ডরকে হোম ডেলিভারির জন্য দিয়ে দিচ্ছে। এপিবিএন ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির সদস্যরা আনক্লেইমড ব্যাগেজ স্টোর-২-এ এনে বিমানের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ডের কর্মীদের বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। ফলে আনক্লেইমডের সঠিক হিসাব থাকছে না।

পাশাপাশি লাগেজ ভোগান্তি দূর করার জন্য কমিটি ছয় দফা সুপারিশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে- ক. আনক্লেইমড ব্যাগেজের রেকর্ড সংরক্ষণ এবং অতিদ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সব এয়ারলাইন্স, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্তৃপক্ষ, এভিএসইকিউ, এপিবিএন, কাস্টমস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন। খ. অফলোড করা সব লাগেজ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যেতে পারে। গ. বিদেশে সিকিউরিটি চেকিংয়ের সময় লাগেজ খোলা হলে যাতে আবশ্যিকভাবে সিকিউরিটি সিল/ম্যাসেজ দেওয়া হয় সে জন্য সব এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সব অরিজিনে বেবিচকের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া যেতে পারে। ঘ. কার্গো হোল্ডে ওঠা এবং সেখান থেকে নামার সময় নিয়মিতভাবে ট্রাফিক হেলপারদের দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরে আগমনী ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ কাটা বা চুরির অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে না। ঙ. যাত্রীদের নন-স্ট্যান্ডার্ড লাগেজ বহন নিরুৎসাহিত করতে হবে। এ জন্য আগমনী ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইন্সকে বার্তা দেওয়া যেতে পারে। চ. লাগেজ পরিবহনে টোট্রাক্টরের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী লাগেজ যথাসময়ে যথাযথভাবে সরবরাহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে টোট্রাক্টরের বর্তমান সংখ্যা, আরও কতগুলো টোট্রাক্টর প্রয়োজন, নতুন কেনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এবং টোট্রাক্টরের চালক পর্যাপ্ত কি না ও আরও চালক নিয়োগ প্রয়োজন কি না তা জানতে চেয়ে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। বাকি সুপারিশের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও উড়োজাহাজ থেকে বোর্ডিং ব্রিজে আসতে বাস ও যন্ত্রপাতি স্বল্পতার কারণে বিলম্বের ঘটনা ঘটে প্রতিনিয়ত। বোর্ডিং ব্রিজ না পেয়ে বে-এরিয়ায় পার্কিং করে অপেক্ষায় থাকতে হয় উড়োজাহাজগুলোকে। বেল্টে লাগেজ পেতে এখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপেক্ষা করতে হয়। লাগেজ খোয়া যাওয়ার ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোকবলের স্বল্পতা, সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের অভাব এবং যন্ত্রপাতি ও যানবাহনের অপ্রতুলতা রয়েছে। পাশাপাশি বিমানের পর্যাপ্ত জনবল, যন্ত্রপাতির অভাব ও তদারকির অভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা উন্নত হচ্ছে না। অথচ এ সেবা দেওয়ার জন্য বিমানকে একটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইটপ্রতি দুই হাজার ২০০ থেকে পাঁচ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে। বিমানবন্দরে কর্মরতদের মধ্যে পেশাদারিত্বের অভাবও রয়েছে।

শাহজালাল সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিসে প্রায় এক হাজার ২০০ মানুষ কাজ করে। আর হাইলোডার, ট্রান্সপোর্টার, ডলি, ট্রলি, টোয়িং ট্রাক্টর ও হুইল চেয়ারসহ ১৮ ধরনের ২০০-র বেশি যন্ত্রপাতি আছে। বর্তমানে শাহজালালে থাকা আটটি লাগেজ বেল্ট দিয়ে বর্তমান চাপ সামলানো কঠিন। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি বেল্ট নষ্ট হয়ে মেরামতের জন্য বন্ধ থাকে। এতে ভোগান্তি আরও বাড়ে। শুধু টোট্রাক্টর নয়, সব যন্ত্রপাতির সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে লোকবল, যন্ত্রপাতি ও যানবাহন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

শাহজালাল ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশি-বিদেশি ৩৫টি বিমান সংস্থা বাংলাদেশে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে এবং ৪৭টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে। প্রতিদিন ১২০টির অধিক ফ্লাইট ওঠানামা করে। ২০ হাজারের বেশি যাত্রী আসা-যাওয়া করে। এখন একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি ফ্লাইট বিদেশ থেকে আসে। একসঙ্গে এত যাত্রী সামলানোর ক্ষমতা তাদের নেই। থার্ড টার্মিনাল চালু হয়ে গেলে কোনো ভোগান্তিই আর থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালালের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘শাহজালালে আগের চেয়ে দ্রুততম সময়ে লাগেজ সরবরাহ করা হচ্ছে। লাগেজসহ গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং সেবা আরও উন্নত করার জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com