ই-পেপার বিজ্ঞাপনের তালিকা শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ১৪ মাঘ ১৪২৯
ই-পেপার শনিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
https://www.shomoyeralo.com/ad/Amin Mohammad City (Online AD).jpg

https://www.shomoyeralo.com/ad/780-90.jpg
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ২৪০ ডিজিট, গ্রাহক ভোগান্তি দ্রুত দূর করুন
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ৬:১৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ  Count : 66

সারা দেশে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লাখ লাখ গ্রাহককে। আগে রিচার্জ করতে গ্রাহককে মিটারে ২০টি ডিজিট প্রবেশ করাতে হতো। এখন করতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০টি ডিজিট। এত ডিজিট একসঙ্গে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই ভুল করছেন। বারবার ভুল করার ফলে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহককে। অভিযোগকেন্দ্রে জানিয়েও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। 

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) তাদের প্রিপেইড গ্রাহকদের ভোগান্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার হচ্ছে অফলাইন এবং অনলাইন। মূলত অফলাইন গ্রাহককে এ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গত ১২ জানুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম গড়ে ইউনিটপ্রতি ৩৬ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের ট্যারিফ চেঞ্জ হওয়ার পর থেকে এ টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- এ তিন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও এ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন গ্রাহককে ১০০টি ডিজিট প্রবেশ করিয়ে রিচার্জ করতে হয়েছে। এখন একজন গ্রাহককে একবারই ২০০-এর অধিক ডিজিট প্রবেশ করিয়ে ব্যালেন্স রিচার্জ করতে হচ্ছে, যাদের সমস্যা হচ্ছে বা মিটার লক হয়ে যাচ্ছে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কোনো সমাধান আপাতত নেই।

দেশে গত বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত বিদ্যুতের মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৩১ লাখ। এর মধ্যে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার আছে ৫২ লাখ ২ হাজার ৩২২টি। সারা দেশে পল্লী বিদ্যুতের ৮০টি সমিতির আওতায় রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি গ্রাহক। প্রিপেইড মিটারধারী ১৩ লাখ ১০ হাজার ৫৬৪, এর মধ্যে ১০ লাখের অধিক হচ্ছে অফলাইন মিটারধারী।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রিপেইড মিটারবিষয়ক নির্বাহী প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম বলেন, যখন বিদ্যুতের ট্যারিফ চেঞ্জ হয় তখন টোকেনের এই সমস্যাটা হয়। সার্ভার থেকে মিটারে তথ্য জমা দিতে গেলে অনেক টোকেন আসে। এই প্রবণতা আবাসিক গ্রাহক পর্যায়েই বেশি। কারণ এই খাতে ধাপের সংখ্যা বেশি। 

এসব ধাপের জন্য ১০-১২টি টোকেন আসে। এটা একটা সফটওয়্যারগত ইস্যু। আমরা ইতিমধ্যেই সফটওয়্যারগত এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি, যা প্ল্যানিং কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই পল্লী বিদ্যুৎসহ অন্য যেসব সংস্থা, যেমন- ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো, বিপিডিবি ইত্যাদির প্রিপেইড মিটার রিচার্জ সিস্টেমের ভোগান্তির নিরসন হবে।

২০২০ সালে তিনটি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পর একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ফলে গ্রাহককে পড়তে হয়েছিল নানা ভোগান্তিতে। এখন তার পুনরাবৃত্তির ফলে লাখ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। 

বিদ্যুৎ আমাদের জীবনযাপনের জন্য অত্যাবশকীয় এক শক্তি। বিদ্যুৎ না থাকলে জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ডিজিটের খড়গ চাপিয়ে দিয়ে গ্রাহককে ভোগান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়া অবিবেচনা প্রসূত কাজ। সফটওয়্যারের সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্টরা সেটা দ্রুত সমাধান করুন। গ্রাহকরা সেবা পেতে অর্থ ব্যয় করেন, ভোগান্তির জন্য নয়। আধুনিক সময়ে এটা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বুঝতে হবে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারটাও চাহিদা মতো আধুনিক করা উচিত। 

জনভোগান্তি শুরু না হলে অনেক ক্ষেত্রেই কর্তৃপক্ষের ঘুমন্ত চৈতন্য কিছুতেই জেগে ওঠে না। এটাই আমজনতার বড় দুর্ভাগ্য। আমরা প্রত্যাশা করছি, সংশ্লিষ্টরা প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ সমস্যার সমাধান করবেন এবং দ্রুত গ্রাহকদের ভোগান্তি দূরীকরণে আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন।

https://www.shomoyeralo.com/ad/Local-Portal_728-X-90 (3).gif



https://www.shomoyeralo.com/ad/Google-News.jpg

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত


ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: কমলেশ রায়, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড
এর পক্ষে প্রকাশক গাজী আহমেদ উল্লাহ
নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।

ফোন : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : +৮৮-০২-৯৬৩২৩৭৫। ই-মেইল : shomoyeralo@gmail.com