ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

২০২২ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হয়েছে: আসক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২, ৯:২৩ পিএম  (ভিজিট : ১৯৯)
২০২২ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। বেসরকারি সংস্থাটির মতে, নাগরিকের মত প্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হবার ও প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে এ বছর।  তাছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের নামে গোপন ব্যবস্থা বন্ধ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক নূর খান। বছরের শেষ দিন শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর লালমাটিয়ায় আসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০২২ এর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সংস্থটি। 

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংস্থাটির পরিচালক নিনা গোস্বামী ও সমন্বয়ক ফজলুল কবির। এসময় দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি বিভীষিকাময় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নূর খান। তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের নামে গোপন যে ব্যবস্থা রয়েছে, যাকে কারাগার বা ডিটেনশন সেন্টার বলি কিংবা ইন্টারোগেশনের (জিজ্ঞাসাবাদের) জন্য যেসব জায়গা রয়েছে, সেগুলো বন্ধ করা উচিত। আমাদের আইন ও সংবিধান এগুলো সমর্থন করে না। যারা এগুলো পরিচালনা করেন, তাদের চিহ্নিত করা উচিত। নূর খান আরও বলেন, ‘দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি অনেকটাই মাকাল ফলের মতো। যেমন ধরুন, লেপে পেঁচিয়ে মানুষকে পেটানো হলে তার ভেতর রক্তক্ষরণ হবে, কিন্তু বাইরে থেকে কিছু বোঝা যাবে না।’

নূর খান বলেন, ‘আমরা মনে করি, বিচারবহির্ভূত সব তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। গুম, খুন ও অপহরণের ঘটনা বন্ধে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করতে হবে। কমিশন চিহ্নিত করবে, এ ধরনের তৎপরতার সঙ্গে কারা জড়িত। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা বিচারবহির্ভূত প্রতিটি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। দেখেছি, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত একটা পর্যায়ে গিয়ে থেমে যায়। তাই প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্ত হওয়া দরকার।’

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে সারা দেশে ৪৭৯টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭০ জন। আহত হন ৬ হাজার ৯১৪ জন। বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর বন্দুকযুদ্ধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপহরণ, গুম ও নিখোঁজ হয়েছেন ৫ জন। কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ৬৫ জন। এর মধ্যে কয়েদি ২৮ জন ও হাজতি ৩৭ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ১৬ জনসহ ২৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। গণপিটুনিতে ৩৬ জন নিহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছর নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৬৯৪টি‌। খুন হয়েছেন ১২৬ নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৩৬ জন। অ্যাসিড–সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন ১২ নারী। শিশুর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৪৫টি। এ ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৭৪ শিশু। এছাড়াও বছরজুড়ে ২২৬ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। যাদের মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন সংবাদকর্মী। দুর্বৃত্তদের গুলিতে কুমিল্লায় নিহত হয়েছেন ১ জন সাংবাদিক। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২টি।

আসকের প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ শেষে পরবর্তী সুপারিশে বলা হয়েছে:

শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। এ অধিকার যথাযথভাবে চর্চা করার পরিবেশ তৈরি এবং জনদুর্ভোগ এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারে সংশোধন আনতে হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা যে কোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা যেমন- বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমের অভিযোগ, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এখতিয়ার বহির্ভূত আচরণ ইত্যাদির অভিযোগ উঠলে তা দ্রুততার সাথে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইনগুলোতে পরিবর্তন আনতে হবে। নারীর অধিকার সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং প্রতিকার বিধানে ভুক্তভোগী ও ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে। ২০০৭ সালে আইন কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ক্রাইম ভিকটিম কম্পেনসেশন অ্যাক্ট’ আইনে পরিণত করতে হবে। ‘সাক্ষ্য আইন (সংশোধন) বিল, ২০২২’ দ্রুততার সাথে গেজেট আকারে প্রকাশ এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের ১৮ দফা নির্দেশনা সুষ্পষ্টভাবে মেনে চলা এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ দ্রুততার সাথে সংশোধন করতে হবে। কমিশনের প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগের জন্য একটি উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। কাক্সিক্ষত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দেশে সুস্থ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাগরিকদের অধিকার ভোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫ | ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com
close